durga taken to pandal by boat

কলকাতা: মহালয়ার দিনে বৃষ্টি ধুয়ে দিলেও, ভালো আবহাওয়াতেই শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। সেই আকাশে ছড়ি ঘোরাচ্ছে সূর্য, বাড়ছে আর্দ্রতা। ঘেমে নেয়ে একঘেয়ে হচ্ছে মানুষ। কিন্তু কারও কোনো অভিযোগ নেই, বরং অধিকাংশ মানুষই এই আবহাওয়া উপভোগ করছেন। বোধন পর্যন্ত আবহাওয়া এ রকমই থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

মহালয়ার দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি দেওয়া নিম্নচাপটি এখন পাড়ি দিয়েছে উত্তর ভারতে। তার প্রভাবে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে অসময়ের ভারী বৃষ্টি হলেও, দক্ষিণবঙ্গে ফের গরম পড়তে শুরু করেছে। শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে যা দু’ ডিগ্রি বেশি। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও চড়া। সেখানে ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরাঘুরি করছে তাপমাত্রা।

এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যেই মৌসুমী বায়ু খুব দুর্বল হয়ে পড়াই বৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানান বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তাঁর কথায়, “আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে গরম এবং ঘর্মাক্ত আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিক্ষিপ্ত ভাবে হাল্কা বৃষ্টি হতে পারে শুধু।” তবে উপকূল এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝড়ের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই সময়ে উত্তরবঙ্গেও খুব বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা করছেন না রবীন্দ্রবাবু।

রবীন্দ্রবাবুর পূর্বাভাস অনুযায়ী ষষ্ঠী পর্যন্ত এ রকম আবহাওয়া থাকবে। সুতরাং বোধনের আগে পর্যন্ত বর্ষাসুরের হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে সপ্তমী থেকেই বৃষ্টি বাড়তে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। ওই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই ঘূর্ণাবর্তটি ওড়িশা দিয়ে স্থলভাগে ঢোকার সম্ভাবনা থাকলেও, এর প্রভাবেই বৃষ্টি হবে কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে।

সপ্তমীর বিকেল থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন রবীন্দ্রবাবু। অষ্টমী থেকে পুরোদমে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তবে ঘূর্ণাবর্তটির প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন