wrivu

শ্রয়ণ সেন

ঢাকে কাঠি পড়ল বলে। পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। বাজারে এখন ঠাসা ভিড়। কিন্তু যার জন্য এই এত আয়োজন, সেই পুজো এবার কেমন যাবে? বৃষ্টি ভাসাবে, না কি শুকনোই থাকবে? প্রশ্নটা বেশির ভাগ মানুষের মনেই ঘুরঘুর করছে। বিশেষ করে এবার বর্ষা আগস্ট আর সেপ্টেম্বরে যা খেল দেখিয়েছে তাতে অনেকেরই ধারণা পুজোয় বৃষ্টি হবেই। পুজোয় বৃষ্টির ব্যাপারে মানুষের মধ্যে দুটো মত আছে। একটা মত হল, নতুন জামাকাপড় পরে কাদা প্যাচপ্যাচে রাস্তায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। আবার অন্য মত হল দুপুরের দিকে এক পশলা বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না। তাহলে রাতে ঠাকুর দেখার সময় গরম লাগবে না। 

এখানে বলে রাখা ভালো দেশ থেকে বর্ষা-বিদায়ের পর্ব শুরু হয়ে গেছে। পশ্চিম রাজস্থানের কিছু অংশ থেকে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। বাকি উত্তর ভারতেও ইতিমধ্যেই বিদায় নেওয়ার সমস্ত ইঙ্গিত সে দেখাতে শুরু করেছে। সেখানে পরিষ্কার হতে শুরু করেছে আবহাওয়া। উত্তুরে হাওয়ার হাত ধরে রাতের দিকে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা, পড়ছে হিম। কিন্তু এতে পশ্চিমবঙ্গের কী লাভ? পুজোয় কি বৃষ্টি হবে, না শুকনো থাকবে আবহাওয়া? একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার দিন ৮ অক্টোবর। সেই নির্ঘণ্ট মেনে চললে সপ্তমীতেই বর্ষা বিদায় নেওয়ার কথা কলকাতা থেকে। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, বর্ষা বিদায় নিতে নিতে অক্টোবরের তৃতীয় এমন কি চতুর্থ সপ্তাহও করে ফেলছে। আর যদি সত্যি সত্যিই ৮ অক্টোবর নাগাদ বর্ষা বিদায় নেয় তাহলেও আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকবে বলা যাবে না। কারণ বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর দিন দশ-পনেরো বাতাসে ভালো পরিমাণে জলীয় বাষ্প মজুত থাকে। এই জলীয় বাস্পের ফলে দুপুরের দিকে বজ্রগর্ভের মেঘের সৃষ্টি হয়ে এক পশলা প্রবল বৃষ্টি হয়। তবে এই বৃষ্টির চরিত্র একটু অন্যরকম। খুবই স্থানীয় এই বৃষ্টি। কলকাতার এক দিকে বৃষ্টি হলে অন্যদিক হয়তো শুকনো থাকবে। কিন্তু যেখানে বৃষ্টি হবে সেখানে এতটাই প্রবল হবে যে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে যেতে পারে।

আশ্বিনের ঝড় বলে একটা জিনিস আছে আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা। এর চরিত্র অনেকটাই কালবৈশাখীর মতো। যে দিন তাপমাত্রা উর্দ্ধমুখী হবে, সে দিনই বিকেল অথবা সন্ধের দিয়ে ধেয়ে আসতে পারে এই ঝড়। তবে এই ঝড় কোনও বিপদ ডেকে আনে না, বরং ঝড়ের পরে আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে যায়।

অক্টোবর মাস, মানে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের মাস। ২০১৩ আর ২০১৪-এর কথা মনে আছে? প্রথম বছর পিলিন আর দ্বিতীয় বছর হুডহুড। প্রথমবার পিলিনের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল, পরের বার হুডহুডের হানায় ভেঙে পড়েছিল বিশাখাপত্তনম। এই ঘূর্ণিঝড় দুটির পরোক্ষ প্রভাব কিন্তু কলকাতার ওপরও পড়েছিল। পিলিনের প্রভাবে তো ২০১৩-এর অষ্টমী আর নবমী ধুয়ে গিয়েছিল পুরো। প্রায় মাটি হয়ে গিয়েছিল পুজোর আনন্দ। তবে একটা আশার কথা, অক্টোবরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ মূলত দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে থাকে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে নয়। তাই ঘূর্ণিঝড় তছনছ করে দেবে কলকাতাকে, এমন দুশ্চিন্তা করার কোনও দরকার নেই।

কিন্তু ঘূর্ণিঝড় না হলেও, ছোটখাটো নিম্নচাপ যে কোনও সময়ই তৈরি হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ঘেঁষে। এর ফলে বৃষ্টি হবে, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও থেকে যায়। কিন্তু নিম্নচাপ যে সৃষ্টি হবেই তা এখনই বলা যাবে না। মহালয়ার পর সেটা হয়তো পরিষ্কার করে বলা যাবে।

অতএব, বৃষ্টিহীন পুজো আশা করবেন না, আবার বৃষ্টি পুজোকে ভাসিয়ে দেবে এমন দুশ্চিন্তাও করবেন না। পুজোর ক’দিন যদি টুকটাক বৃষ্টি হয়ও তাতে মন্দ কী!  

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here