পদ্মের অভাবে নাকি রামচন্দ্রের অকালবোধনের পুজোও একসময় অসমাপ্ত হতে বসেছিল, বাধ্য হয়েই  নিজের নীল কমলাক্ষী দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে মহাষ্টমীর সন্ধিপুজোয় আর কিছু থাক বা না থাক ১০৮টি পদ্ম চাই-ই চাই। আর মহাপুজোর মহালগ্নে সারা রাজ্যে আনুমানিক ১৬ লক্ষ পদ্ম লাগে আর তার দুই তৃতীয়াংশ পদ্মই জোগান দেয় পূর্ব মেদিনীপুর। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, কেশবপুর, হাকোলা থেকে যাওয়া পদ্মফুলে অভিষিক্তা হন মা দুর্গা। সেই কারণেই পদ্মফুল চাষিদের এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। ঝিলে ঝিলে পদ্মকুঁড়ি তুলতে ব্যস্ত তাঁরা। তারপরেই সেগুলো হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে। পুজোর ঠিক আগেই আগেই কোলাঘাট হয়ে সেই পদ্ম চলে যাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়।

lotus-1

কোলাঘাট পেরোলে রেললাইনের দু’ধারের ঝিলে পদ্মের চাষ হতে দেখা যায়। আশ্বিনের পুজোর জন্য চৈত্র-বৈশাখ মাস থেকেই পদ্মের বীজ পোঁতা শুরু হয়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকেই তাতে ফুল ফুটতে শুরু করে। এক বিঘার একটি ঝিলে একদিন অন্তর পদ্ম পাওয়া যায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি। এই সময় পদ্মের দাম প্রতি শ’য়ে ৪০ টাকা বা ৫০ টাকা হলেও পুজোর সময় তা হয়ে যায় শ’প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র চাষিদের কাছে পদ্ম সংরক্ষণ করার কোনও ব্যবস্থা নেই বলে প্রতিদিন মহাজনকে পদ্মগুলি বিক্রি করে দেন তাঁরা।

lotus-3

গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া, বেশ কিছু জায়গায় চাষের ঝিলে নোনা জল ঢুকে এ-বছর পদ্মের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ফলে লাভের মুখ দেখা দুরস্ত। তবে মহাজনেরা কিন্তু এবারেও পুজোর সময়ে অনেক চড়া দামেই পদ্ম বিক্রি করবেন।

কলকাতাতে দুর্গাপুজোর বেশিরভাগ পদ্মই যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১০-১২টি গ্রামের কয়েকশ বিঘা ঝিল থেকে। তবে ইদানীং দূষণ আর অতি বৃষ্টির ফলে পদ্মের ফলন কিন্তু কমেছে। তাই চাষিরা এখন ঘোর চিন্তায়, আর কতদিন তাঁরা পদ্মের জোগান দিতে পারবেন?  

lotus-2

অন্যদিকে, দিন দিন বাড়ছে পুজোর সংখ্যা তাই বাড়ছে পদ্মের চাহিদাও। তাই বিভিন্ন ভাবে হওয়া ঝিলের দূষণ অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে একটা সময় আসবে, যখন কেবল মাত্র কৃত্রিম কাপড়ের পদ্মফুল অথবা মামুলি স্টিকার হিসেবেই হয়তো এই ফুল আমাদের ব্যবহার করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here