terracotta durga and the artist
নিজের সৃষ্টির সঙ্গে শিল্পী বিশ্বনাথ কুম্ভকার। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: বোধনের আগেই বিজয়ার সুর পাঁচমুড়ার কুমোরপাড়ায়। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে তৈরি করা মা উমাকে বিদায় দিতে চোখে জল শিল্পীদের।

বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের পাঁচমুড়া গ্রাম। মৃৎশিল্পীদের গ্রাম হিসাবেই পৃথিবী বিখ্যাত। বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটার ঘোড়াই পাঁচমুড়াকে চিনিয়েছে বিশ্বের কাছে। এ বার সেই ‘টেরাকোটা’কেই অবলম্বন করেই তৈরি হল মা দুর্গার পরিবার। তৈরি করলেন পাঁচমুড়ার ভূমিপুত্র তথা বিশিষ্ট শিল্পী বিশ্বনাথ কুম্ভকার। সহযোগী ভাইপো ভূতনাথ কুম্ভকার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রতিমার সাজসজ্জাতেও বাঁকুড়ার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। শিল্প আর শিল্পীর অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটেছে মাতৃপ্রতিমায়।

আরও পড়ুন বাবুবাগানে ‘বাঙলার মাটিতে সুরের মুর্ছনা’

বিশ্বনাথ কুম্ভকারের হাতে তৈরি টেরাকোটার দুর্গাপ্রতিমা শিল্পরসিক মানুষের মন জয় করতে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতার বাবুবাগানের পুজো উদ্যোক্তাদের অনুরোধে দীর্ঘ কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি করেছেন সাড়ে আট ফুটের দুর্গাপ্রতিমা। বাবুবাগানের এ বারের পুজোর থিম ‘বাংলার মাটিতে সুরের মূর্ছনা’। সেই থিম ভাবনার সঙ্গে সঙ্গ মিলিয়েই টেরাকোটার প্রতিমা তৈরি করেছেন পেশায় শিক্ষক, নেশায় টেরাকোটা শিল্পী বিশ্বনাথ কুম্ভকার। বিশ্বনাথ কুম্ভকারের দুর্গাপ্রতিমা যেমন কলকাতা পাড়ি দিচ্ছে তেমনি এখানকার বেশ কয়েক জন শিল্পীও ডাক পেয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মণ্ডপসজ্জার উপকরণ সরবরাহে। সব মিলিয়ে ‘টেরাকোটার গ্রাম’ পাঁচমুড়ায় এক দিকে যখন বাজছে বিদায়ব্যথার সুর অন্য দিকে তেমনই বইছে আনন্দের জোয়ার।

শিক্ষক-শিল্পী বিশ্বনাথ কুম্ভকার বলেন, “এর আগেও টেরাকোটার মাতৃমূর্তি তৈরি করেছি। এ বারের কাজটা আরও কঠিন ছিল। এত বড়ো মাপের মূর্তি প্রথম বার তৈরি করলাম। মাটির গুণগত মান ও পোড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দিতে হয়েছে।” মূর্তি তৈরির কাজে ওঁর ভাইপো ভূতনাথ কুম্ভকার ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাবুবাগানের মণ্ডপে শোভা পাচ্ছে বাঁকুড়ার পাঁচমুড়ার টেরাকোটার দুর্গা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন