crowd at kolkata durgapuja
শ্রয়ণ সেন

-“আরে বুঝতে পারছিস না, বৃষ্টি হলে সব জায়গায় কাদা প্যাচপ্যাচ করবে, কাদা লেগে শাড়িটা নোংরা হয়ে যাবে।”

-“ছাড় তোর শাড়ি নোংরা হওয়া। বৃষ্টি না হলে পারা যাচ্ছে না। এত গরমে কাহিল হয়ে পড়ব।”

উত্তর কলকাতার একটি পুজোমণ্ডপে ঢুকতে গিয়ে এমনই কথোপকথন শুনতে পেলাম দুই তরুণীর মধ্যে। এক জন চাইছে বৃষ্টি যেন না হয়, অন্য জনের দাবি গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বৃষ্টি না হলে হবে না।

তবে এটা বিক্ষিপ্ত কোনো ঘটনা নয়, উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতা মিলিয়ে যে ক’টা প্যান্ডেলে ঘুরেছি, বেশির ভাগ জায়গায়ই এই কথোপকথন কানে এল। ষষ্ঠীর সকাল থেকেই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েছে মানুষ। আর কার্যত সবাই গরমে নাজেহাল হয়েছে। বিকেলের পর একটু আধটু মেঘের আনাগোনায় তাপমাত্রা কিছুটা কমায় স্বস্তি ফেরে মানুষের মধ্যে। বিকেল ঘনিয়ে যত সন্ধ্যা হয়েছে চতুর্থী এবং পঞ্চমীর সন্ধ্যার মতোই ভিড় বেড়েছে রাস্তায়। কিন্তু আবহাওয়ার ব্যাপারে মানুষ দু’ ভাগ। একদল কোনো মতেই বৃষ্টি চায় না, অন্য দল বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ করে বসে।

এখানে বলে রাখা যাক, মঙ্গলবার ছিল শহর কলকাতার কাছে গত তিন বছরে উষ্ণতম সেপ্টেম্বরের দিন। এ দিন তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৩৬.৮ ডিগ্রি, স্বাভাবিকের থেকে যা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সাধারণত আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের পাঁচ ডিগ্রি বেশি হলে তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। কিন্তু কলকাতার তাপমাত্রা যে হেতু চল্লিশ ডিগ্রির মাত্রা ছোঁয়নি তাই তাপপ্রবাহ এড়িয়ে গিয়েছে শহর।

crowd at a pandalতাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে আর্দ্রতা। সেই সঙ্গে ট্র্যাফিক জ্যামে ঘেমেনেয়ে একশা হয়েছে সাধারণ মানুষ। স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে দু’মিনিট দাঁড়িয়ে হাওয়া খেয়ে নেওয়া, এই ছবি কিন্ত সব মণ্ডপেই চোখে পড়ল। এমনই একজন গাঙ্গুলিবাগানের সুপর্ণা সরকার। পাটুলির মণ্ডপে পাখার সামনে দাঁড়িয়ে হাওয়া খেয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। কাছের কয়েকটা ঠাকুর দেখার উদ্দেশ্যে বিকেল নাগাদ বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। হাঁটতে হাঁটতে নাজেহাল সুপর্ণাদেবীর প্রার্থনা, একটু যেন সদয় হন বরুণদেব। অল্পস্বল্প বৃষ্টিতে ঠাকুর দেখা যায়, কিন্তু এই গরমে নয়।

যাঁরা বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ করে রয়েছেন, তাঁদের জন্য সুখবর। সপ্তমী থেকে কিছুটা বদলে যাবে কলকাতার আবহাওয়া। অষ্টমী থেকে বৃষ্টির দাপট বাড়বে সমগ্র রাজ্যে। এর কারণ পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্তের অবস্থান। আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বাংলাদেশ উপকূলের কাছে বলে আসবে বলে মনে করছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তবে এর সরাসরি কোনো প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের ওপরে পড়বে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

রবীন্দ্রবাবুর মতে, “নিম্নচাপটি বাংলাদেশ উপকূল হয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে আবার পশ্চিম দিকে ঘুরে এ রাজ্যের উত্তরাংশের দিকে আসবে। এর প্রভাবে সমগ্র রাজ্যেই বৃষ্টির দাপট বাড়বে অষ্টমী থেকে। কলকাতায় মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনাই বেশি। তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” নিম্নচাপটি উত্তরবঙ্গে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু। নবমী থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা করছেন তিনি।

তবে কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে সুখবর, আপাতত পুজো ভাসিয়ে দেওয়ার কোনো ভ্রূকুটি নেই নিম্নচাপের থেকে। মাঝারি বৃষ্টির, ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়ায় তাপমাত্রা অনেকখানি নামিয়ে দেবে সে। এর ফলে প্যান্ডেল হপিং-এ কোনো বিঘ্ন তো আসবেই না, বরং আরও উদ্যমে ঠাকুর দেখা যাবে।

দক্ষিণবঙ্গের কাছে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ নিয়ে আসছে এই নিম্নচাপ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন