পেশা যখন অ্যানিমেশন

0
577
স্মিতা দাস

দারুণ জাদুর জগত তৈরি করতে এখন মন্ত্র হল অ্যানিমেশন মাল্টিমিডিয়া। বাহুবলী, ওম শান্তি ওম – এমন বহু ছবির নাম এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলা যাবে যেগুলোতে এই মন্ত্র ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে প্রেক্ষাপট। তবে এটা যে পেশার বাজারে নতুন আমদানি হয়েছে তা নয়। বহু বছর ধরেই এটা ছিল। কিন্তু এই সময়ের মতো এত জনপ্রিয়তা হয়তো ছিল না। তাই চাহিদা আর ব্যবহার তুলনায় কম ছিল। কিন্তু নতুন নতুন কার্টুন চরিত্রের চাষ আর বাংলা-হিন্দি- ইংরাজি-সহ সমস্ত চলচ্চিত্রে পট পরিবর্তনের তাগিদ এই পেশাকে এখন জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

কারা আসতে পারেন এই পেশায়

যাঁদের মধ্যে কার্টুন চরিত্র তৈরি, চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট-বদল, এই জাতীয় কাজ করার আগ্রহ আছে, নতুন কিছু সৃষ্টি করার বাসনা আছে তাঁরাই আসতে পারেন। তবে এই দু’ প্রকার কাজ ছাড়াও একাধিক ক্ষেত্র আছে এই শিক্ষাকে কাজে লাগানোর মতো।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিকের পরই আগ্রহীরা এই কোর্সে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। অনেকে মাধ্যমিকের পরও ভর্তি হয়। আবার স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেও কেউ কেউ এই শিক্ষা নিয়ে থাকেন।

কোনো কোনো বিষয়ের ওপর কোর্স করানো হয়

  • গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
  • অডিও ভিডিও এডিটিং
  • মুভি ট্রেলার মেকিং
  • টুডি অ্যানিমেশন
  • থ্রিডি অ্যানিমেশন
  • ম্যাক্স (ইন্টিরিয়ার ডিজাইন)
  • মায়া (ক্যারেকটার ডিজাইনিং)
  • ভিএফএক্স

এই কোর্সের জন্য খরচ কত

মোটামুটি ১০ হাজার টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ কী ধরনের কোর্স করা হবে, তার সময়সীমা কত ইত্যাদির ওপর খরচ নির্ভর করছে। তবে পেমেন্টের ক্ষেত্রে ইনস্টলমেন্টের ব্যবস্থা থাকে বেশির ভাগ সংস্থাতেই।

কত দিনের কোর্স

বিভিন্ন কোর্সের গুরুত্বের ওপর তার সময়সীমা নির্ভর করে। তবে তিন মাস থেকে তিন বছরের কোর্সও করানো হয়। ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট কোর্সের সময়সীমা আলাদা আলাদা হয়।

এই কোর্সের বিষয়ে আমরা কথা বলেছি কলকাতার কয়েকটি নামী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে। নিয়েছি তাঁদের মূল্যবান মতামতও।

‘ম্যাক’-এর গিরিশ পার্ক শাখার অন্যতম প্রধান কর্ণধার সারিকা মিশ্র বলেন, আগ্রহটাই বড় কথা। বাকিটা তাঁরা শিখিয়ে নেন। এই কোর্সে ভর্তির জন্য বিশেষ কোনো গুণ থাকার দরকার পড়ে না। তাই যে কেউ যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষই এতে ভর্তি হতে পারেন। তবে আড়াই-তিন বছরের কোর্সগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছোট্টো ‘টেস্ট’ নেওয়া হয়। সারিকা আগ্রহীদের উদ্দেশে বলেন, কলকাতা, রাজ্য বা দেশ সর্বত্রই এই কাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বেশির ভাগ কাজই হয় বিভিন্ন স্টুডিওতে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে দারুণ গ্ল্যামারাস জগতে প্রবেশ করার একটা পথ এই পেশা। তা ছাড়াও আছে অন্য অনেক ক্ষেত্রেই এই শিক্ষা কাজে লাগানোর সুযোগ। তাই আগ্রহীরা মন লাগিয়ে শিখলে উন্নতি অবধারিত।

জানতে চেয়েছিলাম, এই কাজে ঢুকেই প্রথম চোটে আয় কেমন হতে পারে

তিনি জানান, সেটা নির্ভর করছে কোনো সংস্থায় কাজ পাচ্ছে, কী ধরনের কাজ করছে তার ওপর। কেউ যেমন প্রথম কাজে ঢুকেই ১০ হাজার পাচ্ছে। আবার কেউ ২৫ হাজারও পাচ্ছে।

সারিকা জানান, পড়ুয়াদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য একাধিক ব্যবস্থাও আছে ম্যাকে। সংস্থা থেকে প্লেসমেন্টেরও সুযোগ ১০০% পাওয়া যায়।

‘এরিনা অ্যানিমেশন’-এর অ্যাডমিন ইনচার্জ দীপঙ্কর ঘোষ জানালেন, তাঁদের ইনস্টিটিউট যাবতীয় দিক থেকে পড়ুয়াদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। তাঁদের সংস্থায় বিভিন্ন কোম্পানি থেকে উপযুক্ত ছেলে-মেয়ের খোঁজে মেল পাঠানো হয়। কোম্পানিটির যাবতীয় ভালো-মন্দ যাচাই করে দেওয়া হয় সংস্থার পক্ষ থেকেই। কারণ ছেলেমেয়েদের বয়স যথেষ্ট কম। তাদের যাচাই করার ক্ষমতা তেমন ভালো নয়। তাই শুধু কম্পিউটারে টেস্ট দেওয়ার জন্য বসানো হয় তাদের, বাকি সব দায়িত্ব এরিনার। তার পরই থাকে কেবল বাছাই পর্ব।

‘এরিনা অ্যানিমেশন’-এর কেরিয়ার অ্যাডভাইজার চন্দ্রিমা দাশগুপ্ত জানান, অ্যানিমেশনের একটা না অনেকগুলো ভাগ হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ফিল্ড, ব্রডকাস্টিং, ডিজিটাল কমিউনিকেশন ডিজাইন – এগুলো সবই প্রফেশনাল ফিল্ড। এই সব কাজে কখনও ছাঁটাই হবে না। বরং চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে।

উচ্চমাধ্যমিকের পরই বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়ে যান। ভালো করে শিখতে গেলে সময় দিতে হয়। কম থেকে শুরু করে তিন বছরের কোর্স অবধি হয়। সে ক্ষেত্রে স্নাতক স্তরের সমান সময় লাগে। এক দিকে পড়াশোনা করার পাশপাশি এই পেশাগত কোর্সটা করা থাকলে গ্র্যাজুয়েশনের পরই কাজে ঢুকে পড়া যায়।

এখানে সপ্তাহে তিন দিন দু’ ঘণ্টা করে ক্লাস করানো হয়। তা ছাড়া প্র্যাকটিস ক্লাসও দেওয়া হয় যে কোনো সময় পড়ুয়াদের সুবিধেমতো। কারণ যা শিখছে তা অভ্যাসও করা দরকার।

চন্দ্রিমা বলেন, যাঁদের আঁকায় আগ্রহ আছে তাঁরা ভালো করেন। তবে আঁকা জানা না থাকলেও এতে আসতে পারেন। তাঁদের জন্য আলাদা ভাবে আঁকার ক্লাস করানো হয়। এই আঁকার কাজ দরকার হয় টুডি অ্যানিমেশনের জন্য। তবে আগ্রহ থাকাটা দরকার। পোস্টার, নিউজপেপার ডিজাইন, পেস্ট্রো, প্যাকিং পেপারের যে ডিজাইন থাকে সেগুলো, হোর্ডিং ব্যানার সবই গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা করতে পারেন। এরিনার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ইন্টারফেস কম্পিটিশন করানো হয়। তা ছাড়া ক্রিয়েটিভ মাইন্ড প্রতিযোগিতাও করানো হয়। তিনি জানান, সম্প্রতি বাহুবলীর ক্রিয়েটিভ আর্টিস্টরাও এ রকম একটি অনুষ্ঠানে এসে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিয়েছিলেন।

কেরিয়ার গাইড হিসেবে চন্দ্রিমা বলেন, এই প্রশিক্ষণের পর নিজের চেষ্টায় কাজ করার অনেকগুলো পথ খুলে যায়। ফলে এই ফিল্ডে কোনো দিন বেকার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here