অশোক লেল্যান্ড এবং জেআইএস গ্রুপের উদ্যোগে অটোমোবাইল প্রশিক্ষণ শিবির

0
1187
স্মিতা দাস

হিন্দুজা গোষ্ঠীর উদ্যোগে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ড সোমবার কলকাতার কাছে দমদমে ডঃ সুধীর চন্দ্র সুর ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উদ্বোধন করল বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ শিবির। এ কাজে তাদের সাহায্য করেছে জেআইএস গ্রুপ এডুকেশনাল ইনিশিয়েটিভস। অটোমোবাইল কর্মীদের কাজের দক্ষতা আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জিআইসি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংস্থার ডাইরেক্টর অমিত শ্রীবাস্তব বলেন, অটোমোবাইল শিল্পকে ভবিষ্যতে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে আধুনিক প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। তা না হলে গ্রাহক বা প্রস্তুতকারী কাউকেই সন্তুষ্ট করা যাবে না। গাড়ির দুনিয়ায় অশোক লেল্যান্ড নানা রকমের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসছে। ডিলার, গ্রাহক, কর্মীদের সেই নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর পাঠ্যবিষয়ের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ যুক্ত করলে তাতে পড়ুয়ারা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে।  পড়ার শেষে তারা কাজের জন্য হাতে কলমে তৈরি হয়ে যাবে। প্রতিদিন কিছু না কিছু নতুন প্রযুক্তি অটোমোবাইলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সেগুলোকে জেনে রাখা দরকার। অ্যাপভিত্তিক প্রযুক্তি ক্রমশ বাড়ছে। তাই শিক্ষা কম থাকলেও এই বিষয়ে জ্ঞান থাকাটা জরুরি। কোর্সের জন্য যোগাযোগ করতে হবে এই কলেজেই।

কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে এই প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে? — এর উত্তরে অমিত শ্রীবাস্তব জানান, এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষা দশম শ্রেণি। তবে বিষয়টির প্রতি আগ্রহ আর উৎসাহ থাকাটা দরকার।

প্রশিক্ষণটি কত দিনের? —  অমিত শ্রীবাস্তব জানান, কম করে চার মাসের কোর্স। বিষয় অনুযায়ী তা আট বা ছয় মাসেরও হতে পারে।

এই প্রশিক্ষণের খরচ কেমন? —  তিনি জানান, সাধ্যের মধ্যেই থাকবে এর কোর্স ফি। কিছু কিছু বিষয়কে সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাতে বিনামূল্যেও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া যাবে।

এই প্রশিক্ষণের পর চাকরির নিশ্চয়তা কতটা? —  তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এই ক্ষেত্রে চাহিদা খুবই। অর্থাৎ সুযোগ অনেক। কিন্তু কাজ জানা লোক অনেক কম। ফলে প্রশিক্ষিতদের কাজের অভাব হবে না। কেউ যদি কলকাতায় বা রাজ্যের বাইরে কাজ করতে চায় সে সব ক্ষেত্রেই তাঁদের জন্যও অগাধ সুযোগ রয়েছে।

এই সংস্থার পক্ষ থেকে কি কোনো রকম প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়? —  অমিত জানান, এই সংস্থা বহু পড়ুয়ার চাকরির ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই করেছে। বিভিন্ন জায়গায় কাজ পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, বাসের মধ্যেই একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এই বাস ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে প্রশিক্ষণ দেবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘‌নলেজ অন হুইলস’‌ বা ‘‌নো’ (‌কেএনওডব্লু)‌।

অশোক লেল্যান্ডের ইস্টার্ন রিজিয়নের জোনাল সার্ভিস হেড আর এন সেন বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পুরোনো গাড়ি সরিয়ে ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে বিএস ৪ গাড়ি। ক্রমশ আসবে বিএস ৫, বিএস ৬ যান। তার প্রযুক্তি, কার্যকারিতা আলাদা। ক্রমশ অত্যাধুনিক কিন্তু পাশাপাশি সহজ প্রযুক্তি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাতে কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোকার্বনের মতো বিষাক্ত কণা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকবে। সেই জন্য ৪০০ অশ্বশক্তি বিশিষ্ট একটা বিশেষ প্রযুক্তি এনেছে অশোক লেল্যান্ড। সেই প্রযুক্তির খুঁটিনাটি সম্বন্ধে না জানলে কাজ পাওয়া যেমন অসুবিধে হয়ে যাবে, তেমনই উপযুক্ত প্রশিক্ষিত লোকের অভাবে ওই সব যানবাহনও ঠিকমতো সার্ভিস পাবে না। ফলে তৈরি হবে সমস্যা।

সংস্থাগুলির মতে, স্কিল ইন্ডিয়া প্রকল্প এই উদ্যোগে আরও শক্তিশালী হবে। এমন প্রশিক্ষণকেন্দ্র এ দেশে নবম এবং পূর্ব ভারতে দ্বিতীয়। পূর্বাঞ্চলে এর আগে  ভুবনেশ্বরে একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতি বছর এই কেন্দ্রগুলি থেকে ৮ হাজার করে কর্মীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের কাজ হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করা হয়। যাতে উৎপাদিত পণ্যের গুণমান আরও ভালো হয়। এবং কর্মীরা নিজেরাও আরও উৎসাহ পান।

কলকাতা  প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উদ্বোধন করেন নেটওয়ার্ক ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদিনাথন কে। তিনি বলেন, ‘‌মোটর হোক বা বৈদ্যুতিন সামগ্রী— যে কোনও উৎপাদনকারীর ক্ষেত্রে পণ্য বিক্রির পর পরিষেবা দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্রির পর পরিষেবা না দিতে পারলে সফল হওযার সম্ভাবনা কম। এখন এই ব্যাপারটির গুরুত্ব পণ্যের গুণমানের সমান হয়ে গেছে। অশোক লেল্যান্ড সব সময় দক্ষ কর্মীর ওপর জোর দেয়। তিনি বলেন, তাঁদের মোটো “‌আপকি জিৎ, হামারি জিৎ”‌।

কোর্সের জন্য যোগাযোগ করতে হবে দমদমে ডঃ সুধীর চন্দ্র সুর ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই। যোগাযোগের নম্বর ৯০৫১৯৭৮৬৬৬। 

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here