স্নাতক স্তরে পাস কোর্সের পরীক্ষা নেওয়া ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব কলেজগুলিকেই দেওয়ার কথা ভাবছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। খালি অর্নাসের পরীক্ষার মূল্যায়নের দায়িত্ব হাতে রাখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়। পাস কোর্সে প্রশ্নের ধরন বদল করারও চিন্তাভাবনা চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এই পরিবর্তন আনতে চায়। এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য খুব শীঘ্রই কর্মশালা ডাকা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে পরীক্ষার ফল প্রকাশ দ্রুত করা সম্ভব হবে। প্রতি বছর অর্নাস ও পাস মিলিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মুল্যায়ন করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়কে।

পাস কোর্সের পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন বদল করে এমসিকিউ করার কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয়। আর খাতা নয়, পরীক্ষা নেওয়া হবে ওয়েমার শিটে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, চাকরির পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশ্নপত্রের ধরন বদলের কথা ভাবা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করেন, চাকরির পরীক্ষা সব এমসিকিউ ধাঁচে হয়ে থাকে। নেট থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় স্তরে সব পরীক্ষাই এখন এই ধাঁচে। ফলে কলেজ স্তরে এই ধাঁচের প্রশ্নে পরীক্ষা দিলে ছাত্ররা সড়গড় হয়ে উঠবে। অনার্সের পড়ুয়ারাও জেনারেল পেপারের পরীক্ষাগুলো এমসিকিউ ধাঁচের প্রশ্নে দেবে। ফলে সর্বস্তরের পড়ুয়াদের একটা প্রশিক্ষণ হবে।

প্রশ্নপত্রের ধরন বদল সম্পর্কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ মঙ্গলবার বলেন, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সবটাই ভাবনাচিন্তার স্তরে আছে। সব কিছুর ভালো দিক খারাপ দিক খতিয়ে দেখে আলোচনা করেই তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ভালো দিক বলতে উপাচার্য বলেন, বাইরে যে সমস্ত পরীক্ষা হয় সেগুলি এমসিকিউ প্রশ্নপত্রে হয়। সেখানে যাতে ছাত্রছাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়, তার জন্যই এটা ভাবা হয়েছে। পাশাপাশি এমসিকিউ হলে খাতা দেখার সময় অনেক কম লাগবে, কারণ পুরটাই কম্পিউটারাইজড হবে। তাড়াতাড়ি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা যাবে বলে জানান তিনি। আবার পুরোটা এমসিকিউ চালু করলে ছাত্রদের লেখার অভ্যাস নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন উপাচার্য। তাই পুরো বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে খতিয়ে দেখে লেখা ও এমসিকিউ-এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হবে বলে তিনি জানান।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here