মৈত্রী মজুমদার

বছরের সেই সময় এসে উপস্থিত, যখন সদ্য কৈশোর পার করার পথে অতিক্রম করতে হয় বড়ো বড়ো পরীক্ষা। না না, আমি ভাগ্যের পরীক্ষার কথা বলছি না। বলছি ভাগ্য গড়ে তোলার জন্য যে পরীক্ষাগুলো দিতে হয়, সেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ইত্যাদির কথা।

শুধু তো পরীক্ষা নয়, তার সঙ্গে সঙ্গেই থাকে এর পরবর্তী স্তরে কোন কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে সহজে বা ভালো ভাবে কেরিয়ার গড়ে তোলা যাবে, সে সব চিন্তা। সাধারণ ভাবে আমাদের জানা যে সব কেরিয়ার অপশন আছে, সেগুলো ছাড়াও যাঁরা অন্য ধরনের কেরিয়ার গড়ে তুলতে ইচ্ছুক তাঁদের জন্য কিছু রাস্তার খোঁজ আমরা নিয়ে এসেছি।

মাধ্যমিকের পর বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার দিকে বেশ ঝোঁক দেখতে পাওয়া যায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। আর তাঁদের ভিতর অনেকেরই ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে থাকে। কিন্তু সেই ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে এই সব বিষয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্যপ্রাপ্তি নিয়ে মনের মধ্যে এক প্রকার সংশয়ও কাজ করে। কিন্তু আপনাদের জানাই, সে সব শাখায় সুযোগ না পেলেও, আজকের দিনে আর সে নিয়ে মন খারাপের বোধহয় আর কোনো কারণ নেই। তার পরিবর্তে আছে আরও নানা রকম সমধর্মী পেশায় প্রবেশের সুযোগ। সে রকমই একটি কেরিয়ার অপশন নিয়ে আলোচনা করা যাক।

মেডিসিন শাখায় পড়তে পারেন নিউট্রিশন এবং ডায়াটেটিক্স নিয়ে।

কথায় বলে ওষুধ-পথ্য। মানে রোগীর রোগ সারানোর জন্য ওষুধ যেমন দরকারি, ঠিক ততটাই দরকারি হল পথ্য। মানে সঠিক মাত্রায় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। তার মানে ব্যাপারটা এই দাঁড়াল যে ওষুধের জন্য যেমন ডাক্তার অপরিহার্য ঠিক তেমনই অপরিহার্য হল নিউট্রিশনিস্ট বা ডায়াটেশিয়ান। তা হলে ডাক্তার না হয়েও মেডিসিন শাখায় কাজ করার আপনার ইচ্ছাপূরণ সম্ভব এই পেশায়।

তা ছাড়াও কাজ করতে পারবেন আরও নানা জায়গায়।

আধুনিক যুগে নগরায়ণের কুফল হিসেবে যে যে নতুন ধরনের রোগের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তা মোকাবিলা করার জন্য সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস অপরিহার্য। আর এক জন পুষ্টিবিশারদই পারেন সে বিষয়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে। তাই আজকের দিনে হাসপাতাল, স্কুল, বহুজাতিক কোম্পানি থেকে শুরু করে হেলথ ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব সর্বত্রই এই পুষ্টিবিদদের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কী পড়বেন

পুষ্টি বিশারদ হওয়ার জন্য, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান শাখায় বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি নিয়ে পাশ করলে ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাধ্যমিক বা তার পরবর্তী স্তরে হোমসায়েন্স থাকলেও সুযোগ পাওয়া যায়।

নিউট্রিশন নিয়ে স্নাতক (বিএসসি), স্নাতকোত্তর (এমএসসি), এমনকি পরবর্তী কালে পিএইচডি করারও সুযোগ আছে।

এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে পুষ্টিবিশারদ হিসেবে দু’ধরনের কাজ করা যেতে পারে।

১। ডায়াটেশিয়ান

অনেকেই মনে করেন এঁদের কাজ মোটা ব্যক্তিদের ওজন কমাতে সাহায্য করা। এটা ঠিক, কিন্তু এটি কাজের খুবই একটি  ছোটো অংশ। এই ক্ষেত্রে আপনার কাজের ক্ষেত্রটি ব্যক্তিবিশেষের স্তরে। যে কোনো ব্যক্তির বয়স, জীবিকা, জীবনযাপনের প্যাটার্নের ওপর নজর রেখে এবং পুষ্টিতত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে ঠিক খাদ্যাভ্যাস গঠনে তাদের সাহায্য করাই প্রধান কাজ এ ক্ষেত্রে। তাই হাসপাতালে রোগীই হোক বা স্কুলের বাচ্চা, বড়ো কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মী হোক বা খেলোয়াড়, কিংবা অভিনেতা থেকে গৃহকর্ত্রী, সকলকেই এই পেশার মাধ্যমে সাহায্য করা সম্ভব। পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি হোক বা প্রাইভেট প্র্যাকটিস, এই পেশায় আসার জন্য এ ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হয়।

২। নিউট্রিশনিস্ট

এ ক্ষেত্রে কাজের পরিসরটি একটু বিস্তৃত হয়ে যায়। ব্যক্তির পরিবর্তে কাজের জায়গা এখানে সমষ্টি। পুষ্টিবিজ্ঞানের অগ্রগতি, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, এফএমসিজি সংক্রান্ত জাতীয় বা বহুজাতিক সংস্থায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজে আপনি যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই।

তবে দু’টি ক্ষেত্রেই শিক্ষকতা এবং গবেষণার সুযোগ আছে। দেশে এবং বিদেশেও এই পেশার চাহিদা ক্রমবর্ধমান।

কোথায় পড়বেন

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে,  অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিহারীলাল কলেজ, বিভিন্ন হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট, এ সব জায়গায় পড়ানো হয়। জাতীয় স্তরে দিল্লির লেডি আরুইন কলেজ, ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ভেলোরের ক্রিস্টিয়ান মেডিকেল কলেজ, মুম্বই এবং হায়দরাবাদ সহ প্রায় সব প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও তার অধীন বিভিন্ন কলেজে এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

ইগনু, উৎকল ইউনিভার্সিটি, মধ্যপ্রদেশ ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিসট্যান্স লার্নিং-এর সুবিধা আছে। এ ছাড়াও বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান থেকে এই বিষয়ে সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা ইত্যাদি করারও সুযোগ আছে।

তা হলে আর দুশ্চিন্তা নয়। যদি আপনি খেতেও খাওয়াতে ভালোবাসেন তা হলে বৃহত্তর ভাবে জাতির সেবায় পেশাগত ভাবে ভালো খান আর ভালো খাওয়ান।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন