ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

0

ড. সুব্রত বিশ্বাস

(অধ্যাপক, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)

ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠক্রমের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে এমন বেশ কিছু বিষয় পড়ানো হয়, যেগুলি সরাসরি অঙ্কের সঙ্গে যুক্ত। অতএব এই বিষয়টি পড়তে গেলে অঙ্কে দক্ষতা ও আগ্রহ থাকা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু অঙ্কে নয়, দখল থাকতে হবে পদার্থবিদ্যাতেও। বিশেষত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে যে ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক্স ও ম্যাগনেটিজম পড়ানো হয়, সেই বিষয়গুলির জ্ঞান ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে খুবই কাজে লাগে। এ ছাড়া বিশ্লেষণী ক্ষমতা, অ্যাপ্লিকেশন অফ সায়েন্স, কমপিউটেশনের বুনিয়াদি জ্ঞান থাকাটাও এই বিষয়টি পড়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

এ বার আসি কলেজ বাছাইয়ের বিষয়ে।

১) সবার আগে দেখে নিতে হবে, কলেজটি কত বছরের পুরোনো। কলেজটি যত পুরোনো হবে, পঠনপাঠনে এবং ছাত্রস্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপের অভিজ্ঞতা, সেই কলেজ কর্তৃপক্ষের বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ফলে কেরিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে একটি তুলনামূলক পুরোনো কলেজ, নতুন কলেজের তুলনায় তোমার পক্ষে বেশি কার্যকর হবে।

২) কলেজের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নাও সেখানকার পরিকাঠামোর মান। ল্যাবরেটরি পর্যাপ্ত আছে কি না, সেটাও দেখে নেওয়া দরকার।

৩) কলেজটি কোথায় অর্থাৎ যাতায়াত করার সুবিধা কেমন, সেটাও বুঝে নেওয়া দরকার। কারণ নিয়মিত ঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে সেটা খুবই জরুরি।

৪) কলেজটি ন্যাশনাল বোর্ড অফ অ্যাক্রিডিটেশন (এনবিএ) দ্বারা স্বীকৃত কি না, সেটা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে তুমি সেই কলেজ থেকে যে ডিগ্রি পাবে, তার ভিত্তিতে তুমি দুনিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশে রেজাল্টের ভিত্তিতে এম টেক করতে পারবে। স্কলারশিপও পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

৫) এবং অবশ্যই দেখে নিতে হবে প্লেসমেন্ট রেকর্ড। অর্থাৎ ওই কলেজ থেকে সাম্প্রতিক অতীতে কত পড়ুয়ার চাকরি হয়েছে, সেটা দেখে নেওয়া একান্ত জরুরি। কারণ শেষ পর্যন্ত জীবিকার জন্যই তো সব কিছু।

আরও পড়ুন: কেরিয়ারের খোঁজে: স্ট্যাটিস্টিশিয়ান

চাকরির সুযোগ

প্রথমেই বলি, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চাকরির সুযোগ সীমাহীন।

১) যারা পড়াশোনার জগতে থাকতে চাও বা উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চাও, তাদের জন্য এই বিষয়ে বি টেক ডিগ্রির বাড়তি গুরুত্ব আছে। কারণ, এক জন কম্পিউটার বা ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি টেক ডিগ্রিধারী ইলেক্ট্রিক্যালে এম টেক করতে পারবেন না। কিন্তু তুমি ইলেক্ট্রিক্যালে বি টেক করেও কম্পিউটার বা ইলেক্ট্রনিক্স-এ এম টেক করতে পারবে।

২) এনটিপিসি, ওএনজিসি, সেইল, ভেল, গেইলের মতো ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নবরত্ন সংস্থাগুলিতে নিয়মিত ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে GATE  উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া কাজের সুযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এ তথা DRDO-তে।

৩) রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়মিত প্রচুর ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার লাগে। WBSETCL, WBSEDCL,WBPDCL এবং যে কোনো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা রয়েছে।

৪) সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিও এ ব্যাপারে উদ্যোগী। সৌরশক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, তত কাজের সুযোগ বাড়বে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের।

৫) হাই ভোল্টেজ ডিসি লাইনের কাজ দেশের অন্যান্য অংশে গুরু হয়েছে। এ রাজ্যেও কিছু দিনের মধ্যে এই ধরনের কাজ শুরু হবে, তখন সেখানেও তৈরি হবে কাজের সুযোগ।

৬) এ রাজ্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা সিইএসসি। সেখানে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়মিত ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ হয়ে থাকে।

৭) আসলে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেখানেই ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন। নানা ক্ষেত্রে তাদের কাজ ছড়িয়ে রয়েছে। যেমন- ক) পাওয়ার সিস্টেম। খ) ইলেক্ট্রিক মেশিন, মোটর, জেনারেটর। গ) কন্ট্রোল সিস্টেম ঘ) মেজারমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্টেশন ইত্যাদি।

আগেও বলেছি, আবার বলছি, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কাজের সুযোগ অঢেল। কিন্তু কাজ পেতে গেলে দরকার বিষয়ের ওপর দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং অবশ্যই কমিউনিকেশন স্কিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here