স্মিতা দাস

মেডিক্যাল পড়তে না পারলে অনেকেই কী করবেন ভেবে পান না। তাঁদের জন্য আছে প্যারামেডিক্যাল কোর্স। ডাক্তারদের চিকিৎসা করার কাজে সামগ্রিক ভাবে সাহায্য করতে যে সব আনুষঙ্গিক বিষয় থাকে প্যারামেডিক্যাল কোর্স মূলত তার ওপরই।

প্যারামেডিক্যাল কোর্সে কোন কোন বিষয় পড়ানো হয় :

রেডিওগ্রাফি, ফিজিওথেরাপি, অপটোমেট্রি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার টেকনোলজি, ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ান, মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, রেডিওথেরাপিউটিক টেকনিকস, নিউরোইলেকট্রোফিজিওলজি, পারফিউশন টেকনোলজি, ক্যাথ ল্যাব টেকনিশিয়ান, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, ইসিজি টেকনোলজি, অকুপেশনাল থেরাপি, ম্যা মেটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ, ড্রাগ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, নার্সিং।

কাজের সুযোগ কোথায় :

বিভিন্ন নার্সিং হোম, হাসপাতাল, প্যাথোলজিক্যাল সেন্টার, মেডিক্যাল ল্যাবরেটরিতে।

শুরুতে আয়ের পরিমাণ :

চাকরির শুরুতে মাইনে হতে পারে মাসে মোটামুটি ১৫ হাজার টাকা। এর পর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

যোগ্যতা :

  • ভারতের যে কোনো অনুমোদিত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা স্কুল বা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক/সমতুল বা স্নাতক স্তরের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীবনবিজ্ঞানে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • আবেদনকারীর বয়স চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে ১৭ হতে হবে।

কী কী লাগবে :

  • সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে শারীরিক সুস্থতার প্রমাণপত্র জমা করতে হবে।
  • আত্মীয় ছাড়া যে কোনো দু’ জনের নাম উল্লেখ করতে হবে, যাঁদের কাছ থেকে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ব্যপারে খোঁজখবর করা যাবে।

নির্বাচন পদ্ধতি :

সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক/সমতুল বা স্নাতক স্তরে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীবনবিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়। এ ছাড়া যে কোনো সংস্থার পরিচালন বিভাগই প্রার্থীনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়।

পড়ার খরচ :

বছরে মোটামুটি ভাবে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে এই অঙ্কটা বিভিন্ন সংস্থা অনুযায়ী আলাদা আলাদা হয়। এ ছাড়াও রেজিস্ট্রেশন ফি আর পরীক্ষার ফি আলাদা থাকে।

ভর্তির সময় :

সাধারণত এই কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় সেপ্টেম্বর মাস থেকে।

রাজ্যে কোথায় পড়ানো হয় প্যারামেডিক্যাল কোর্স :

সরকারি সংস্থা স্টেট মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি অব ওয়েস্ট বেঙ্গল। এ ছাড়াও রয়েছে ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ, কলকাতা; প্যারামেডিক্যাল কলেজ, দুর্গাপুর; ডাঃ কে আর অধিকারী কলেজ অব অপটোমেট্রি অ্যান্ড প্যারামেডিক্যাল টেকনোলজি, কল্যাণী; বেহালা ইনস্টিটিউট অব অ্যালায়েড হেলথ্‌ সায়েন্সেস, কলকাতা; চার্নক হেলথ্‌কেয়ার ইনস্টিটিউট, কলকাতা; আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, কলকাতা; প্রেরণা এডুকেশন, কলকাতা; ওয়েস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব হেলথ্‌ সায়েন্সেস, সল্ট লেক, কলকাতা; মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, সল্ট লেক, কলকাতা; সোসাইটি ফর দ্য স্কুল অব মেডিক্যাল টেকনোলজি, কলকাতা।

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here