ফার্মাকোলজি

0
751
মৈত্রী মজুমদার

দ্বাদশ শ্রেণির পর যে সব ছাত্রছাত্রীরা ডাক্তারি ছাড়া মেডিসিন বিভাগে পড়াশোনা করে এগোতে চান তাদের জন্য ফার্মাকোলজি খুবই উপযুক্ত বিষয়  এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় পেশাদারি কোর্স।

এই শাখাটিতে প্রধানত ওষুধপত্র, তার তৈরির পিছনের রসায়ন এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের কারিগরি দিকটিতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনা করতে হয় তাই ফার্মাকোলজি পড়তে হলে , দ্বাদশ শ্রেণিতে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, গণিত বা জীববিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

এই শাখাতে  দ্বাদশ শ্রেণির পর  ৪ বছরের বি ফার্ম তারপর এম ফার্ম এবং তারপর পিএইচডি বা ফার্মডি করার সুযোগ আছে।  তারপর দেশে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার সুযোগ তো আছেই। এছাড়াও বি ফার্ম-এর আগে  ৩ বছরের ডি ফার্ম বা ডিপ্লোমা ইন ফারমাসি কোর্সও করা যেতে পারে।

বি ফার্ম কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স অথবা প্রতিষ্ঠান বিশেষে আলাদা করে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হয়।  পরীক্ষায় ৫০ % নম্বর সহ উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। এ ছাড়া ডিফার্ম ডিগ্রি থাকলেও বি ফার্ম-এ ভর্তির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

কাজের সুযোগ

কাজের সুযোগের দিক থেকে ফার্মাকোলজি চিরসবুজ একটি শাখা। কারণ, মানব সভ্যতার অগ্রগতির জন্য চিকিৎসকদের যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটাই প্রয়োজন ফার্মাসিস্টদের।

এই কোর্সের শেষে কাজ পেতে পারেন, সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে।

কেমিক্যাল বা ড্রাগ টেকনিশিয়ান হিসেবে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থায়।

বায়োটেকনো ইন্ডাস্ট্রিতে।

ড্রাগ থেরাপিস্ট বা ড্রাগ ইন্সপেক্টর পদে।

সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে  ড্রাগ কোঅরডিনেটার- এর পদে কাজ করার সুযোগ আছে।

আছে হেলথ ইন্সপেক্টর হওয়ার সুযোগও।

বড় ফার্মাসিতে ফার্মাসিস্ট হওয়ার , প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে টেকনিশিয়ান-এর পদে,  বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে বৈজ্ঞানিক হিসেবে গবেষণা এবং উদ্ভাবন বিভাগে।  এমন অনেক অনেক কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে এই বিষয়ে  পড়াশোনার শেষে।

সরাসরি দেশে বা বিদেশে বিভিন্ন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ তো আছেই।

এছাড়াও যদি মূল কোর্সের শেষে ফারমাসিউটিক্যাল মানেজমেন্ট এর কোর্স করে নেওয়া যায় তাহলে কাজের পরিসর আর বেড়ে যেতে পারে।

অ্যাপেলো, গ্লাক্সো, অ্যাবট- এর মত  বিভিন্ন জাতীয় বা বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলোতে মেডিক্যাল  রিপ্রেসেনটেটিভ অথবা   মার্কেটিং বা সেলস সংক্রান্ত উচ্চ পদে কাজ করার সুযোগ  পাওয়া যাবে।

চাকরি না করেও  নিজস্ব ফার্মেসি বা প্যাথলজিকাল ল্যাব  খুলে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগও  আছে।

কোথায় পড়বেন

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব নাম করা ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেই এই কোর্স করানো হয়।

এ ছাড়াও ইন্সটিটিউট অব ফার্মাসি, জলপাইগুড়ি

বি সি ডি এ কলেজ  অব ফার্মাসি

ডাঃ বি সি রায় কলেজ অব ফার্মাসি অ্যান্ড অ্যালায়েড  হেলথ সার্ভিসেস, দুর্গাপুর

এরকম বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠানেও পড়ানো  হয় এই কোর্স।

ফার্মাকোলজি পড়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। স্থান বিশেষে ভর্তির প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে ভর্তির আগে দেখে নেওয়া দরকার যে প্রতিস্থানটি অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE)  এবংফার্মাসি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (PCI) দ্বারা স্বীকৃত কি না।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here