মন্তেসরির জন্মদিনে জেআইএস গোষ্ঠীর ‘লিটল ব্রাইট স্টারস প্লে স্কুল’-এর পথ চলা শুরু

0
inauguration of JIS group's playschool
প্লে স্কুলের উদ্বোধনে প্রাক্তন বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, সুমন সুদ, মীনাক্ষী অটল, অলকানন্দা রায়, সর্দার তরনজিৎ সিং এবং সিমরপ্রীত সিং।

নিজস্ব প্রতিনিধি: “‌শিক্ষা মানে শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, শিক্ষা যেন মানুষের বিভিন্ন ক্ষমতার দিকও সমান ভাবে খুলে দিতে পারে” -‌ এ কথা বলেছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড.‌ মারিয়া মন্তেসরি।

মন্তেসরি শিশুশিক্ষার ছবিটাই আমূল বদলে দিয়েছিলেন। শৈশবের লেখাপড়া আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে তিনি পড়ার সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছিলেন খেলাকে। তার পর অনেক অনেক বছর কেটে গিয়েছে। লেখাপড়ার ধরনে অনেক বদল এসেছে। অনেক নতুন জিনিস যুক্ত হয়েছে। কিন্তু যতই পরিবর্তন আসুক, তাঁর কথাগুলো আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বোঝা যায় তাঁর ভাবনা কত আধুনিক ছিল। এই স্মরণীয় শিক্ষাবিদের ১৪৯তম জন্মদিবসে পথ চলা শুরু করল জেআইএস গোষ্ঠীর প্রিস্কুল ‘লিটল ব্রাইট স্টারস প্লে স্কুল’‌।

আরও পড়ুন স্নাতক স্তরে শিল্পমুখী কোর্স চালু করছে ম্যাকাউট

শনিবার তাজ হোটেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘‌লিটল ব্রাইট স্টারস প্লে স্কুল’–এর উদ্বোধন করেন কলকাতা এবং বোম্বে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখার্জি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের সদস্য মীনাক্ষী অটল, আরলি চাইলহুড অ্যাসোসিয়শনের টেরিটরি মেন্টর সুমন সুদ, ইন্ডিয়ান মন্টেসরি সেন্টারের শিক্ষক সঞ্জনা ভাখারিয়া, বিশিষ্ট মনোবিদ অর্পিতা রায়, ৯১.‌৯ এফ এমের আর জে জিমি টাংরে–সহ বিশিষ্টরা।

প্রিস্কুলের পঠনপাঠনের বদল নিয়ে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। লিটল ব্রাইট স্টারস প্লে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ আকাঙ্ক্ষা কৌর বলেন, ‌মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে শিক্ষার হাত ধরে। এর এটাই পরে দেশ গড়ার কাজে লাগে। শিশু হামাগুড়ি দেওয়া ছেড়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করলেই তার শিক্ষা শুরু হয়। মানুষের প্রথম স্কুল হল তার বাড়ি। সে সেখানে যা শোনে, যা দেখে তা-ই শেখে। বলা যেতে পারে প্রিস্কুল হল দেশ গড়ার প্রথম ধাপ। যেন শিলান্যাস করা।

মারিয়া মন্তেসরি প্রসঙ্গে আকাঙ্ক্ষা কৌর বলেন, “প্রাক-স্কুল শিক্ষার ইতিহাস অনেক বড়। আমরা অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের কথা জানি। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাঁ জ্যাক রুসো, ফ্রিডরিশ ফ্রোয়েবেল এবং মারিয়া মন্তেসরি। তবে শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে মন্তেসরির সংবেদনশীলতা, ভাবনাচিন্তা নতুন দিশা দেখিয়েছে। আমরা যতই আধুনিক হয়ে উঠি না কেন, যতই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠি না কেন, শিশুশিক্ষায় মন্তেসরির আবেদন সব সময় মনে রাখব। তাঁর ভাবনাচিন্তা শিক্ষকদের ভাবনায় নতুন রসদ জোগায়।”‌

তিনি আরও বলেন, “‌মারিয়া মন্তেসরির শিক্ষা–ভাবনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল শিশুর চাহিদার দিকে ভালো করে নজর করা, শিশুদের ভুল শুধরে দেওয়া, তাদের জন্য একটা সঠিক পরিবেশ তৈরি করা, তাদের শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলা। আর এই সব কারণেই মন্তেসরি শিক্ষাব্যবস্থা এখনও প্রাসঙ্গিক। শিশুশিক্ষার বিভিন্ন দিকে নতুন দিশা দেখানোর জন্য, তাদের লেখাপড়া আরও সহজ করে তোলার জন্য আমরা তাঁর কাছে সব সময় কৃতজ্ঞ থাকব।”‌

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাজগৎ এবং বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ১০০ জন অধ্যক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here