স্কুলের পাঠ্যবই মূল্যায়ন করছে এনসিইআরটি, ঢুকতে পারে নোটবন্দি

0

নয়াদিল্লি: স্কুলের পাঠ্যবইগুলি মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারকে স্কুলশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেয় ও সহায়তা করে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং(এনসিইআরটি)। পর্ষদ স্কুলের পাঠ্যবইগুলির ‘অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন’ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

পর্ষদের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিকে স্কুলের পাঠক্রমের অন্তর্ভূক্ত করাই এই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য। এর মধ্যে রয়েছে নোটবন্দি ও পণ্য ও পরিষেবা করের মতো বিষয়গুলি।

স্কুলের পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে গত ২ বছর ধরেই দেশে চলছে। রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির স্কুলের পাঠ্যবইগুলিতে সাম্প্রতিক কালে যে সব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলিকে ‘শিক্ষার গেরুয়াকরণ’ বলে তোপ দেগেছে বিরোধীরা।

সিবিএসই অনুমোদিত স্কুলগুলি, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, জওহর নবোদয় বিদ্যালয় এবং অন্যান্য কিছু স্কুলে এনসিইআরটি-র পাঠক্রম অনুযায়ী পঠনপাঠন হয়। 

রাজস্থানের পাঠ্যবইয়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু সংক্রান্ত অংশটিকে ছোটো করে দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানায় যুক্ত করা হয়েছে নীতিশিক্ষা, যেটি লিখেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের দীননাথ বাত্রা। অন্যান্য রাজ্যগুলিতে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সংঘের বিভিন্ন তাত্ত্বিকের রচনা যুক্ত করা হয়েছে। ওই রচনাগুলিতে ভারতীয় সংস্কৃতি ও জীবনচর্যা সম্পর্কে আরএসএস-এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করা হয়েছে।

এনসিইআরটি-র আধিকারিকরা অবশ্য বলছেন বাজার এবং চারপাশের পরিবর্তনগুলি সম্পর্কে পড়ুয়াদের অবহিত করার জন্যই এই মূল্যায়ন চলছে। কাজটি করার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠীও তৈরি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব পাঠ্যবই-ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগে এনসিইআরটি, শুধুমাত্র যেসব বই নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ত(বিশেষত ইতিহাস), সেগুলিরই মূল্যায়ন করত।

সিবিএসই অনুমোদিত স্কুলগুলি, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, জওহর নবোদয় বিদ্যালয় এবং অন্যান্য কিছু স্কুলে এনসিইআরটি-র পাঠক্রম অনুযায়ী পঠনপাঠন হয়।

পর্ষদের আধিকারিকদের দাবি, পাঠ্যবই-এর মূল্যায়ন এবং পাঠক্রমের পরিমার্জন এক বিষয় নয়। ২০০৫ সালে শেষ পাঠক্রমের পরিমার্জন করা হয়েছে।

“গত বছরের নোটবন্দির বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে নেই। এটি অবশ্যই পড়ুয়াদের শেখানো উচিৎ। পাশাপাশি মৌসুমি মানচিত্র যদি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে সেটিকেই পাঠ্যবইতে ঢোকানো দরকার। আমাদের আধিকারিকরা সব বই-এর মূল্যায়ন শেষ করলেই আমরা জানতে পারবো কী কী পরিবর্তন করতে হবে”, বলেন এক উচ্চপদস্থ পর্ষদ কর্তা।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here