রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এখনও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা

0
jadavpur university
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আশানুরূপ পড়ুয়া ভরতি হচ্ছে না। কাউন্সেলিংযের তৃতীয় পর্ব মিটে যাওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১১ হাজারের কিছু বেশি পড়ুয়া ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভরতি হয়েছে। অথচ রাজ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি পড়ার আসন রয়েছে ৩৩ হাজারের কিছু বেশি। ভরতির এই হাল দেখে দুশ্চিন্তায় উচ্চ শিক্ষা দফতরের কর্তারা।

উচ্চ শিক্ষা দফতরের কর্তারা বুঝে উঠতে পারছেন না, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় রাজ্য ও জাতীয় স্তরের মেধা তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তারা তা হলে  যাচ্ছে কোথায়। তাই আবার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি কোর্সে ভরতির জন্য কলেজভিত্তিক দরজা খুলে দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর। এ জন্য গত ১৭ জুলাই এক নোটিশ জারি করা হয়েছে। রাজ্যের যে সব কলেজে ডিগ্রি কোর্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়, ওই নোটিশ অনুযায়ী সে সব কলেজের হাতে নতুন করে ভরতির বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ বা ‘ডিসেন্ট্রালাইজেশন’। উচ্চ শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার মেধা তালিকার ভিত্তিতে ফাঁকা আসনগুলিতে পড়ুয়া ভরতি নেওয়া হবে বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিতে। এই ভরতির ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া’র সুফল মিলতে শুরু করল খড়্গপুর আইআইটিতে!

ইদানীং প্রতি বছরই রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে পড়ুয়া ভরতিতে ঘাটতি থেকে যায় বলে উচ্চ শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। কাউন্সেলিংযের মাধ্যমে ভরতির ক্ষেত্রে প্রতি বছরই মোট আসনের এক তৃতীয়াংশ পড়ুয়া ভরতি হয়। পরে বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিতে বাকি আসনে পড়ুয়া ভরতি করা হয়।

কেন এই প্রবণতা? এই প্রসঙ্গে উচ্চ শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে কৃতীরা চাকরি করবে কোথায়? শিল্প নেই, নতুন কোনো কল-কারখানা তৈরি হচ্ছে না। যে ক’টা হাতে গোনা শিল্প কারখানা আছে, সেগুলোর অবস্থাও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। শুধু এই রাজ্যেই নয়, সারা দেশেই এক অবস্থা। তা ছাড়া শিল্পে প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে, অটোমেশন দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন চাকরিভিত্তিক পাঠক্রম চালু হওয়ার ফলে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ুয়ার সংখা কমছে। এটা শুধু রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভরতির ক্ষেত্রেই নয়, সর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, “ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি কোর্সে ভরতির ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এই পাঠক্রমের জন্য ৩৩ হাজারের কিছু বেশি আসন রয়েছে। তৃতীয় দফার কাউন্সেলিংযের পর দেখা যাচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিভাগে মোট ১১৯৩৩টি আসনে পড়ুয়া ভরতি হয়েছে।

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (ম্যাকাউট) উপাচার্য সৈকত মৈত্র বলেন, “ভরতিপ্রক্রিয়া শেষ হতে অক্টোবর পার হয়ে যাবে। তার আগে ভরতির প্রবণতা বেশি না কম তা বলতে পারব না। এ সংক্রান্ত সব তথ্যই রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের কাছে থাকে।”

রাজ্যের অন্যতম পাঁচতারা বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিভাগে এখন ১৯৭টি আসন ফাঁকা আছে। এ বছরই ছাত্রভরতিতে প্রথম ‘ডোমিসাইল’ পদ্ধতি চালু করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তা-ও এখান থেকে মুখ ফেরাচ্ছে পড়ুয়ারা। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত ভরতিপ্রক্রিয়া চলবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৯৭ জন পড়ুয়া পাওয়া নিয়ে সংশয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাই আসন সংরক্ষণের বিষয়টি তুলে সমস্ত আসনই সাধারণের ভরতির জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here