job interview

ওয়েবডেস্ক: চাকরি যদি করতেই হয়, তবে ইন্টারভিউ এড়ানো কোনো মতেই সম্ভব নয়।  আবার কোনো একটা জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হওয়াও সম্ভব নয় যে ওই চাকরিটা অপেক্ষা করে রয়েছে আপনার জন্যই। তবুও নিজের জন্য একটা চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাকে শুরুতেই শেষ করে না দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তার জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া চাই।

পোশাক

ইন্টারভিউ কক্ষ এবং বাজার,  সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে থাকা দু’টো ক্ষেত্র। আপনি বাজারে গিয়ে ঠিক যেমনটা অগোছালো হয়ে পড়েন, ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে ততটাই পরিপাটি থাকতে হবে। ঠিকঠাক গ্রুমিং না হওয়া, অপেশাদারিত্ব বা অগোছাল সাজপোশাক ইন্টারভিউয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

টাকাকড়ি

ইন্টারভিউর শুরুতেই যদি আপনি বেতনের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তা হলে পুরো পরিকল্পনাটাকেই ভন্ডুল করে দিতে পারে। রয়ে-সয়ে তুলতে হবে এই প্রসঙ্গ। তা ছাড়া যে বা যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাঁদের মাথাতেও ব্যাপারটা রয়েছে। আর বেতনের অঙ্ক সম্পর্কে দ্বিধা থাকলে, সে বিষয়টাকে ঠেলে দিতে হবে টেবিলের ওপারের জন্য। তাঁরা আপনার প্রত্যাশাগুলো জানার আগ্রহ দেখাবেন তখনই, যখন আপনি অন্যান্য বিষয়গুলিতে তাঁদের প্রত্যাশা মেটাতে পারবেন।

মোবাইল

ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া মানে কি সমাজের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করে ফেলা? ‘আমি চাকরির ইন্টারভিউ দিচ্ছি’, এ ছাড়া আর আমার সামনে-পিছনে কিছু নেই? এমন চিন্তাভাবনা মোটেই সুখকর নয়। ইন্টারভিউর সময় মোবাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি কল আসে, তা হলে ভদ্র ভাবেই তাঁকে বলতে হবে, “আমি ইন্টারভিউ দিচ্ছি, কিছুক্ষণ পরে ফোন করছি”। আপনার নম্রতা এবং ধৈর্যর পরীক্ষাও পেয়ে যাবেন নিয়োকর্তা। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি ঠিক কেমন প্রকৃতির, সেটাও যাচাই করে দেখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনার করা পোস্ট বা অন্য কোনো পোস্টে আপনার মন্তব্যের দিকে নজর দিতে পারেন নিয়োগকর্তা।

দোষারোপ

এর আগে যদি কোনো কাজ করে থাকেন, সেটা ছাড়ছেন কেন। হতে পারে, আগের বস ভালো ছিলেন না, আগের কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীরা আপনার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতেন না ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো ইন্টারভিউতে তুলে ধরার মতো বিষয় নয়। কেউ যদি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, তবে আমার প্রতি তাঁর সদ্ব্যবহারের মানসিকতা গড়ে তোলার দায়িত্ব আমারই। নিয়োগকারী এই ধরনের প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেন।

সময়জ্ঞান

রাস্তায় যানজট ছিল, ঠিকানাটা অনেক লোককে জিজ্ঞাসা করেও বলতে পারেনি তাই এত দেরি হয়ে গেল-এ ধরনের কোনো অজুহাতই মানানসই নয় ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে। হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরোতে হবে। নিয়োগকারী আপনার মধ্যে খুঁত ধরার প্রথম কারণ হিসাবে দেরি করে পৌঁছোনোকেই ইস্যু করে ফেলতে পারেন। পেশাদারিত্বে এটাই স্বাভাবিক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here