অভিজিৎ ব্যানার্জি : 

বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করা হবে। যে সব পদগুলিতে নিয়োগ করা হবে, সেগুলি হল – গ্রাম পঞ্চায়েত সেক্রেটারি, গ্রাম পঞ্চায়েত সহায়ক, এগজিকিউটিভ অ্যাসিট্যান্ট, নির্মাণ সহায়ক, সমিতি এডুকেশন অফিসার, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক ইত্যাদি।

আমি এর আগের একটি লেখাতে কম্পিউটার নিয়ে লিখেছিলাম। এখন চাকরি পেতে গেলে তোমাকে যে কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটারের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। ওপরে ওই পদগুলির সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্র্যাজুয়েশন-এর  সঙ্গে  কম্পিউটার প্রশিক্ষিত হতে হবে। কম্পিউটারজ্ঞানের মধ্যে সাধারণত জানতে চাওয়া হয় – এমএস ওয়ার্ড, এমএস এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, পরিমিত টাইপিং স্পিড থাকতে হবে।

আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন করার আগে বিশদ ভাবে ওয়েবসাইট দেখে নাও। প্রত্যেক পদের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমে দেখবে তুমি সেই পদের যোগ্য কি না। তোমার যোগ্যতার সঙ্গে কোনো ভাবে না মিললে আবেদন করবে না। এখন হয়তো তোমাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু পরে কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে বাতিল করবে।

এ বার পরীক্ষা প্রসঙ্গে বলি —

পরীক্ষায় সাধারণত সব বিষয়ই থাকে। এখানে বাংলা ব্যাকরণ বিশেষ করে অসুবিধার সৃষ্টি করে। যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও তারা  ইংরাজিতে জোর দিলেও বাংলাকে গুরুত্ব দিতে ভুলে যাও। আর এখানেই বাংলা ব্যাকরণ নিয়ে অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়, যেমন সমাস, কারক, এক কথায় প্রকাশ, শুদ্ধ-অশুদ্ধ বানান, লিঙ্গ ইত্যাদি অর্থাৎ ব্যাকরণ বইতে যা আছে সব থাকবে। ইংরাজির ক্ষেত্রেও তাই। আর্টিক্যাল থেকে শুরু করে এক দম সবই। কোনোটাই বাদ দেওয়া যাবে না। একটা বিষয় থেকে ২০-২৫টা প্রশ্ন থাকবে। ভুল হলে নম্বর কাটা যাবে। বাংলা পরীক্ষা দেওয়ার সময় অনেকেই দৃঢ়ভাবে ভুল করে আসে। অনেক পরীক্ষার্থী দেখেছি বাংলা প্রশ্নের সব উত্তর  দিয়ে এসেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে বলে, বাংলা ভুল গেলেও একটা – দু’টো ভুল হবে। তার পর যখন উত্তর পরীক্ষা করা হল দেখা গেল ২০টার মধ্যে সে ৯টা ভুল করেছে। তা হলে তার প্রাপ্ত নম্বর কত হবে তা বুঝতে পারছ? যেখানে ১টা ভুলে ১ নম্বর কাটার কথা। অতএব খুব সাবধান।

সাধারণজ্ঞান মানে জিকে-এর ক্ষেত্রে জেলার জিকের ওপর বিশেষ প্রশ্ন থাকে। সরকারি কোনো প্রকল্প ওই জেলা হয় তবে খেয়াল রাখতে হবে। অন্য জেলায় যারা পরীক্ষা দেবে তারা সেই জেলাকে জানবে। একটা উদাহরণ – নির্মল বাংলা প্রকল্প প্রথম কোন জেলাতে সফল হয়? এমন রাজ্যভিত্তিক অনেক প্রকল্প আছে। সেগুলোর একটা তালিকা বানিয়ে রাখো ও সে সম্পর্কে জেনে নাও।

অঙ্ক মাধ্যমিক মানের অভ্যাস করবে। ত্রিকোণমিতির প্রশ্ন আসে না। সূচক বা করণীর অঙ্ক আসে না।

পরীক্ষা প্রস্তুতি নেবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে। এই পরীক্ষায় জিকে কিন্তু খুবই অসুবিধায় ফেলে। কারণ জেলার অনেক খবর বাজারের পত্রিকাগুলি পুরোপুরি তুলে ধরে না। অতএব তোমাকে জেলার ওয়েবসাইট বা অন্যান্য সূত্র বিশেষ করে দৈনিক খবরের কাগজ থেকে খবর সংগ্রহ করতে হবে। প্রত্যেক দিন জেলার খবর পড়বে। জেলার সম্পর্কে বিশদ ভাবে জেনে তা আলাদা ভাবে লিখে রাখবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here