কলকাতা:  বেসরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের কাছ থেকে নেওয়া ফি-এর সীমা নির্ধারণে স্ব-শাসিত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দফতর। এই সম্পর্কে তৈরি করা খসড়া রিপোর্টটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে জমা পড়তে পারে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই।

জানা গিয়েছে, সিবিএসই, সিআইএসসিই বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত ওই বেসরকারি স্কুলগুলির ফি কাঠামো নির্ধারণের কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিদেরও অন্তভুক্ত করা হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারের এই ধরনের পরিকল্পনায় বেসরকারি স্কুলগুলি কতটা সহযোগিতা করবে, সে বিষয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন উঠছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেসরকারি স্কুলগুলিকে মূলত চার থেক পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হবে। স্কুলগুলির উৎকর্ষতা, অবস্থান, শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর সংখ্যা-সহ অন্যান্য পরিষেবার নিরিখে  ওই পর্যায়গুলি নির্ধারণ করবে কমিশন। আবার প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক বা তার উপরের স্তরের পাঠদানের জন্যও ভিন্ন ভিন্ন কাঠামোর ফি নির্ধারণের পরিকল্পনা নেবে কমিশন। সরকারি ভাবে ওই ফি কাঠামো গঠন হয়ে যাওয়ার পর প্রতিটি স্কুলকেই ওই নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ওই ফি কাঠামো তুলে ধরতে হবে।

আপাতত স্থির হয়েছে, নির্ধারিত ওই ফি-এর থেকে বর্ধিত অর্থ স্কুল কর্তৃপক্ষ পড়ুয়ার অভিভাবকের কাছ থেকে দাবি করতে পারবেন না। কোনো অভিভাবক যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করেন তা হলে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ শাস্তি মূলক ব্যবস্থাও নিতে পারবে ওই কমিশন।

যদিও সরকারি এই সিদ্ধান্তে বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশ ইতিমধ্যেই তাঁদের অনীহার কথা জানিয়েছেন। সরকার যদি তাঁদের নেওয়া ফি বেঁধে দেয় তা হলে সব থেকে বেশি আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে তাঁদের। যদিও সরকার বলেছে, বছর প্রতি স্কুলগুলি ইচ্ছা করলে সর্বাধিক ১০ শতাংশ পর্যন্ত ফি বাড়াতে পারবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই খসড়া রিপোর্ট জমা না পড়া পর্যন্ত বিষয়টি তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন