VC, Presidency University
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে প্রেসিডেন্সির গেটে তালা মারার ঘটনা যে দুঃখজনক, তা লিখিত ভাবে স্বীকার করে নিল সাসপেন্ড হওয়া তিন জন-সহ আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। তার পরই তাদের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত তুলে নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ৩৩ ঘণ্টা বাদে ঘেরাও মুক্ত হলেন উপাচার্য, রেজিস্ট্রার-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া বলেন, “ওরা লিখিত ভাবে স্বীকার করেছে গেটে তালা মারার ঘটনা দুঃখজনক। আমরা ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রদের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য বলেছিলেন, আগে ক্ষমা চাইতে হবে, তার পরে আলোচনা। যদিও ছাত্ররা তাদের দাবিতে অনড় ছিল। তাদের বক্তব্য, আগে সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে, তার পরে আলোচনা। এক দিকে উপাচার্য, অন্য দিকে আন্দোলনরত ছাত্ররা। উভয়ের টানাপোড়েনে বুধবার সকাল ১০টা থেকে ফের ঘেরাও হয়ে রইলেন উপাচার্য, রেজিস্ট্রার-সহ অন্য আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন ‘আগে ক্ষমা চাইতে হবে, তার পর আলোচনা,’ ছাত্রদের প্রতি কঠোর বার্তা প্রেসিডেন্সির উপাচার্যের

তিন ছাত্রের সাসপেনশন তোলার দাবিতে গত শনিবার রাত থেকেই অনশনে বসেছিল প্রেসিডেন্সির ছয় পড়ুয়া। এদের মধ্যে সাসপেন্ড হওয়া তিন ছাত্রও ছিল। অবিলম্বে সাসপেনশন তোলার দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই তারা ডিন অব স্টুডেন্টস-সহ তদন্ত কমিটির সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে। বুধবার ছুটি থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য, রেজিস্ট্রার আসেন। দফায় দফায় আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে তাতেও কোনো সমাধান সূত্র মেলে না। বুধবার উপাচার্য বলেন, “ছাত্রদের আগে অনশন তুলতে হবে।” কিন্তু আন্দোলনরত ছাত্ররা তাঁর এই দাবি মানতে রাজি হয়নি।

বৃহস্পতিবার উপাচার্য বলেছিলেন, “ছাত্ররা যা করেছে, তা কোনো অবস্থাতেই ক্ষমা করতে পারি না। ওদের নিজেদের ভুল নিজেদেরই বুঝতে হবে। ওদের ক্ষমা চাইতে হবে। তার পর ইতিবাচক আলোচনার প্রশ্ন। আমরা অনেক বার ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি। যে ভাবে ওরা গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেছে সেটা অনৈতিক ও বেআইনি। ওরা এমন কিছু কাজ করে যা সংস্থার পক্ষে ভালো নয়। তাও আমরা মেনে নিই। আমরা ক্ষমা করেই যাব, আর ওরা যা খুশি করে যাবে, সেটা ঠিক নয়।”

আন্দোলনরত পড়ুয়াদের তরফে অর্ক পাল বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষ যদি ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে তা হলে ওদেরই আগে ক্ষমা চাওয়া উচিত। গেটে তালা দেওয়ার ঘটনায় ৪০০ জন পড়ুয়া ছিল। তা হলে সকলের শাস্তি হওয়া উচিত। শুধু তিন জনকে কেন শাস্তি দেওয়া হল? এই মর্মে দু’টি পৃথক স্মারকলিপিও উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়।

ছাত্রদের দাবি প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “হিন্দু হস্টেল নিয়ে আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছি। হিন্দু হস্টেলের সমস্যার জন্য আমার প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল না। ওই প্রসঙ্গে আবার যদি ক্ষমা চাইতে হয় আমি রাজি। কিন্তু গেটে তালা দিয়ে যে কাজ ওরা করেছে তার জন্য ওদের ক্ষমা চাইতে হবে।”

এর পর সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ ফের উপাচার্যের ঘরে সাসপেন্ড হওয়া তিন পড়ুয়াকে নিয়ে বৈঠক হয়। তার পরই সাসপেনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও ছাত্রদের দাবি, এই জয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জয়। আলোচনার মাধ্যমেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে ও তারাও আন্দোলন তুলে নিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here