সরকারি নির্দেশ অমান্য করে যাদবপুরে ভর্তির জন্য ছাত্র সংগঠনের হেল্প ডেস্ক

0
ju help desk
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হেল্প ডেস্ক। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: লুকিয়েচুরিয়ে নয়, প্রকাশ্যে নিয়মভঙ্গ। টাকা দাও, পুরোনো প্রশ্নপত্র নাও। সরকারের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হেল্প ডেস্ক। যদিও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের দাবি, যাদবপুরের ঐতিহ্যর কথা মাথায় রেখে এই হেল্প ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে।

রাজ্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত পাঁচ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরে ভর্তির জন্য প্রতি বছর হেল্প ডেস্ক তৈরি করা হয়। এ বছরও তার ব্যত্যয় হল না। কিন্তু এ বছর ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে পুরোপুরি অনলাইনে। ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো ছাত্র সংগঠন কোনো হেল্প ডেস্ক করতে পারবে না। যাবতীয় ভর্তিপ্রক্রিয়া চলবে অনলাইনে। এমনকি ভেরিফিকেশনও হবে ভর্তির পর। তার জন্য কোনো পড়ুয়াকে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে না।

কিন্তু মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেল অন্য ছবি। তৃণমূল ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি, এসএফআই, ডিএসও, আইসা-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন হেল্প ডেস্ক খুলেছে। আর সেখানে ভর্তি হতে আসা পড়ুয়াদের ডেকে এনে প্রকাশ্যেই টাকার বিনিময়ে আগেকার প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিলি করছে টিএমসিপি।

রাজ্য সরকারের স্পষ্ট বার্তা, ছাত্র সংগঠনগুলি ভর্তিপ্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকবে। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে লুকিয়েচুরিয়ে হেল্প ডেস্ক চললেও, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে প্রকাশ্যেই বসেছে হেল্প ডেস্ক। ভর্তি হতে আসা এক পড়ুয়া নিজেই জানালেন, দশ বছরের পুরোনো প্রশ্নপত্র নিয়েছেন হেল্প ডেস্ক থেকে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টিএমসিপির তরফে মেবার হুসেন বলেন, “আমরা সব কটি ছাত্র সংগঠন প্রত্যেক বছরের মতো এ বারেও ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে এই পরিষেবা খুলেছি। সারা রাজ্যের নিয়ম যাদবপুরে খাটে না। এখানে নিয়ম আলাদা। আমরা যদি ছাত্রছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষা আর ভর্তির ব্যাপারে সাহায্য না করি, তা হলে তারা অসুবিধায় পড়বে। আমরা যা করছি তা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই করছি।”

টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মেবার হুসেন বলেন, “আমরা তো আর নিজের পকেট থেকে টাকা দেব না। তাই পুরোনো প্রশ্নপত্র জেরক্স করার টাকা নিচ্ছি। এখানে আমাদের লাভ বা লোকসানের ব্যাপার নেই।”

সহ উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা শুধুমাত্র কলেজের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়। টাকা নিয়ে প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। সে যদি টাকা দিয়ে কেউ প্রশ্নপত্র নেয়, আমাদের কিছু করার নেই। পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে সব কিছু দেওয়া আছে, এমনকি পুরোনো প্রশ্নপত্রও।”

আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পোস্ট কার্ড পাঠানো শুরু করে দিল তৃণমূল

শুধু হেল্প ডেস্কই নয়, ভর্তি হতে ইচ্ছুকদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৩-৪ জন করে পড়ুয়ার নাম ও ফোন নম্বর দিয়ে হোর্ডিং লাগানো হয়েছে। এখানেই ভর্তিপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ক্যাম্পাসের ভিতরেই এ রকম নিয়মবহির্ভূত কাজ চলছে। অথচ কর্তৃপক্ষ কার্যত অসহায়।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. স্নেহমঞ্জু বসু বলেন, আমরা সব সময় এই বিষয়টির নিন্দা করি, ব্যাপারটিকে নিরুৎসাহ করি। এরা যে প্রশ্নপত্র বিক্রি করছে, জানা ছিল না। এই বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করব ও নিষেধ করব।”

গত বছর ছাত্র ভর্তি নিয়ে রাজ্য জুড়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আসরে নামতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। পদ গিয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রীর। গত বারের ছবিটা বদলাতে এ বছর সরকার সক্রিয় হলেও, বাস্তবের ছবিটা কি আদৌ বদলের ছবি?

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here