আগাছা সাফাই: নিকৃষ্টমানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করছে এনসিটিই

0
NCTE

ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতির খসড়ায় নিকৃষ্টমানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ বন্ধের পরামর্শ কার্যকর করছে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন বা এনসিটিই। কী কারণে এই উদ্যোগ?

এনসিটিই-র চেয়ারপার্সন সতবীর বেদী জানিয়েছেন, “মান বাড়ানোর জন্য পরিমাণ হ্রাস করা দরকার। এটা আজকের দিনে শিক্ষা এবং শিক্ষকদের মান বাড়ানোর জন্য একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ”।

তিনি বলেন, “এ দেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ১৯ লক্ষ পড়ুয়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু সার্বিক চাহিদা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রয়োজন মাত্র তিন লক্ষেরও কম। যে কারণে আমরা একটা মূল্যায়ন পদ্ধতি শুরু করেছি। আমরা চেষ্টা করছি কী ভাবে ভালো শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও ভালো করা যায়। কারণ, তৃতীয় মানের শিক্ষক তৈরি করে আখেরে কোনো লাভ নেই”।

গত শুক্রবার দ্বারকায় এনসিটিই-র নতুন প্রধান কার্যালয়ের দ্বারোদ্ঘাটন করে বেদী জানান, “আমরা এ ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শিক্ষকদের মানোনন্নয়ন করে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে অতীতের উৎকর্ষতা ফিরিয়ে নিয়ে আসার”।

সমসাময়িক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, “বর্তমানে দেশের সাড়ে ১৮ হাজার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ শিক্ষক দেশের ১৫ লক্ষ স্কুলে ২৫ কোটি পড়ুয়াকে শিক্ষা দিচ্ছেন”।

এ ব্যাপারে সমস্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির মান পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। সেখান থেকেই ঝাড়াই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিকৃষ্টমানের প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাতিল করা হবে। আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যেই এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হবে।

অন্য দিকে অল ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট কলেজেসের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের সদস্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ন’হাজার। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অশোক ব্যাস বলেন, “এগুলির মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ নিকৃষ্টমানের। যেগুলির মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে বাকিদের ‘রোগী’ হিসাবেই শুশ্রূষা করা প্রয়োজন। শুশ্রূষার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করা সম্ভব। পুরপুরো ছেটে ফেলা মোটেই সমস্যার সমাধান নয়”।

একই সঙ্গে এনসিটিই চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, “কয়েক দশক ধরে পাঠ্যক্রম অপরিবর্তিত রয়েছে। যে কারণে জরুরিভাবে আপগ্রেডেশন প্রয়োজন। পাঠ্যক্রমে আরও ব্যবহারিক উপাদান থাকা দরকার, ডিজিটাল অগ্রগতির সুবিধা নেওয়াও প্রয়োজন। সর্বোপরি, পাঠ্যক্রমে একটি ছোট্ট শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের দিকে নজর দেওয়া দরকার”।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here