প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করছেন রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠী।

নিজস্ব প্রতিনিধি : শিক্ষা প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘‘মন যখন বাড়িতে থাকে তখন তাহার চারি দিকে একটা বৃহৎ অবকাশ থাকা চাই।’’

সম্প্রতি এক গবেষণা বলেছে, পেশায় সাফল্য আনতে পারে শিক্ষার বহুমাত্রিকতা। এর ফলে মনের বিকাশ হয়। দক্ষ মন সমস্যার সমাধানে সক্ষম হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার এই বিষয় নিয়েই একটি সম্মেলন হয়ে গেল কলকাতার হায়াত রিজেন্সি হোটেলে। ‘একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা এবং শিক্ষা – বহুমাত্রিক দক্ষতার সৃজন’ শীর্ষক বার্ষিক শিক্ষা সম্মেলনটির আয়োজন করেছিল দ্য বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। তিনি বলেন, ‘‘সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আনতে হবে শিক্ষাতেও। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত ছাত্রকে নানা বিষয়ের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে নতুন নতুন সমস্যার সৃজনশীল সমাধানে সক্ষম করে তোলা।’’

সম্মেলনের শুরুতে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রির (বিসিসিআই) শিক্ষা কমিটির চেয়ারপার্সন এবং আইআইএইচএমের মুখ্য উপদেষ্টা সুবর্ণ বোস বলেন, ‘‘ডিজিট্যাল যুগে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি। বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে যে সব বেড়া রয়েছে প্রযুক্তি তা ভেঙে দিয়েছে। তাই নতুন যুগের শিক্ষা হল, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্য অবাধ চলাচলের সুযোগ খুলে দিয়ে কেরিয়ারের নানা সম্ভবনার পথ খুলে দেওয়া।’’

আরও পড়ুন সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা পড়ল সোলার এনার্জি সোসাইটি ও গুরু নানক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি

বিসিসিআই-এর শিক্ষা কমিটির কো-চেয়ারপার্সন, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য এবং টেকনো ইন্ডিয়া (Techno India) গ্রুপের অধিকর্তা সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত, প্রযুক্তির উপভোক্তা তৈরি না করে, উদ্ভাবক তৈরি করা।’’

কিন্তু উদ্ভাবন করেই কি থেমে যেতে হবে শিক্ষার্থীকে? তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ কি দেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি?

মঞ্চে রয়েছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ডঃ সূবর্ণ বোস, রাজ্যপাল, সত্যম রায়চৌধুরী, বিকাশ সিনহা এবং সিমরপ্রীত সিং

সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দিতে হবে তার উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কোনো শিক্ষার্থী যদি তার উদ্ভাবনকে নিয়ে স্বনির্ভর হতে চায় সে ক্ষেত্রে তাকে মূলধনের সহায়তাও করতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে।’’

মৌলনা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির উপাচার্য, অধ্যাপক সৈকত মিত্র বলেন, ‘‘ক্লাসরুমের ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। প্রথাগত ক্লাসরুমের জায়গা নিচ্ছে অনলাইন ক্লাসরুম। শিক্ষা ব্যাপারটাই ‘ক্লাউড’ সিস্টেমে চলে যাচ্ছে। কোনো ক্লাস না নিতে পারলে ‘ক্লাউড সিস্টেম’ থেকে পড়ে সেই ক্লাস করে যাচ্ছে।’’

তিনি আরও বলেন,‘‘ প্রথাগত শিক্ষা না থেকেও অনেকেই গুগুলের মতো সংস্থায় চাকরি পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে গুরুত্ব হারাতে পারে প্রথাগত শিক্ষা।’’

অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প–বাণিজ্য এবং ক্ষুদ্র শিল্প ও বস্ত্র দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “‌বিষয়ের গভীরে যাওয়া, বহু বিষয়ে দখল, কলা, সাহিত্যের কদর করা, দেশ–কাল–সমাজের সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করার মতো বিষয়গুলো খুব দরকার।”‌

বিসিসিআই-এর শিক্ষা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেআইএস গ্রুপের ডিরেক্টর সিমরপ্রীত সিং এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের ভূমিকা পরামর্শদাতার। সমস্যার সমাধানে ছাত্রদের দক্ষ এবং আরও উদ্যোগী হিসাবে গড়ে তুলতে গেলে ক্লাসরুমে তাদের মধ্যে ভাবনার পারস্পরিক আদানপ্রদানকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’’

শিক্ষা নিয়ে এই ধরনের আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কতটা তা নিয়ে খবর অনলাইনকে বললেন, জেআইএস গ্রুপের (jis group) জেনারেল ম্যানেজার বিদ্যুৎ মজুমদার

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগে প্রখ্যাত লেখক রাসকিন বন্ডের সঙ্গেও একটি কথোপকথনের আয়োজন করা হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে লেখককে ‘হল অফ ফেম’ পুরস্কার দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সেরেব্রাল পালসির উপাচার্য ডঃ সুধা কাউলকে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায়কে ‘উইমেন ইন এডুকেশন’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here