স্কুল বন্ধের ‘ভয়াবহ পরিণতি’! পড়াশোনা থেকে দূরে বড়ো অংশের শিশু: সমীক্ষা

0

নয়াদিল্লি: করোনা সংক্রমণের জেরে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই ঘটনার ‘ভয়াবহ পরিণতি’র ছবি। সমীক্ষকরা জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলের প্রায় ১৯ শতাংশ শিশু এখন পড়াশোনা করছে না।

সমীক্ষাটি চালিয়েছে স্কুল চিলড্রেন’স অনলাইন অ্যান্ড অফলাইন লার্নিং (SCHOOL) নামে এক সংস্থা। ‘লুকড আউট: ইমারজেন্সি রিপোর্ট অন স্কুল এডুকেশন’ শীর্ষক ওই সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ১,৪০০ পড়ুয়ার উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। দেশের ১৫টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালানো এই সমীক্ষাটি শেষ হয় গত আগস্ট মাসে। সমীক্ষা রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে সোমবার।

কী বলা হয়েছে রিপোর্টে?

সমীক্ষা থেকে যে ছবি উঠে এসেছে তাকে ‘পুরোপুরি হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গ্রামাঞ্চলের মাত্র ২৮ শতাংশ পড়ুয়া নিয়মিত পড়াশোনা করছে। অন্য দিকে, ৩৭ শতাংশ পড়াশোনা করছে না।

এ ব্যাপারে একটি সাধারণ পঠন পরীক্ষার ফলাফল বিশেষ ভাবে উদ্বেগজনক। অংশগ্রহণকারী প্রায় অর্ধেক শিশু কয়েকটি শব্দের বেশি পড়তে পারেনি।

অন্য দিকে, শহরাঞ্চলে নিয়মিত পড়াশোনা করছে, পড়াশোনা করছে না এবং কয়েকটি শব্দের বেশি পড়তে পারে না এমন পড়ুয়ার হার যথাক্রমে ৪৭ শতাংশ, ১৯ শতাংশ এবং ৪২ শতাংশ।

সমীক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত গ্রামগুলিতে। যেখানে শিশুরা সাধারণত সরকারি স্কুলের উপর নির্ভরশীল।

গত ২০২০ সালের মার্চ থেকেই করোনা মহামারির কারণে বন্ধ রয়েছে স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখে বেশ কিছু রাজ্য একাধিক বার স্কুল খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ফের নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় বন্ধ করে দেওয়ার নজিরও রয়েছে। এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লাগাম পড়ায় সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে স্কুল খোলার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, শহরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলের যথাক্রমে ২৪ শতাংশ এবং আট শতাংশ শিশু অনলাইনে ক্লাস করছে। টাকা-পয়সার অভাব, নেট সংযোগের অভাব এবং স্মার্টফোন না থাকার কারণে অনলাইন ক্লাসের সুবিধা পাচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক শিশু। এমনটা তথ্যই উঠে এসেছে সমীক্ষায়।

স্মার্টফোন নেই অর্ধেকের

সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, গ্রামীণ এলাকার প্রায় অর্ধেক পরিবারের কাছে নেই স্মার্টফোন। অনলাইন ক্লাসে অংশ না নেওয়ার অন্যতম কারণ এটাই। আবার যে সব পরিবারে স্মার্টফোন রয়েছে, তাদের মধ্যে শহরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া শিশুর হার যথাক্রমে ৩১ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ। কারণ বেশিরভাগ পরিবারেই স্মার্টফোনের ব্যবহার সীমাবদ্ধ প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে।

এ ব্যাপারে সমীক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, দলিত এবং আদিবাসী পরিবারগুলির মতো সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষেত্রে নিয়মিত অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

তাৎক্ষণিক ভাবে গ্রামাঞ্চলের তফসিলি জাতি এবং উপজাতি পরিবারের মাত্র চার শতাংশ শিশু অনলাইন ক্লাসে নিয়মিত ভাবে অংশ নিয়ে থাকে। যেটা গ্রামীণ এলাকার অন্যান্য শিশুদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলির সিংহভাগের মতে, লকডাউনের কারণে তাঁদের শিশুরা লেখাপড়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। অনলাইনে ক্লাসের উপকারিতা নিয়ে সন্দিহান শহরাঞ্চলের অভিভাবকদের ৬৫ শতাংশই দুরবস্থার জন্য এই কারণকেই দুষেছেন।

শিক্ষা সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পড়তে পারেন এখানে:

মাধ্যমিকে নম্বরের গড় ২৫-২৯ শতাংশ হলেই একাদশের মার্কশিটে তা ৩০ শতাংশ হিসেবে গ্রাহ্য হবে, নয়া বিজ্ঞপ্তি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের

কাজ পাননি এমন গ্র্যাজুয়েট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের সুযোগ

GATE 2022: আইআইটি-র আবেদন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, জানুন যোগ্যতা, ফি-সহ বিস্তারিত

উচ্চশিক্ষার জন্য বার্ষিক ৪৮ হাজার টাকার ওএনজিসি স্কলারশিপ, জানুন খুঁটিনাটি

আপনার বেতন কি শুধু মাস চালানোর মতন? IIM কলকাতায় ভর্তি হন!

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন