GNIT-SESI tie up
অনুষ্ঠানে উপস্থিত (বাঁ দিক থেকে) ড. এস এম আলি, প্রফেসর প্রফুল্ল পাঠক, প্রফেসর ড. আশিস মালিক, ড. শান্তনু কুমার সেন এবং জিএনআইটি-র ডিরেক্টর প্রফেসর ড. অন্নপূর্ণা দাস। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: উদীয়মান শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত মানের প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষা জগতের ব্যক্তিত্বদের সেতু বাঁধার যে প্রক্রিয়া চলছে তারই অঙ্গ হিসাবে দিল্লির সোলার এনার্জি সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার (সেসি) সঙ্গে গুরু নানক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (জিএনআইটি) এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি হল। আজকের বিশ্বে সব চেয়ে আলোচিত বিষয় হল ‘এনার্জি সাসটেনেবিলিটি’। এই বিষয়ে ছাত্রদের ক্রিয়াকলাপ আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক রচিত হল।

সম্প্রতি জেআইএস গ্রুপের অগ্রণী কলেজ জিএনআইটি-র ক্যাম্পাসে এই উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জিএনআইটি-র অধ্যক্ষ ড.  শান্তনু কুমার সেন জানান, জিএনআইটি আজ থেকে সেসি-র ‘আজীবন প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য’ হল। একই সঙ্গে ‘স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার অব সেসি’রও সূচনা হল আজ থেকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেসি-র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর প্রফুল্ল পাঠক ও সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর ড. আশিস মালিক এবং ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর অধিকর্তা ড. এস এম আলি। এ ধরনের উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বলে জানালেন ড. সেন।

ওই দিন একই সঙ্গে জিএনআইটি-এ খোলা হল সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন (এসসিএডিএ) ল্যাব এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব। নতুন ও উত্থানশীল ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন কার্যকলাপে ছাত্রদের নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই এই ল্যাবরেটরি দু’টি খোলা হল।

আরও পড়ুন মানবকল্যাণে জৈবপ্রযুক্তি বিষয়ে আলোচনাচক্র জেআইএস ইউনিভার্সিটিতে

জিএনআইটি-এর ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জে কে দাস বলেন, “আমাদের ছাত্রদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্যই এই ল্যাবের ব্যবস্থা করা হল। জল, বিদ্যুৎ, ইস্পাত, খনি প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে রিমোট সিস্টেম চালু আছে তার প্রক্রিয়া জাতে ছাত্ররা সহজেই বুঝতে পারে সেই কারণেই এই ল্যাব দু’টো খোলা হল। পশ্চিমবঙ্গে খড়গপুর আইআইটি-র পর একমাত্র জিএনআইটি-তে বিটেক স্তরে এই সুবিধার ব্যবস্থা হল।”

জেআইএস গ্রুপের এমডি সর্দার তরণজিৎ সিং বলেন, “বিশ্বব্যাপী মেধার জগতে গত কয়েক বছর ধরে সফল পেশাদার সরবরাহ করে জিএনআইটি গর্বিত। জিএনআইটি-এর ছাত্ররা আজ নিজেদের দেশে এবং ইউরোপ, আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে চলেছে এবং তার জন্য তারা পুরস্কৃতও হচ্ছে।”

সেসি-র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর প্রফুল্ল পাঠক বলেন, “যে দিন থেকে ভারত সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি ছেড়ে স্বচ্ছ পরিষ্কার শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দিনই সৌরশক্তি একটা প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনটা যে জিএনআইটি বুঝেছে এবং নতুন ক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের ছাত্রদের পরিচিত করানোর জন্য নতুন নতুন সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা করছে তার জন্য আমি জিএনআইটি কর্তৃপক্ষ এবং অধ্যাপক সেনের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাই।”

সেসি-র সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর ড.  আশিস মালিক বলেন, “আজকের ছাত্ররা আগামী দিনের মশালবাহক। সৌরশক্তির ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার ২০৩০-এর মধ্যে বৈদ্যুতিক মোডে চলে যেতে চায়। আজ সৌরশক্তির ক্ষেত্রে এফিসিয়েন্সি ১৭% বটে, কিন্তু ২০৫০-এ এই এফিসিয়েন্সি মাত্রা ১০০% ছোঁবে। আজকের দিনের ছাত্ররা ভবিষ্যতে প্রভূত সুযোগ পাবে।”

ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর অধিকর্তা ড. এস এম আলি বলেন, “২০৩০-এ বিশ্ব জুড়ে কোনো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে না। তাপমাত্রা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। যে বিদ্যুৎশক্তি স্বচ্ছ এবং সুবিধাজনক, সেই বিকল্প শক্তি উৎপাদনে ভাবী ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে আজকের ছাত্ররা সৃজনশীল উপায় উদ্ভাবন করতে পারে। মূল ক্ষেত্রে চাকরির বদলে গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে ব্রতী হওয়ার জন্য আমি ছাত্রদের পরামর্শ দিচ্ছি।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ফ্যাকাল্টি, রিসার্চ স্কলার ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here