protesting teachers of RBU
রবীন্দ্রভারতীতে প্রতিবাদী শিক্ষকরা।

কলকাতা: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতপাতের জেরে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে এ বার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আসরে নামলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর হস্তক্ষেপে ইস্তফা দেওয়া অধ্যাপকরা ইস্তফাপত্র ফিরিয়ে নিতে পারেন। এ দিন বৈঠক শেষে মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, রবীন্দ্রনাথের নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এই ধরনের অভিযোগ আসে, তাতে যদি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কেউ অভিযুক্ত হয়, তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে ছাত্রদের।

আরও পড়ুন দাবানল একটি সাংঘাতিক বিষয়, বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করুন: সুপ্রিম কোর্ট

বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতপাত তুলে ৫ জন অধ্যাপককে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে সোমবার চার জন বিভাগীয় প্রধান ও আরও তিনটি স্টাডি সেন্টারের অধিকর্তারা ইস্তফা দেন। গত ২৩ মে একজন অধ্যাপিকা ইস্তফা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই অধ্যাপিকাকে তাঁর গায়ের রং তুলে হেনস্তা করা হয় এবং তাঁকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিচালিত ছাত্র সংসদের সদস্য।

যাঁরা পদত্যাগ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এডুকেশন-এর বিভাগীয় প্রধান ড. ভারতী ব্যানার্জি, সংস্কৃতের বিভাগীয় প্রধান ড. অমল কুমার মণ্ডল, ইকোনমিকসের বিভাগীয় প্রধান ড. বিন্দি শ এবং পলিটিক্যাল সায়েন্স-এর বিভাগীয় প্রধান ড. বঙ্কিম চন্দ্র মণ্ডল। এ ছাড়াও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত অম্বেডকর স্টাডি সেন্টার, বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার এবং স্কুল অব ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার-এর অধিকর্তারাও ইস্তফা দিয়েছেন।

কিন্তু যে তৃণমূল ছাত্র সংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বক্তব্য, তারা এই বিষয়টিতে কোনো ভাবেই জড়িত নয়। তারা তদন্ত চায়। তাদের বক্তব্য, তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে‌।

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার দুপুরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং ঘণ্টাখানেক ধরে ইস্তফা দেওয়া চার বিভাগীয় প্রধান, তিন ডিন এবং উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান করতে হবে। জাতপাতের ইঙ্গিতের ঘটনায় অপমানিত শিক্ষকশিক্ষিকাদের কাছে অবিলম্বে পড়ুয়াদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভুল স্বীকার করতে হবে। সূত্রের খবর, অপমানিত শিক্ষকশিক্ষিকাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং ইস্তফা প্রত্যাহারের আবেদনও জানান।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের ছাত্র সংসদের কোনো ছাত্রের বিরুদ্ধে যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে তাড়িয়ে দেব। আমাদের শিক্ষা দফতর এবং সরকার কোনো অবস্থাতেই ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে কেউ কাউকে অসম্মান করুক, এটা কখনও মেনে নেবে না। রবীন্দ্রনাথের নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের ঘটনার কথা শুনছি, তা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের পক্ষে ভালো নয়।”

আরও পড়ুন অন্য নাগরিকের টাকায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দিতে পারি না: সুপ্রিম কোর্ট

বৈঠক শেষে এ দিন অধ্যাপকরা জানান, তাঁরা মন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন। তাঁদের পদত্যাগ প্রত্যাহারের জন্য উপাচার্যকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে। তবে এর পরও যদি তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়, তখন তাঁরা মন্ত্রীর কাছেই যাবেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এ দিন শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষকেই বলেন, এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে ফল প্রকাশ করা হবে।

যে অধ্যাপকদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তাঁরা নিজেদের অপমানের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স রুমের ভিতরে লেখা, ‘আমি গর্বের সঙ্গে বলি, আমার একটা জাত। আমি শিক্ষক’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক বলেন, “পরপর যে ঘটনা ঘটছে, তাতে দলিত সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে।” তিনি তাঁর বক্তব্য জানাতে গিতে প্রায় কেঁদে ফেলেন। বলেন, “আমি আমার পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছি। সেই সময় ছাত্র ইউনিয়নের ৩০-৪০ জন এসে বলে, ব্যবহারিক খাতায় সই করে দিন। এই সময় আমার জাত তুলে অপমান করা হয়। ভয়ে আমি চুপ করে ছিলাম। এখন চার দিকে যা শুনছি, যা দেখছি, তাতে আর চুপ করে থাকা যাবে না।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here