কলকাতা: এ বার সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং-এর ওপর জোর দিতে চলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (ডব্লিউইউবিটি)। উদ্দেশ্য, আরও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রছাত্রীরা যেন চাকরির উপযুক্ত হয়ে ওঠে। ডব্লিউইউবিটি-র বিভিন্ন কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ডব্লিউইউবিটি-এর উপাচার্য সৈকত মিত্র বলেন, আজকাল যে সব কোম্পানি কর্মী নিয়োগ করে, তারা চায় কর্মীরা যেন প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারগত প্রশিক্ষণে নিপুণ হয়। সৈকতবাবু দেখেছেন, ছাত্রছাত্রীদের সফটওয়্যার প্রশিক্ষণে তেমন আগ্রহ নেই। তিনি মনে করেন, উন্নতমানের প্রজেক্ট তৈরির মাধ্যমে আগ্রহ বাড়ানো দরকার।

সৈকতবাবু মনে করেন, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রছাত্রীরা বেশির ভাগই পুথিগত শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি হাতেকলমে শিক্ষার ওপরেও জোর দেওয়া দরকার। এ জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে সুশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য উন্নতমানের জাভা প্রোগ্রামিং শেখানো দরকার। এ ছাড়া এখন মোবাইল টেকনোলজিকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অ্যান্ড্রয়েড বেসড টেকনোলজি প্রোগ্রাম হাতেকলমে শেখানো দরকার।

ডব্লিউইউবিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নতমানের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ক্লাস মে মাস থেকেই শুরু করার চিন্তাভাবনা চলছে। ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কেন্দ্রে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এবং দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ক্লাস হবে। প্রথম ধাপে ৩০০ পড়ুয়াকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে চাইছে ডব্লিউইউবিটি। প্রথম ধাপে ক্লাস শুরু করার চিন্তাভাবনা চলছে শিলিগুড়ি, হাওড়া, আসানসোল, হুগলি ও নদিয়ায়।

উপাচার্য জানান, “ কোনো ভাবেই যাতে সাধারণ ক্লাসের ক্ষতি না হয়, সে সব খতিয়ে দেখে এই প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে। শীঘ্রই এ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে। তাঁদের জানানো হবে, প্রশিক্ষণে কী ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়াও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট কোর্স চালু করার কথা ভাবছে। পাশ করেও যাঁরা চাকরি পাননি, উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। যাঁরা বোর্ড অব অ্যাপ্লায়েড ট্রেনিং-এর মাধ্যমে আবেদন করবেন, তাঁদের ১০ হাজার টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়ারও ব্যবস্থা করছে বিশ্ববিদ্যালয়।       

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here