ওয়েবডেস্ক: উলটো ঘটনাটার সঙ্গে আমি আপনি সবাই পরিচিত। হলিউড থেকে অনুপ্রাণিত ছবি এখন আকছার হয় হিন্দিতে। তার মধ্যে বেশ কিছুকে আবার ইংরেজি ছবির হিন্দি অনুবাদ বললেও চলে। কিন্তু বলিউড থেকে থিম ধার করে তৈরি হওয়া ইংরেজি ছবির কথা সচরাচর শোনা যায় না তো! তাই বলে কি সে রকম হয় না? বেশ হয়। এই রকম খান দশেক ছবির কথা উল্লেখ করা হল খবর অনলাইনের পাঠকদের জন্য।

ফিয়ার: ডর

শাহরুখের ক-ক-ক-কিরন বলে ডাক, কে না মনে রেখেছে? অনেকে বলে ডর ছবি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দিতে তৈরি হয়েছিল ফিয়ার। তবে কি না, একেবারে হুবুহু মিল কিন্তু নেই দু’টি ছবির মধ্যে। তবে নায়কের চরিত্র দু’টি বেশ এক রকম, রাগী, মাথা গরম স্বভাব, প্রেমিকাকে নিয়ে পজেসিভ। দুই নায়কের বুকেই খোদাই করা প্রেমিকার নাম।

লিপ ইয়ার: জব উই মেট

শেষ এক দশকে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে আইকনিক হয়ে উঠেছে গীত আর আদিত্য কাশ্যপের জুটি। বাড়ি থেকে পালানো প্রেমিকের জন্য। অথচ জীবনের গল্প মোড় নিল অন্য দিকে, অন্য এক পুরুষের প্রতি টান, এবং তা নিয়েই রোমান্টিক ড্রামা। ইমতিয়াজ আলির হট ফেবারিট টপিক। একই ধাঁচে ‘লিপ ইয়ার’ ছবিটি বানিয়েছেন আনন্দ টাকার। তিনি নিজে তা স্বীকারও করেছেন। ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, ‘লিপ ইয়ার’ তাঁর মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

ব্রোকেন হর্স: পারিন্দা

‘তুমসে মিলকে, অ্যায়সা লাগা তুমসে মিলকে/ আরমা হুয়ে পুরে দিলকে’ ৯০-এর দশকের লাভ অ্যান্থেমে পরিণত হয়েছিল আশা -র গাওয়া এই গান। অনিল-মাধুরী জুটি তখন বলিউড কাঁপাচ্ছে। পারিন্দা ছবির আদলে তৈরি হল মার্কিন ছবি ‘ব্রোকেন হর্স’। যদিও ‘পারিন্দা’র মতো জনপ্রিয় হয়নি সে ছবি।

‘দ্য রিইনকারনেশন অব পিটার প্রাউড’: ‘মধুমতী’

১৯৫৮ সালের এই সিনেমা দর্শকের মনে আছে বেশ কিছু কারণে, বিমল রায়ের পরিচালনা, বৈজয়ন্তী মালা-দিলীপ কুমার জুটি, সলিল চৌধুরীর সুরে অসাধারণ সব কালজয়ী গান। বেশ কিছু বছর পর এই ছবির আদলেই হিন্দিতে আবারও তৈরি হল একটি সিনেমা- কর্জ। আর হলিউডে তৈরি হল ‘দ্য রিইনকারনেশন অব পিটার প্রাউড’।

‘ডাইভর্স ইনভিটেশন’: আহ্বানম

পরিচালক এসভি কৃষ্ণ রেড্ডি তেলুগুতে বানিয়েছিলেন আসল ছবিটি। পরে ১৫ বছর পর মার্কিন সংস্করণ বানানো হলেও তেলুগু ছবিটির মতো জনপ্রিয় হয়নি মোটেও।

এ কমন ম্যান: এ ওয়েডনেস ডে

নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত এবং পাণ্ডে পরিচালিত ‘এ ওয়েডনেস ডে’ ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল মুক্তির পর পরই। এমন অভিনব ভাবনা ঘিরে ছবি, যে সহজেই নজর কেড়েছিল আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও। হলিউডের ছবিটি হয় শ্রীলঙ্কা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায়। কমন ম্যানের ভূমিকায় অবশ্যই অস্কারজয়ী বেন কিন্সলে। এই ছবিটিও নজর কেড়েছিল দর্শকদের।

কিল: বিল অভয়

কমল হাসন নিজে প্রচুর হলিউডের ছবি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন প্রায়শই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উলটোটাই হয়েছে। কুয়েনটিন টারানটিনো নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন কিল বিলের অ্যানিমেশন দ্রিশ্যগুলো হাসনের ‘অভয়’ দ্বারা অনুপ্রাণিত।

‘ফরটি শেডস অব ব্লু’: চারুলতা

রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প নষ্টনীড় অবলম্বনে সত্যজিৎ বানিয়েছিলেন চারুলতা। এই সময়ে দাঁড়িয়েও সত্যজিতের ছবি দেশ, কাল, সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে প্রভাবিত করছে বহু পরিচালককে। পরিচালক ইরা স্যাক্স সে রকমই এক জন। ২০০৫ সালে চারুলতার ধাঁচে বানিয়ে ফেললেন ‘ফরটি শেডস অব ব্লু’। বক্স অফিস এবং সমালোচক মহল, দু’ জায়গাতেই যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল এই ছবি।

‘উইন এ ডেট উইথ হ্যামিল্টন’: ‘রঙ্গিলা’

ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নিয়ে ছবি। ঊর্মিলা অভিনীত ছবির সঙ্গে হলিউডের এই সিনেমার ফারাক শুধু শেষটায়। বাকিটা প্রায় একই রকম।

‘ইটি’: বঙ্কুবাবুর বন্ধু

আবারও সত্যজিৎ। ভিন গ্রহের প্রাণীকে নিয়ে নিজেই গল্প লিখেছিলেন তিনি।বঙ্কুবাবুর বন্ধু। সেখান থেকে ছবি তৈরি করবেন বলে গল্পের চিত্রনাট্য রূপ দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অজানা কারণে ছবিটি তৈরি হয়নি। সেই চিত্রনাট্যের সঙ্গে আশ্চর্য রকম মিল রয়েছে, এমন ছবি তৈরি করলেন স্পিলবার্গ। সে ছবি সাড়া ফেল সারা বিশ্বে। নাম ‘ইটি’। তবে স্পিলবার্গ যদিও স্বীকার করেননি এই মিলের কথা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here