৬০ ও ৭০ দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন মুমতাজ (Mumtaz)। তাঁকে নিজের যুগের সুপারহিট অভিনেত্রীদের মধ্যে গণ্য করা হয়। সুন্দর চোখ, ফর্সা চেহারা এবং অভিনয় শিল্পে মুমতাজ তাঁর জাদু ছড়িয়েছিলেন সবার মধ্যে।

মুমতাজ যখনই বড়ো পর্দায় নিজের লাজুক স্টাইল নিয়ে আসতেন, দর্শকরা তাঁকে নিয়ে পাগল হয়ে যেতেন। তাঁর সৌন্দর্যে শুধু দর্শকদেরই নয়, ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড়ো বড়ো তারকারাও অভিনেত্রীর সৌন্দর্যে অভিভূত ছিলেন। বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা শাম্মী কপূর (Shammi Kapoor) এবং মুমতাজের বিখ্যাত গান ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ার কে চর্চে’ এখনও মানুষের মুখে মুখে। তাঁদের দু’জনের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি সেই সময়ে দর্শকদের হৃদয় কেড়ে নিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে এই জুটি হয়ে ওঠেন দর্শকদের অন্যতম প্রিয় জুটি। এই গানটি ছিল বলিউডের হিট ছবি ‘ব্রহ্মচারী’-এর। ব্রহ্মচারী ছিল প্রথম এবং একমাত্র চলচ্চিত্র যেখানে শাম্মী কাজ করেছিলেন মুমতাজের সঙ্গে ।

শুধুমাত্র এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময়, মুমতাজের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন শাম্মী। এই ছবির শুটিং চলাকালীনই মুমতাজ শাম্মীকে বলেছিলেন যে তিনি তাঁর প্রেমে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, শাম্মী ছিলেন মুমতাজের প্রথম ক্রাশ। শাম্মী যখন মমতাজের মনের কথা জানতে পারলেন তখন তিনি খুব খুশি হন এবং তাঁর ঝোঁকও মুমতাজের দিকে বাড়তে থাকে। ছবির শুটিংয়ের সময় কাছাকাছি আসা দু’জনের প্রেমের গল্প সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁদের প্রেমের গল্প বলিউডের শিরোনামে ছিলেন। এমনকী দু’জনের বয়সের ব্যবধানও ভালোবাসার অন্তরায় হয়নি। এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মমতাজের খুব কাছাকাছি চলে আসেন শাম্মী। বহু বছর সম্পর্কে থাকার পর একদিন মুমতাজকে প্রপোজ করার সময় নিজের মনের কথা বলে ফেলেন শাম্মী। অভিনেত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে শাম্মী চলচ্চিত্রে কাজ না করার কথা জানিয়ে দেন। সেই সময় মুমতাজের বয়স ছিল ১৭ বছর এবং তিনি বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম করছিলেন। শাম্মীর এই শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব শুনে মুমতাজ স্তব্ধ হয়ে যান।

মুমতাজ তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হননি। শাম্মী তাঁর থেকে ২০ বছরের বড়ো এবং একজন সফল শিল্পীও ছিলেন, কিন্তু মুমতাজের সামনে দীর্ঘ কেরিয়ার ছিল। এর পর শাম্মীর মন ভেঙে যায়। তিনি কোনো নায়িকাকে বিয়ে না করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে নীলা দেবীকে বিয়ে করেন। ১৯৭৪ সালে মুমতাজ ময়ুর মাধওয়ানিকেও বিয়ে করেন।

মুমতাজ মাত্র ১২ বছর বয়সে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেছিলেন। যদিও প্রথমদিকে মুমতাজকে শুধুমাত্র পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করা হয়েছিল, কিন্তু মুমতাজের স্বপ্ন ছিল নায়িকা হওয়ার। মুমতাজ দারা সিংয়ের সঙ্গে ১৬টি ছবি করেন। এই ১৬টির মধ্যে ১০টি চলচ্চিত্র হিট করে। এর পর অনেক তারকা অভিনেতার সঙ্গে তার জুটি বাঁধেন।

রাজেশ খান্নার সঙ্গে মুমতাজের জুটি সবচেয়ে বেশি হিট হয়েছিল। কাকা ও মুমতাজকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা সাফল্যের নিশ্চয়তা বলে মনে করা হতো। এই জুটি ‘দো রাস্তে’, ‘সাচ্চা-ঘুথা’, ‘আপকি কসম’, ‘আপনা দেশ’, ‘প্রেম কাহানি’, ‘দুশমন’, ‘বন্ধন’ এবং ‘রোটি’-এর মতো সফল এবং স্মরণীয় ছবিতে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, দু’জনের ওপর নির্মিত গানগুলোও সুপারহিট হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন :

বিপাকে পপ গায়িকা শাকিরা, ৮ বছরের জন্য জেল হতে পারে!

লোকাল ট্রেনের কামরায় দেখা মিলল ‘লাইগার’ জুটির

৪ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে ফাংশানে গান গেয়েছেন সোনু নিগম

দাউদের সঙ্গে পরিচিতিই কি শেষ করে দেয় মন্দাকিনির কেরিয়ার?

কিচ্ছা সুদীপের সাড়া জাগানো ছবিগুলো কী জানেন?

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন