মুম্বই: ‘কহতে হ্যায় মুঝকো হাওয়া হাওয়াই’। গত শতকের নব্বইয়ের পরে যারা জন্মেছেন। যাদের খুব একটা পুরোনো সিনেমা দেখার অভ্যাস নেই। তেমন আগ্রহ নেই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস-চর্চার। তাঁরাও বহুবার শুনেছেন এই গানটি। এখনও শোনেন। বহু সুপার হিট ছবির নায়িকা হওয়া সত্ত্বেও এই গানটাই শ্রীদেবীর কবচকুণ্ডল।

 

অনেকেই জানেন না, ভারতীয় সিনেমার শতবর্ষে সর্বকালের সেরা ১০০টি ভারতীয় ছবির তালিকায় স্থান করে নিয়েছিল শেখর কাপুর পরিচালিত কাল্ট-ক্ল্যাসিক সায়েন্স ফিকশন ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। শোলে এবং বহু সুপারহিট হিন্দি ছবির চিত্রনাট্যকার জুটি সেলিম-জাভেদ একসঙ্গে কাজ করা ছেড়ে দিয়েছিলেন ১৯৮২ সালে। তারপর তাঁরা ফের একটি ছবির জন্যই একসঙ্গে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। ১৯৮৭ সালে অনিল কাপুর-শ্রীদেবীর ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে। ছবির গান লিখেছিলেন জাভেদ আখতার আর চমৎকার সুরগুলি ছিল লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলালের।

 

ছবির নায়কের ভূমিকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খন্নাকে। ওরা কেউ রাজি হননি। কারণ অদৃশ্য হিরোর চরিত্রে বিশ্বাসী ছিলেন না ওরা। হ্যাঁ। এই ছবির নায়ক অনিল কাপুরের(অরুণ) কাছে এমন একটি হাতঘড়ি ছিল, যেটাকে সক্রিয় করলেই নায়ক অদৃশ্য হয়ে যেত। তাঁকে দেখা যেত, শুধুমাত্র তাঁর শরীরে লাল আলো পড়লে।

এত কথা এই জন্যই বলা যে, ছবিটির সিক্যুয়েল করতে চলেছেন বনি কাপুর। অনিল-শ্রীদেবী তো থাকবেনই। তবে তরুণ চরিত্রগুলিতে কারা অভিনয় করবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি। শেখর কাপুর ছবি পরিচালনায় রাজি নন। এই ছবিটি পরিচালনা করবেন রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা ও রবি উদ্যাওয়ার।

মিস্টার ইন্ডিয়ার প্রযোজক বনি কাপুর বোম্বে টাইমসকে বলেছেন, ছবিটি যে হবে তা নিশ্চিত তবে ফিল্মের সঙ্গে জড়িত সবকটি বিষয় সৃজনশীল ভাবে সমাধান করার পরই সরকারি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ছবির প্লট ঠিক হয়ে গেছে। মিস্টার ইন্ডিয়া যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে ছবিটি এগিয়ে যাবে। শুধুমাত্র সিক্যুয়েল করার জন্যই এই ছবিটি তৈরি করা হচ্ছে না।

সবই থাকবে। থাকবেনা শুধু একজনই। মোগাম্বো। ‘মোগাম্বো খুশ হুয়া’ বলতে শোনা যাবে না ওমরীশ পুরীকে। ভারতীয় সিনেমার সর্বকালের অন্যতম সেরা সেই ভিলেন চরিত্রটিকে আর দেখতে পাবেন না তরুণ চলচ্চিত্রমোদীরা। কে নেবেন তাঁর জায়গা? আগ্রহ থাকবেই।

 

উদারীকরণ-বেসরকারিকরণ-বিশ্বায়ন পূর্ববর্তী যে অশুভ শক্তি সে সময় ভারত দখল করতে চেয়েছিল, তাঁরা নবরূপে কীভাবে ধরা দেন এই নতুন সময়ে, জানতে আগ্রহ থাকবে দর্শকদের। আগ্রহ থাকবে ৩০ বছর আগের অরুণ-সীমার মধ্যবিত্ত বন্ধুতা যে লড়াই লড়েছিল, আজ তা কীভাবে অনুপ্রাণিত করবে নবীন প্রজন্মকে, সেটা জানারও।

ভারতীয় দর্শক কি সব ভুলে কিংবা সব পাওয়ার আনন্দে আরও একবার মিস্টার ইন্ডিয়াকে বলে উঠবে, ‘লো আজ ম্যায় কহতি হুঁ….আই লাভ ইউ’?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here