anirban chaudhury
অনির্বাণ চৌধুরী

এটা কি হতাশা এবং ক্রোধের বহির্প্রকাশ?

ঠিক এই প্রশ্নটাই এখন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে কলকাতার মননশীল মহল!

দিন সাতেকও হয়নি, এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের সহধর্মিণী সুরমা ঘটক। অর্থাৎ, প্রয়াত পরিচালককে নিয়ে যা খুশি বলার অধিকার যেন এসে গিয়েছে হাতের মুঠোয়। কেন না, কোনটা সত্যি আর কোনটা সর্বৈব মিথ্যা- তা প্রমাণ হওয়ার জায়গা এখন আর প্রায় নেই!

soumitra chatterjee

এই সুযোগ থেকেই শহরের একটি বাংলা দৈনিকের ক্রোড়পত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে ঋত্বিককে নিয়ে মুখ খুলেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ঋত্বিক ঘটক সম্পর্কে ছুঁড়ে দিয়েছেন বিতর্কিত বক্তব্য! সেই লেখায় ঋত্বিক সম্পর্কে একাধিকবার ‘দালাল’ শব্দটি ব্যবহার করতে কুণ্ঠা বোধ করেননি তিনি। বার বার তাঁর লেখায় উঠে এসেছে ‘প্রোডিউসারদের দালাল’, ‘ইম্পা-র দালাল’ বিশেষণগুলো!

ritwik ghatak

প্রসঙ্গ, ঋত্বিকের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি! সৌমিত্রর দাবি, “ওর রাগ ছিল স্ট্রাইকের সময় সংরক্ষণ কমিটি থেকে এতগুলো ডিরেক্টরের একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে।… ঋত্বিক এমনিতে যতই স্বীকৃত বামপন্থী হোক, সেই সময় প্রোডিউসারদের দালাল হয়ে গিয়েছিল।“ এর পরে সৌমিত্র জানাতে দ্বিধা বোধ করেননি, মদ খেয়ে সত্যজিৎ রায়ের নিন্দা এবং বিশেষ করে তাঁকে গালাগালি দেওয়ায় তিনি ঋত্বিককে মেরেছিলেন! এও জানাতে দ্বিধা বোধ করেননি, সেই সময় মৃণাল সেন না ঠেকালে ঋত্বিককে আরও মারতেন! আর সেই ঘটনা নিয়ে যে তিনি এতদিন পরেও মোটেই অনুতপ্ত নন, সেটাও জানিয়েছেন খুল্লমখুল্লা।

পাশাপাশি, প্রয়াত পরিচালকের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। লিখেছেন যে ওঁর সম্পর্কে সত্যজিতের ‘প্রশংসাটা বাড়াবাড়ি’! আর এই পুরোটা নিয়েই এখন ক্ষোভে উত্তাল শহরের বিদ্বজ্জনরা।

sanjoy mukhopadhyay

“অত্যন্ত কুরুচিকর, কুৎসিত একটা মন্তব্য”, বক্তব্যের শুরুতেই এ কথা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যাদবপুর ফিল্ম স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং স্বনামধন্য লেখক, চলচ্চিত্রবিদ সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। “ঋত্বিক ঘটকের স্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই পরিচালককে নিয়ে এমন একটা মন্তব্য করা অতি নিম্নরুচির পরিচায়ক! সত্যি বলতে কী, কাকে উনি বড়ো করবেন আর কাকে করবেন না, তার উপরে তো কিছু নির্ভর করে না”, বলছেন সঞ্জয় বাবু।

পাশাপাশি, ঋত্বিকের মূল্যায়ন নিয়ে সৌমিত্র যে মন্তব্য করেছেন, খুব স্পষ্ট ভাষাতেই তাকে কটাক্ষ করছেন সঞ্জয় বাবু। “শিল্পী হিসাবে সৌমিত্র নিজেই তো অত্যন্ত ওভাররেটেড একজন! সারাজীবন সত্যজিৎ রায়ের ছত্রচ্ছায়ায় থেকেছেন। কাজেই ওঁর কথা কেউ শুনবে বলে মনে হয় না! বরং প্রশ্ন করা যেতে পারে- এটা কি ওঁর হতাশা এবং ক্রোধের বহির্প্রকাশ? কেন না, বাংলা ছবি কারখানাকে শাসন করলেও ঋত্বিকের মতো পরিচালকের ছবিতে কাজ করার সুযোগ তো উনি পাননি”, সাফ জানাচ্ছেন সঞ্জয় বাবু।

অন্য দিকে যাদবপুর ফিল্ম স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর, লেখক এবং চলচ্চিত্রবিদ অনিন্দ্য সেনগুপ্তও ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তিনি এর জন্য সৌমিত্রর মানসিকতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

anindya sengupta

“দেখুন, আমরা তো কেউ ওঁর মনের খবর জানি না! হতেই পারে বয়স হয়ে যাওয়ায় নানা অসংলগ্ন কথা বলছেন উনি! তবে তাই বা কী করে হয়! এখনও উনি কর্মক্ষম, সমানে কাজ করছেন এবং প্রচুর কাজ করছেন! অতএব ধরে নিতে হয়, উনি সুস্থই আছেন মনের দিক থেকে। তাই প্রাথমিক ভাবে কুরুচির কথাটাই মাথায় আসে”, বলছেন অনিন্দ্য বাবু।

একই সঙ্গে সুরমা ঘটকের প্রয়াণের অব্যবহিত পরেই এ রকম মন্তব্য করায় রীতিমতো উত্তেজিতও হয়ে পড়েছেন তিনি। যা অযৌক্তিকও নয়! “আসলে সৌমিত্র ঋত্বিককে নিয়ে বার বার এমন মন্তব্য করে যাচ্ছেন। এর আগে ২০১৬ সালেও এক সংবাদমাধ্যমে করেছিলেন। এর থেকে এটাই মনে হয়- শিল্পী ঋত্বিককে ছোটো করাটাই ওঁর একমাত্র উদ্দেশ্য”, দাবি তাঁর!

kamaleswar mukhopadhyay

অন্য দিকে, বাংলা ছায়াছবিক ‘মেঘে ঢাকা তারা’ নামে ঋত্বিকের বায়োপিক উপহার দিয়েছেন যে পরিচালক, সেই কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ঘটনাটি সম্পর্কে বিশদে কিছু জানেন না বলেই জানিয়েছেন। “আমি লেখাটা পড়িনি। আর কোন ঘটনায় কে কী মন্তব্য করছেন, তা তো চট করে বলা সম্ভব নয়! অনেক দিন আগের ঘটনা, তার কোনো ডকুমেন্টেশনও নেই। কাজেই এ ভাবে কিছু বলা যায় না”, বলছেন কমলেশ্বর।

কমলেশ্বর সক্রিয় পরিচালক। তাঁর পক্ষে হয়তো এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য করাটা এড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

কিন্তু শহরের ক্ষোভ শান্ত হচ্ছে না কিছুতেই!

2 মন্তব্য

    • Respected Reader, please go through the article… we have embeded a facebook post in which you can clearly find the name of the media house who has published this… thank you…

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here