কলকাতা: চার বছর আবার বড়ো পর্দায় আসছেন ‘ব্যোমকেশ বক্সী’। চলচ্চিত্র পরিচালক অরিন্দম শীলের ব্যোমকেশ সিরিজের চতুর্থ ফিলম্‌ ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’ মুক্তি পাচ্ছে ১১ আগস্ট। এতে ৭০ দশকের কলকাতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যে কাজটা খুব একটা সহজ ছিল না বলে মনে করেন পরিচালক স্বয়ং।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা-চরিত্র ব্যোমকেশ, যিনি নিজেকে ‘সত্যান্বেষী’ অভিধায় অভিহিত হতে বেশি পছন্দ করেন। এই ব্যোমকেশকে নিয়ে অরিন্দম শীল এর আগে তিনটি ছবি করেছেন – ‘ব্যোমকেশ গোত্র’, ‘হর হর ব্যোমকেশ’ এবং ‘ব্যোমকেশ পর্ব’।

নকশাল আন্দোলনে টালমাটাল ৭০ দশকের কলকাতা। কলকাতার সেই সময়টাকেই অরিন্দম শীল ফিরিয়ে এনেছেন তাঁর ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’-এ। তাঁর কথায়, নকশাল আন্দোলনের সময়ের শহর কলকাতাকে ফিরিয়ে আনতে তিনি কোনো আপস করেননি।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস ‘বিশুপাল বধ’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’। এই চলচ্চিত্র নির্মাণে অরিন্দম শীলের পাশে ছিলেন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। শরদিন্দুর উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য মঞ্চে খুন – ভীমের হাতে কীচক সত্যি সত্যি বধ। সেই নাটকের দর্শক ছিলেন ব্যোমকেশ। তার পর সেখান থেকে সত্যের অন্বেষণ। তবে এই অন্বেষণ অসমাপ্তই থেকে যায়।

অরিন্দমের ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’-এও আছে মঞ্চে খুন! রক্তমাখা নিথর দেহ। নাটকের মঞ্চ থেকেই গল্পের শুরু। ভরা প্রেক্ষাগৃহে নাটকের মঞ্চে কেন খুন? দর্শক ব্যোমকেশ নামেন ‘সত্যান্বেষী’র ভূমিকায়। ব্যোমকেশের অনুসন্ধানে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, একে একে সব কিছু প্রকাশ্যে আসে। রহস্যের সমাধান হয়।   

তবে এই ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের নকশাল আন্দোলন। অরিন্দমের কথায়, “সে সময় নকশাল আন্দোলন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, এমনকি অভিনয়জগতেও, কী প্রভাব ফেলেছিল, তা-ও দেখানো হয়েছে এই ফিলমে।”

আমেরিকার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে তখন লড়ছেন ভিয়েতনামের স্বাধীনতাযোদ্ধাদের গেরিলা বাহিনী। বাংলার ঘরে ঘরে তখন এক সুপরিচিত নাম হো চি মিন। লোকের মুখে মুখে ফিরছে সেই স্লোগান – ‘তোমার নাম, আমার নাম, ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম’। একই সঙ্গে কলকাতা শহরের দেওয়ালে দেওয়ালে লিখন – ‘চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’, ‘বন্দুকের নল ক্ষমতার উৎস’ ইত্যাদি। সে এক সময় বটে। সেই সময়কার কলকাতাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্টুডিওর মধ্যেই। শ্যুটিং সম্পন্ন হয়েছে মাত্র এক মাসের মধ্যেই।      

ফের একবার আবির চট্টোপাধ্যায় এবং সোহিনী সরকারের জুটিকে পর্দায় দেখতে পাবেন দর্শক। ডিটেকটিভ থ্রিলারে আবির যথারীতি রয়েছেন ব্যোমকেশের ভূমিকায়। তাঁর স্ত্রী সত্যবতীর চরিত্রে সোহিনী সরকার। ব্যোমকেশের অভিন্নহৃদয় বন্ধু অজিতের ভূমিকায় অভিনয় করছেন সুহত্র মুখোপাধ্যায়। এই প্রথম বার ব্যোমকেশের ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী পাওলি দামকে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন কিঞ্জল নন্দা, অনুশা বিশ্বনাথন এবং অর্ণ মুখোপাধ্যায়। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন বিক্রম ঘোষ।

আরও পড়তে পারেন

কাপড়ের কারখানায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা

‘শামশেরা’-এর হাত ধরে প্রায় চার বছর পর পর্দায় ফিরলেন রণবীর, কতটা দর্শকদের মনে জায়গা পেল

সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে এলেন ক্যামেরার সমানে রণবীর

বলিউডের জনপ্রিয় তারকাদের পছন্দের জায়গা নিচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন