ওয়েবডেস্ক: ঘুমপাড়ানি মাসিপিসিরা তো রয়েছে কচি কচি চোখগুলোর জন্য। বুড়ো খোকাখুকিদের চোখে ঘুম দেবে কে? তাদেরও যে আজকাল ঘুম আসে না। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ইনসোমনিয়া। অতিরিক্ত কাজের চাপ, অবসাদ, পেশাগত জীবন নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আধুনিক জীবনের বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে স্বাভাবিক ভাবেই ঘুমহীনতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার অংশ। এই সব মানুষের চোখে ঘুম দেওয়ার জন্য, অবসাদ ভোলানোর জন্য পৃথিবী জুড়ে চলছে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা। কেউ বলছে, সমাধানের রাস্তা একটাই – মেডিটেশন। কেউ বলছে – প্রাণ ভরে হাসুন আর শ্বাস নিন। এরা বলছে, দেখুন ‘ব্যা ব্যা ল্যান্ড’। না, ছাপার কোনো ভুল নেই। ২০১৭-র অস্কারজয়ী ‘লা লা ল্যান্ড’ নয়। ঘুমের উপায় বাতলাবে ‘ব্যা ব্যা ল্যান্ড’ই।

ছবিনির্মাতারা তাঁদের পোস্টারেই ফলাও করে ঘোষণা করেছেন, চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটিই সম্ভবত সব চেয়ে একঘেয়ে ছবি। চিত্রনাট্য, সংলাপ, অভিনেতা কিছু নেই। পর্দা জুড়ে শয়ে শয়ে ভেড়া চড়ে বেড়াবে মাঠ জুড়ে। আপনি তা-ই দেখবেন। দেখতে দেখতে গোনার চেষ্টা করবেন, আর তার পর গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন, এমনটাই বিশ্বাস ছবির প্রযোজক পিটার ফ্রিডম্যানের। আন্তর্জাতিক সিনেমার তালিকায় সব চেয়ে বেশি সময় ধরে চলা ছবির তালিকায় ‘ব্যা ব্যা ল্যান্ড’ স্থান পেয়েছে উনিশ নম্বরে।

খুব দীর্ঘ ছবি বানানো, এমন উদাহরণ চলচ্চিত্র জগতে নেহাত কম নেই। লাভ ডিয়াজ, বেলা টারের ছবি সমসাময়িক ছবির চেয়ে বেশ দীর্ঘ হয়। তবে ‘ব্যা ব্যা ল্যান্ড’ সে রকম ধরনের ছবি নয়। এ ছবি বানানোই হয়েছে শুধু চোখে ঘুম আনার লক্ষ্যে। গত বছর যেমন বানানো হয়েছিল ‘পেইন্ট ড্রাইং’। ১০ ঘণ্টা ধরে দেওয়ালে রঙ করা দেখেছিলেন দর্শক। সে রকমই এই ছবিতে মাঠ জুড়ে অসংখ্য ভেড়া চরে বেড়িয়েছে। রোদ ঝলমলে দিনে কখনও ঘাস খেয়েছে, কখনও বা জল। ব্যাস, এইটুকুই।

গত সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়েছে ‘ব্যা ব্যা ল্যান্ড’। ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। ছবি নির্মাতাদের দাবি এটি নাকি যে কোনো ঘুমের ওষুধের চেয়ে ঢের বেশি কার্যকর। তার পাশাপাশি ফ্রিডম্যান আশাবাদী, “আগামী দিনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নিয়ে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীরা এই ছবি নিয়ে গবেষণা করবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here