তিরুবনন্তপুরম: কেরলের চলচ্চিত্র শিল্পে মহিলাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হয় না। ছবিতে চরিত্র পাওয়ার জন্য তাঁদের যৌন-শোষণের মুখোমুখি হতে হয় না। ‘যদি মেয়েটি খারাপ হয়, তবেই সে বিছানায় যায়’। এই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন জনপ্রিয় মালয়ালাম অভিনেতা-সাংসদ ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা। এই মন্তব্যের পরই তাঁর প্রতি বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সে রাজ্যের নারী আন্দোলন-কর্মীরা।

৭২ বছব বয়সি ইনোসেন্টের দাবি, মালয়ালাম চলচ্চিত্র শিল্প এখন পরিচ্ছন্ন। ‘কাস্টিং কাউচ’-এর মতো কোনো ঘটনা সেখানে হয় না। তাঁর মতে, “পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই, এখন মহিলাদের প্রতি কেউ খারাপ ব্যবহার করলে, সঙ্গে সঙ্গে তা গণমাধ্যম জানতে পেরে যায়”। এরপরই ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন সাংসদ।

ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা

গত মাসেই কেরলে অভিনেত্রী মঞ্জু ওয়ারিয়েরের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে ‘দ্য উইমেন ইন সিনেমা কালেক্টিভ'(WCC)। সাংসদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওই সংগঠন। এক ফেসবুক পোস্টে তাঁরা বলেছে, “নতুন মেয়েরা যখন চলচ্চিত্র শিল্পে প্রবেশ করে, তখন তাঁদের নানা রকম যৌন নিগ্রহের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকী পার্বতী এবং লক্ষ্মী রাই-এর মতো অভিনেত্রীরা খোলাখুলিই ‘কাস্টিং কাউচ’ সম্পর্কে বলেছেন।….চলচ্চিত্র শিল্প যাবতীয় যৌন শোষণ থেকে মুক্ত, এমন কথা আমরা কিছুতেই মানতে পারছি না এবং প্রকাশ্য এ ধরনের মন্তব্য করার ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।”

পরে অবশ্য অভিনেতা-সাংসদ বলেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, অ্যাসোসিয়েশন অফ মালয়ালাম মুভি আর্টিস্টস(AMMA) এ নিয়ে খুব ভালো কাজ করছে। রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্পে মহিলাদের পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। ইনোসেন্ট ওই সংগঠনের সভাপতি।

বামেদের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন