ওয়েবডেস্ক: জীবনের শেষ পর্বটায় যকৃতের সমস্যা আক্রান্ত করে রেখেছিল তাঁর শরীর। অন্য দিকে, ডিসলেক্সিয়া আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তাঁর মনন। দীর্ঘ দিন ধরে কাউকে চিনে ওঠার ক্ষমতাও ছিল না তাঁর। এ ভাবেই কোনো মতে অস্তিত্ব রক্ষা হচ্ছিল বাংলা নাট্যজগৎ তথা টলিউডের অন্যতম বলিষ্ঠ অভিনেতা বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর। এমতাবস্থায় শুক্রবার ভোরে প্রাণবায়ু নির্গত হয়েছে তাঁর, এমনটাই খবর!

জানা গিয়েছে, বেশ অনেক দিন ধরে বিপ্লবকেতনের চিকিৎসা চলছিল বাড়িতেই। বেহালার বাড়িতে তত্ত্বাবধানের সমস্যার জন্য মেয়ে বিদীপ্তা চক্রবর্তী তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন নিজের ঢাকুরিয়ার ফ্ল্যাটে। শ্বাসকষ্টের জন্য তাঁকে রাখা হয়েছিল অক্সিজেন সাপোর্টে। সেখানেই শুক্রবার ভোর সওয়া চারটে নাগাদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে বিপ্লব বলে জানা গিয়েছে। খবর বলছে, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

আরও পড়ুন: কাঁটাতার পেরিয়ে ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের গল্প বলেই যাব, ‘বিসর্জন’-‘বিজয়া’ পেরিয়ে সিরিজ না কি?

বাংলা নাট্যজগতে এক সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিলেন বিপ্লবকেতন। ১৯৭২ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত ‘চেতনা’ নাট্যদলের সঙ্গে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও পরে ‘থিয়েটারওয়ালা’ নামে নিজস্ব দল গড়েন। ‘বাঘু মান্না’, ‘কাচের দেওয়াল’-এর মতো মঞ্চসফল বিভিন্ন নাটকের নির্দেশক ছিলেন তিনিই। অবিস্মরণীয় ‘মারীচ সংবাদ’, ‘জগন্নাথ’-এর মতো নাটকে তাঁর অভিনয়ও। এ ছাড়া, সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন বাংলা ছোটোপর্দার সঙ্গেও। ‘চুনি পান্না’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সাফল্য তাঁকে বাংলার ঘরে ঘরে চুনি নামেই প্রসিদ্ধ করে তোলে! রীতিমতো জনপ্রিয় হয় ‘জন্মভূমি’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত খল চরিত্র এককড়িও।

তিন মেয়ে- সুদীপ্তা, বিদীপ্তা এবং বিদিশা চক্রবর্তীকে উত্তরসূরী হিসেবে রেখে গেলেন অভিনেতা। বর্তমান বাংলা ছবির এই তিন বলিষ্ঠ অভিনেত্রীরই অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল বাবার কাছেই। কিছু দিন আগেই ‘ময়ূরাক্ষী’ ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন সুদীপ্তা- সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ডিসলেক্সিয়া-আক্রান্ত চরিত্রটি তাঁকে বাবার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। পরিণামে, শয্যাশায়ী থেকেও মেয়ের অভিনয়ের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন বিপ্লব। তাঁর মৃত্যুতে আজ বাংলা সংস্কৃতিজগতের এক অবিরাম গতিতে যতিচিহ্ন পড়ল বলেই মনে করছে শোকস্তব্ধ অনুরাগী-মহল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here