বিদ্যা সিনহা বিদায় নিলেও রয়ে গেল মধ্যবিত্ত জীবনের অপূরণীয় চাহিদার কথামালা!

0

মধ্যবিত্ত জীবন। সে জীবনের হাজারো চাহিদা। অনেকটাই পূরণ না-হওয়া। কাহিনির চেনাবৃত্তে অভিনয়ের মোচড় যেন বাঁধাধরা হয়ে গেল সেই সব ছবিতে। সাতের দশকের চলচ্চিত্র শিল্পের স্বর্ণযুগে এই ধরনের ছোটো বাজেটের ছবিগুলিতেই নিয়মিত মুখে হয়ে দাঁড়ালেন বিদ্যা।

ওয়েবডেস্ক: ‘রজনীগন্ধা’র আগেই মুক্তি পেয়েছিল বিদ্যা সিনহার প্রথম ছবি ‘রাজা কাকা’। কিন্তু বাসু চট্টোপাধ্যায় ‘রজনীগন্ধা’য় গেঁথে দিয়েছিলেন এমন দু’টি ফুল, যা বিদ্যার চলচ্চিত্র জীবনের গতিপথ এবং প্রবাহ নির্ণয় করে দিয়েছিল। প্রথমত, বিদ্যাকে বাসু দর্শকের কাছে হাজির করলেন ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসাবে। দ্বিতীয়ত, অনস্ক্রিনে একটা দীর্ঘস্থায়ী জুটি বেঁধে দিলেন অমল পালেকরের সঙ্গে। হোক না ছোটো বাজেট, একটু অন্য স্বাদের ছবি দেখতে আগ্রহী একটা বড়ো অংশের দর্শকের চাহিদা মেটানোর দায়িত্ব নিয়ে ফেলল অমল-বিদ্যা জুটি।

মধ্যবিত্ত জীবন। সে জীবনের হাজারো চাহিদা। অনেকটাই পূরণ না-হওয়া। কাহিনির চেনাবৃত্তে অভিনয়ের মোচড় যেন বাঁধাধরা হয়ে গেল সেই সব ছবিতে। সাতের দশকের চলচ্চিত্র শিল্পের স্বর্ণযুগে এই ধরনের ছোটো বাজেটের ছবিগুলিতেই নিয়মিত মুখে হয়ে দাঁড়ালেন বিদ্যা। তবে তিনি বোম্বে (এখনকার মুম্বই/বলিউড) এসে শুরু করেছিলেন মডেলিংয়ের কাজ। অসংখ্যা ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন করেছিলেন। সেই শুরু। মাঝে চলচ্চিত্রে সাময়িক বিরতি ঘটলেও টেলিভিশনের অভিনয় ধরলে তাঁর কর্মজীবন কিন্তু বরাবরই ব্যস্ততায় ভরা। এবং সবেতেই যেন ঘুরেফিরে ঢুকে পড়ত সেই মধ্যবিত্ত জীবনযাপনই।

১৯৭৪ সালে তাঁর আত্মপ্রকাশ ‘রাজা কাকা’ ছবির মাধ্যমে। যে ছবিতে তাঁর উল্টো দিকে ছিলেন কিরণ কুমার। তবে ওই বছরেই রিলিজ হওয়া বাসু চ্যাটার্জির ছবি ‘রজনীগন্ধা’য় তাঁর অভিনয় তাঁকে দেশজোড়া জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। ওই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন অভিনেতা অমল পালেকর।

বলিউডে ‘ছোটি সি বাত’, ‘ইনকার’, ‘মুক্তি’, ‘মমতা’, ‘সফেদ ঝুট’ অথবা ‘পতি পত্নী অউর বো’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় মনে রাখার মতোই। ছলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশনের একাধিক অনুষ্ঠানে চেনা মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ‘বহুরানি’, ‘কুলফি কুমার বাজেওয়ালা’, ‘কুবুল হ্যায়’ অথবা একতা কাপুরের ‘কাব্যঞ্জলি’তেও তাঁকে দেখা গিয়েছে স্বমহিমায়।

চলচ্চিত্র থেকে তিনি সাময়িক ভাবে বিরতি নেন ১৯৮৬ সালে। ‘জিভা’ ছবিতে অভিনয়ের পর তাঁকে আর দেখা যায়নি। তবে ২০১১ সালে সলমন খানের ‘বডিগার্ড’ ছবিতে তাঁকে ফের দেখা যায়।

বেশ কয়েক দিন ধরেই ফুসফুস এবং হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি ছিলেন বিদ্যা। গত শনিবার তাঁকে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। মুম্বইয়ের ওই হাসপাতাল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখে। কিন্তু তাঁকে আর ফেরানো গেল না। বৃহস্পতিবার ৭১ বছর বয়সে বিদায় নিলেন বিদ্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here