খবরঅনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য বলিউড অভিনেত্রী (Bollywood Actress) কঙ্গনা রনাউতের (Kangana Ranaut) টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল।

মঙ্গলবার এই সামাজিক মাধ্যম সাইটের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ঘৃণ্য ব্যবহার ও গালিগালাজপূর্ণ আচরণ’ সম্পর্কে টুইটারের যে নীতি আছে, তা বারবার লঙ্ঘন করা হচ্ছে তাঁর অ্যাকাউন্টে।

এর পরেও অবশ্য দমে যাননি ৩৪ বছরের অভিনেত্রী। টুইটারের বিরুদ্ধে জাতপাত সংক্রান্ত পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি সংবাদসংস্থা এএনআইকে বলেছেন, “আমার নিজস্ব কলাজগৎ সিনেমা-সহ আমার কাছে আরও অনেক মঞ্চ আছে, যেখানে আমার আওয়াজ আমি তুলে ধরতে পারি।”

কঙ্গনার যে টুইটটি নিয়ে সম্ভবত টুইটার কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হল সেটি ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কঙ্গনার আহ্বান। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পোষ মানানোর’ জন্য কঙ্গনা সেই টুইটে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ‘২০০০ সালের গোড়ার’ ‘বিরাট রূপ’ ধরার জন্য অনুরোধ করেছেন।

রবিবার নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে হিংসা চলছে সে সম্পর্কে সাংবাদিক তথা বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্তের করা একটি টুইটের প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গনা ওই টুইট করেন। নির্বাচন-পরবর্তী ওই হিংসার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।

কঙ্গনা ওই টুইট করতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে থাকে, যাঁর টাইমলাইন এ রকম বিদ্বেষপূর্ণ তিক্ত পোস্টে ভরতি।             

টুইটারের এক মুখপাত্র বলেন, “যে সব আচরণে ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে যে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব, সে ব্যাপারে আমরা পরিষ্কার। টুইটারের নীতি বিশেষ করে ঘৃণ্য ব্যবহার সংক্রান্ত যে নীতি এবং গালিগালাজপূর্ণ আচরণ সংক্রান্ত যে নীতি আমাদের আছে, তা বার বার লঙ্ঘন করার জন্য উল্লিখিত অ্যাকাউন্ট স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

এই মন্তব্য করতে গিয়ে ওই মুখপাত্র মনে করিয়ে দেন, টুইটারের নীতি সকলের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সঙ্গে এবং পক্ষপাতহীন ভাবে প্রয়োগ করা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ অসংযত পোস্ট করার খ্যাতি রয়েছে কঙ্গনার। তার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে প্ররোচনামূলক ব্যবস্থার নেওয়ার কথা বলা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার জন্য কঙ্গনা রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানিয়েছেন এবং সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “যে সরকারকে ভালোবাসি” তারা ধরনায় বসা ছাড়া কিছুই করছে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই কঙ্গনারই বোন রঙ্গোলি চান্ডেল গত বছর একটি টুইট করে কোভিড ছড়ানোর জন্য তবলিঘি জামাতকে দায়ী করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ, রাজ্যপালকে ফোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর        

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন