padmavati

ওয়েবডেস্ক: ছায়াছবি যে দর্শককে প্রভাবিত করে না, তেমনটা বলা যায় না! তা বলে সঞ্জয় লীলা বনসলির ‘পদ্মাবতী’ মুক্তি পেলে নায়িকার সাজ-পোশাক নয়, জহর ব্রতর দিকটাই প্রভাবিত করবে ভারতীয় নারীদের? ঘরে ঘরে পড়ে যাবে জহর ব্রত পালনের ধুম?

শুনে চোখ কপালে উঠলেও কার্যত এমনটাই এবার দাবি করছে সেন্সর বোর্ড। তবে, সরাসরি নয়। জহর ব্রতর প্রসঙ্গ টেনে এনে জানিয়েছেন বোর্ডের প্রধান প্রসূন জোশী, “দর্শকের প্রতি আমাদের একটা নৈতিক কর্তব্য আছে। অতএব, বনসলির এই ছবিতে জহর ব্রতকে কী ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার ঐতিহাসিক দিকটি অক্ষুণ্ণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই জন্য আমরা ৬ জন সদস্য-সম্বলিত একটি বিচারকমণ্ডলী তৈরি করছি। এই মণ্ডলীতে দুজন ইতিহাসবেত্তা থাকবেন। আর থাকবেন রাজস্থানের চারটি রাজবংশের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতামতের উপর ভিত্তি করে নির্ণয় নেওয়া হবে ছবি মুক্তির”!

জানা গিয়েছে, ৬ সদস্যের এই বিচারকমণ্ডলীতে উপস্থিত থাকবেন জয়পুরের দুই ইতিহাসবিদ অধ্যাপক বি এল গুপ্তা এবং অধ্যাপক আর এস খঙ্গারত। বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক খঙ্গারত এখনই বিবৃতি প্রকাশে নারাজ হলেও অধ্যাপক গুপ্তা স্পষ্ট করেছেন এরকম এক বিচারকমণ্ডলী তৈরির প্রয়োজনীয়তার দিকটি। “শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সঞ্জয় লীলা বনসলি যত-ই মালিক মহম্মদ জয়সির পদুমাবৎ কাব্য নিয়ে ছবি করুন না কেন, তা ইতিহাস-বর্জিত নয়। ফলে, সেই ছবি কাব্যের উপর ভিত্তি করে ইতিহাসের ক্ষতি করছে কি না, তার বিচার প্রয়োজন”! অন্য দিকে, অধ্যাপক খঙ্গারোতের বক্তব্য, “আগে ছবিটা দেখি! তার পর এ নিয়ে মতামত প্রকতাশ করা যাবে”!

অন্য দিকে, রাজস্থানের রাজপুরুষদের ছবি দেখে বিচার করার আমন্ত্রণ জানালেও তা যে আখেরে ফলপ্রসূ হবে না, সে কথা বলছেন উদয়পুরের রাজবংশের প্রতিনিধি রাজা বিশ্বরাজ সিং। ইতিমধ্যেই তিনি এই মর্মে একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন প্রসূন জোশী তথা সেন্সর বোর্ডকে। “আমার এই বিচারকমণ্ডলীতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে দ্বিধা আছে। ভালো করেই জানি, ছবিটা দেখে নানা যুক্তি-তর্ক ঘোরাফেরা করবে আমার মনে। সেই সব প্রসঙ্গে আমি আমার মতটাও দিতেই পারি। কিন্তু পদ্মাবতীর মুক্তি নিয়ে বিতর্ক যে জায়গায় যাচ্ছে, তার ভিত্তিতে আমার মতামতটাও ইতিহাসবিদদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি”, লিখেছেন রাজা।

তাহলে শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা কোন দিকে যাচ্ছে? এর আগে জানা গিয়েছিল, সেন্সর বোর্ড আসন্ন ২০১৮-র জানুয়ারিতে ছবি মুক্তির অনুমতি দিয়েছে। এখন তাহলে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যদি বিচারকমণ্ডলী ছবির বিপক্ষে রায় দেন?

এখনই তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না! তবে সেন্সর বোর্ড নিজেদের সিদ্ধান্তের দায় চাপিয়ে দিতে চাইছে বহিরাগত বিচারকমণ্ডলীর ঘাড়ে, এ-ও বড়ো কম অদ্ভুত নয়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here