কলকাতা: অ্যালঝাইমার্সে ভুগছিলেন বছর দুয়েক ধরেই। বন্ধ করে দিয়েছিলেন কাজকর্ম। বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু আর নয়। ষষ্ঠীর মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল ৬৮।

জন্ম ১৯৪৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। বিভিন্ন নাট্যদলে তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক- থিয়েটার কমিউনের কিং কিং,দানসাগর।শূদ্রক নাট্য দলের অমিতাক্ষর,সমাবর্তন। গান্ধার নাট্যদলে কুমারসম্ভব,ঘোড়া,নিলাম নিলাম,ভম্মা।ক্যালকাটা রেপার্টারি থিয়েটারে গ্যালিলেওর জীবন। পঞ্চম বৈদিকে দশচক্র। পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির হয়ে বলিদান। থিয়েট্রন নাট্যদলে সাদা ঘোড়া। সমবেত প্রয়াসে গিরগিটি,গাজি সাহেবের কিসসা।রঙরূপ নাট্যদলে বিকল্প। শ্যামবাজার মুখোমুখিতে প্রাণতপস্যা ও আরোহণ। আয়ন্দা নাট্যদলে নীলকণ্ঠ,কুরবানি ও আর একটি দিন। পুরাতনী নাট্যদলে বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ও পেশাদারি ভিত্তিতে বিশ্বরূপায় ন্যায়মূর্তি। প্রাচ্য নাট্যদলে তৃতীয় অঙ্ক অতএব ইত্যাদি।

নিজস্ব নাট্যদল সংস্তব প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৮২ সালে। ১৯৯২ সালে সংস্তব প্রযোজিত মুষ্টিযোগ নাটকে যদুপতির চরিত্রে তাঁর অসাধারণ অভিনয় একই সঙ্গে তাঁকে এবং সংস্তব নাট্যসংস্থাটিকে প্রথম সারিতে নিয়ে আসে। সংস্তবের সব নাটকেরই তিনি নির্দেশক ও মুখ্য অভিনেতা।

নিজের দলের বাইরেও বহু দলে ও সংস্থায় তিনি নাট্য নির্দেশনার কাজে যুক্ত ছিলেন। অন্য থিয়েটার আয়োজিত নাট্যস্বপ্নকল্পর অনুষ্ঠানের জন্য দ্বিজেন্দ্রলালের চন্দ্রগুপ্ত নাটকের অংশবিশেষ এবং দেবাশিস মজুমদারের প্রতিমার কাল নাটক দুটির পরিচালনা করেন। বলিদান নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির বিশিষ্ট অভিনেতা পুরস্কার পান ১৯৯২ সালে। গান্ধারের নিলাম নিলাম নাটকটি অভিনয় সূত্রে বাংলাদেশ,আয়ন্দার নীলকণ্ঠ নাটকটি অভিনয় সূত্রে আমেরিকা ও একটি মিশ্র দলের সঙ্গে ব্রজসংবাদ অভিনয় করতে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা ভ্রমণ করেন দ্বিজেন বন্দোপাধ্যায়।
বাংলা রঙ্গমঞ্চের পাশাপাশি সমানভাবে ছোট ও বড় পর্দার একজন অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা তিনি।ছোট পর্দায়  দ্বিজেন বন্দোপাধ্যায় অভিনীত নৃসিংহ রহস্য,আবার যখের ধন এবং চুনী পান্না মেগা সিরিয়ালগুলি ছিল অত্যন্ত  জনপ্রিয় ও বহুল চর্চিত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here