visarjan

এই ছবিতেই তাঁর শেষ গান গাওয়া। কালিকাপ্রসাদ। শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ‘বিসর্জন’ ছবির পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখে শুধুই সদ্য প্রয়াত কালিকার কথা। স্মৃতিকাতরতা আর অভিনন্দন জানানোর পালা শেষ করে শুরু হল কথা। খবর অনলাইনের প্রতিনিধি রাকা রায়ের সঙ্গে।    

প্র: বির্সজন দুর্গাপুজোয় মুক্তি না পেয়ে নববর্ষে কেন ?

উ: (হেসে) দুর্গাপুজোয় খুব ভিড়, অনেক ছবি। আমি ফাঁকায় ফাঁকায় বিসর্জনকে আনতে চেয়েছি।

প্র: ধূমকেতু আসার কথা ছিল সেটা না হয়ে বিসর্জন কেন আগে হল?

উ: সব প্রযোজকের ইচ্ছা। আমি শুধু ছবি বানাই। তবে আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলি, অন আ সিরিয়াস নোট, বিসর্জন নামের সঙ্গে অবশ্যই দুর্গাপুজো জড়িয়ে তবে নববর্ষ মানেও অনেকটা তাই। পুরোনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানো। অনেক মানুষ আছেন, যারা এই নববর্ষে অনেক কিছু হারিয়েছেন। হয়তো নতুন বছর তাদের কাছে নতুন কিছু আনবে। এই যে কালিকাপ্রসাদের বাড়ির লোকের কথাই ভাবো, ওরাও তো হারিয়েছে।


ভাবুন তো এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে ধর্মের নামে রাজনীতি চলে, যেখানে এক মুসলিম রমণী হিন্দু চরিত্র করছেন, সন্ধ্যারতি দিচ্ছেন তুলসি তলায়। অন্যদিকে আবির চ্যাটার্জি মুসলিম ছেলের চরিত্রে করছে, নামাজ পড়ছে।


প্র: হ্যাঁ আমরা সবাই হারিয়েছি কালিকাপ্রসাদকে, আপনার ছবিতেই তাঁর শেষ গান গাওয়া।

উ: একদম ঠিক, আজ তো ওরও সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা, কে ভেবেছিলো আজ ও শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে। জানো ওর গাওয়া গানটা রূপঙ্করের গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওর হঠাৎ চলে যাওয়ায় ওর গানটাই রেখে দিলাম। শেষ-গান বলে কথা। আমার ছবিটায় কালিকার গলা না হলে শেষ হতো না। কারণ বিসর্জন মাটির কথা বলে। ওর গান আমার ছবির প্রাণ ভোমরা।

প্র: ছবির পোস্টারে লেখা রবীন্দ্রনাথের না বিসর্জন, এমন লেখার কারণ?

উ: আপনার প্রশ্নেই উত্তর লুকিয়ে হাসি) সবাই যাতে না ভাবে এটা রবীন্দ্রনাথের গল্প বিসর্জন থেকে নেওয়া। এটা আমার স্বতন্ত্র গল্প।

প্র: বিসর্জনে আপনি কী গল্প বলতে চেয়েছেন?

উ: খুব ভয়ঙ্কর কিছু না। একটা প্রেমের গল্প, শুধু পটভূমিটা গুরুত্বপূর্ণ। দুই বাংলার দুই মানুষ। একটি মেয়ে যে হিন্দু থাকে বাংলাদেশে আর একটি ছেলে সে মুসলমান, থাকে ভারতে, তাদের ভালোবাসার গল্প। আসলে কাঁটাতার তো আমাদের দেওয়া। এই আকাশ জল নদী পাখি হাওয়া ভালোবাসা এরা দেশের সীমানা মানে না। তাই এই দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের কথা বলে বিসর্জন।

প্র: জয়াকেই কেন নিলেন?

উ: আমার ছবিতে ওই মেয়েটি বাংলাদেশি হিন্দু, নাম পদ্মা। ওকেই মানাতো। তাই নিয়েছি। ভাবুন তো এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে ধর্মের নামে রাজনীতি চলে, যেখানে এক মুসলিম রমণী হিন্দু চরিত্র করছেন, সন্ধ্যারতি দিচ্ছেন তুলসি তলায়। অন্যদিকে আবির চ্যাটার্জি মুসলিম ছেলের চরিত্রে করছে, নামাজ পড়ছে।

প্র: পয়লা বৈশাখ নেই নেই করে অনেক ছবি মুক্তি পাচ্ছে, দর্শক আপনার ছবিই কেন দেখবে?

উ: বাঙলা ইন্ডাস্ট্রির কথা ভেবে বলবো আরও ছবি আসা উচিত। আর বিসর্জন কেন দেখতে যাবে জানেন, বাঙালি নববর্ষে পাঞ্জাবি ধুতি পরে কলাপাতায় ডাল ভাত মাছ ঘণ্ট খাবে। মাটির ভাঁড়ে জল খাবে, এটাই তো স্বাভাবিক, তাই বিসর্জন দেখবে। কারণ এখানে মাটির গন্ধ আছে। মাটির ভালোবাসার গন্ধ পাবে দর্শক। পয়লা বৈশাখে কেউ চাউনিজ খাবে কেন? লুচি ছোলার ডাল খাবে, তাই দর্শক বিসর্জন দেখবে।

প্র: ছবিতে দুর্গাপুজোর বিসর্জনের একটা দৃশ্য আছে ?

উ: জানেন এটা আমি বিসর্জনের সময় শুট করেছিলাম, মোট ৮টা ক্যামেরা দিয়ে। কী অপূর্ব দৃশ্য। দুই বাংলার মানুষ নৌকায় করে ভাসান দিচ্ছে। মাঝখানে বিএসএফ জওয়ানরাও অংশ নিচ্ছে। এদিক থেকে মিষ্টি ছুঁড়ে দিচ্ছে, ও পার থেকে লজেন্স ছুড়ে দিচ্ছে। ভাবুন কি দারুণ অভিজ্ঞতা। দশর্কদের সব সময় নতুন স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই পয়লা বৈশাখে বাংলার স্বাদ পেতে দর্শকদের দেখতেই হবে বিসর্জন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here