aksar 2

ওয়েবডেস্ক: ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নাকি এমন ঘটনা ‘অকসর’ ঘটেই থাকে! কিন্তু সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুখ খুলতে বাধ্য হলেন জারিন খান। সাফ জানালেন, “অকসর ২ ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁকে প্রায় নগ্ন করে দেওয়া হয়েছিল ফ্লোরে। এমনকি, প্রযোজকদের অব্যবস্থার ফলে প্রায় শ্লীলতাহানির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। কিন্তু কেউই তা নিয়ে মাথা ঘামায়নি। আমায় প্রায় নগ্নই করে দেওয়া হত শুটিংয়ের অছিলায়! একবার আমার শ্লীলতাহানির উপক্রম পর্যন্ত হয়েছিল। কিন্তু কেউ আমায় সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। উলটে বিয়ার খেতে খেতে চুপচাপ তা দেখে গিয়েছে”, জানিয়েছেন নায়িকা।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে – খোলামেলা পোশাকে, অনেকটাই শরীর অনাবৃত করে অভিনয় করতে হবে, এ কথা কি জারিন ছবি সই করার আগে জানতেন না? কেন না ‘অকসর’ সিরিজের ছবির মূল বিষয়ই তো যৌনতা! “উঁহু! ছবিটা যখন সই করি, তখন আমায় বলা হয়েছিল এমন কিছু বিস্ফোরক দৃশ্য শ্যুট করা হবে না। কিন্তু পরে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ঘুরে গেল। দেখলাম, প্রায় প্রতি ফ্রেমেই আমায় প্রায় নগ্ন থাকতে হচ্ছে। কস্টিউম বলে কিছু দেওয়া হচ্ছে না। এ রকম চুক্তি তো আমার সঙ্গে হয়নি”, দাবি করেছেন নায়িকা।

শুধু তাই নয়! নায়িকার বক্তব্য, চিত্রনাট্যে হামেশাই নতুন নতুন যৌন বিষয় যোগ করতেন ছবির নির্মাতারা। “প্রথমে যখন ছবির কাজ হাতে নিই, জানতাম আমায় কতক্ষণ চুমু খেতে হবে পর্দায়। কিন্তু শুটিংয়ের সময় দেখলাম তার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন, তার কোনো সদুত্তর কেউ দিতে পারেনি”, জারিনের অভিযোগ।

এর পরেই জারিন মুখ খুলেছেন শ্লীলতাহানি নিয়ে। “ছবির প্রচারে যাওয়া-আসার সময় আমার সুরক্ষার ন্যূনতম বন্দোবস্তটুকুও করা হয়নি। গাড়িও দেওয়া হত না। একবার প্রচার সেরে বেরনোর সময় জনতা আমায় ঘিরে ধরে। আর একটু হলেই আমার গায়ে হাত পড়ত। কিন্তু ছবির সঙ্গে যুক্ত কেউ আমায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। উলটে বিয়ার খেতে খেতে আমায় হেনস্তা হতে দেখেছেন!”

জারিন যা-ই বলুন না কেন, ছবির নির্মাতাদের বক্তব্য ঠিক তাঁর উলটো। “উনি ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন। জারিনের সঙ্গে আমাদের যা যা চুক্তি হয়েছিল, তার একটাও তিনি মানেননি। রোজ তাঁর কিছু না কিছু বায়নাক্কা লেগেই থাকত। সবেতেই ছিল অসন্তোষ! খাওয়া ভালো না, গাড়ি কেন নেই, প্রচারে কেন এতক্ষণ থাকতে হবে – এ সব নিয়ে রোজ চিৎকার-চেঁচামেচি চলত। শেষ পর্যন্ত এক দিন ছবির প্রচারে গণ্ডগোল তীব্র সীমায় ওঠে। জারিন ছবির প্রচার ছেড়ে বেরিয়ে যান! পথে বেরোনোর পর তাঁর সঙ্গে কী হয়েছিল, তা আমরা জানি না। কী করেই বা জানব! আমরা তো তখন ছবির প্রচারে ব্যস্ত”, বক্তব্য নির্মাতাদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here