Padmavati Still

ওয়েবডেস্ক: যে আগুনে একদা ভস্মীভূত হয়েছিল চিতোরগড়ের রানি পদ্মিনীর জীবন, এ বার কি সেই আগুনেই সাঙ্গ হবে বনসলির ইহলীলা?

অদ্ভুত লাগলেও তাই মনে করছেন হিন্দুত্ববাদের কট্টর সমর্থকরা। দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে সঞ্জয় লীলা বনসলির অনিষ্ট কামনায় যজ্ঞ। ভোপালের সংস্কৃতি বাঁচাও মঞ্চ, শিবসেনা দলের একাংশের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বলে উঠেছে যজ্ঞের আগুন। রীতিমতো মন্ত্র উচ্চারণ করে বনসলির অনিষ্ট কামনায় আহুতি দিচ্ছেন পদ্মাবতী-মুক্তি বিরোধী সমর্থকরা। পাশাপাশি ঘোষণা হয়েছে মেরঠের সর্ব ব্রাহ্মণ মহাসভার পক্ষ থেকে – দীপিকা বা বনসলির কাটা মুণ্ড নিয়ে এলেই মিলবে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার!

এক দিকে যখন ছবির মুক্তি বন্ধের জন্য শুরু হয়েছে এ হেন প্রহসন, অন্য দিকে তেমনই চলছে রাজপুত কর্নি সেনার গা-জোয়ারি। জয়পুরে ছবির সেটে হামলা, পরিচালকের গায়ে হাত, নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোনের নাক কেটে নেওয়ার হুমকি- এটুকুতেই থেমে নেই জেহাদ। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই চিতোরগড়ের প্রধান ফটক আটকে রেখে চলছে কর্নি সেনার প্রতিবাদ। কোনো ভ্রমণার্থীকেই দুর্গে প্রবেশ করতে দিতে চায় না তারা। যত দিন না ছবির মুক্তি বন্ধ হবে, তত দিন পর্যন্ত চলবে এই দুর্গ ঘিরে রাখার ঘটনা। এমনটাই জানিয়েছে কর্নি সেনারা। শুধু তা-ই নয়, ছবির মুক্তি বন্ধ না হলে রাজস্থানে তারা কোনো ভ্রমণার্থীকে প্রবেশ করতে দেবে না – এমন হুমকিও প্রকাশ্যেই ভাসছে বাতাসে!

havan

চিতোরের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট প্রশন কুমার খামসেরা প্রথমে জানিয়েছিলেন, ভ্রমণার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে দুর্গের চার পাশে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত এ দিন বন্ধই করে দিতে হল দুর্গদ্বার। কর্নি সেনার প্রতিবাদের মুখে ফিরে যেতে হল ভ্রমণার্থীদের। চিতোরে বিক্ষোভের মুখে পিছু হটতে হলেও মুম্বই পুলিশ কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোনের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করতে। তাঁদের তরফে বলা হয়েছে, নায়িকা যাতে নিরাপদ থাকেন, তার জন্য মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ি এবং অফিসের সামনে কড়া পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে বনসলির জন্যও।

কিন্তু তাতেও দুর্যোগের কালো মেঘ কাটছে না। পদ্মাবতীর মুক্তি প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে শাসক দল বিজেপি, সে যতই শীর্ষ আদালত রায় দিক না কেন যে লেখক বা চলচ্চিত্র পরিচালকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। শীর্ষ আদালত সম্প্রতি এই যে রায় দিয়েছে তারই যেন প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে বিজেপির মন্ত্রী উমা ভারতীর বক্তব্যে। দেশ জুড়ে ‘পদ্মাবতী’র সম্মান যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু এক নারীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে কি আরেক নারীকে অপমান করা হচ্ছে না? স্পষ্ট ভাবে বলছেন উমা ভারতী, কর্নি সেনার দীপিকার নাক কেটে নেওয়ার হুমকি প্রসঙ্গে। অন্য দিকে, রাজস্থানের প্রধানমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এখনও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। কর্নি সেনার বিক্ষোভ সামলাতেও তাঁর তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই বক্তব্য, রাজের এই মৌনতা আসলে সম্মতিরই লক্ষণ!

রাজে চুপ করে থাকলেও আরেক বিজেপি নেতা নীতিন গড়করি কিন্তু প্রকাশ্যেই নিন্দা করছেন ছবিটির। তাঁর মতে, পদ্মাবতীর মুক্তি রদ হওয়াই উচিত! ছবিটিকে নিয়ে মানুষের ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত। ইতিহাসকে বিকৃত করার অধিকার কারো নেই! রানি পদ্মিনী আমাদের জাতীয়তাবাদের অঙ্গ, পরিচালকের তাই জাতীয় সংবেদনশীলতার প্রতি একটা দায়িত্ব থেকেই যায়, জানিয়েছেন তিনি। আবার বিজেপির আরেক মন্ত্রী কিরণ মাহেশ্বরীও তীব্র নিন্দা করেছেন ছবিটির। ছবিটি মোটেই পদ্মিনীকে সম্মান জানানোর জন্য তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে ব্যবসা ও বিনোদনের কথা মাথায় রেখে। এমন উদ্যোগকে কখনোই স্বাগত জানানো যায় না, বলছেন তিনি!

আপাতত তাই প্রতিবাদের লেলিহান শিখা ঘিরে রেখেছে বনসলিকে। পরিস্থিতি বলছে, ক্রমাগত জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করছে পদ্মাবতী-সমস্যা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যও ইঙ্গিত করছে সেই দিকেই। একটি চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ছবি মুক্তি বন্ধের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ছবি মুক্তি পেলে দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে, এই তাঁর অভিমত!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here