রুপোলি পর্দায় ২৫ বছর, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিনেতাই থাকতে চান শাহরুখ

0
344

মুম্বই : ‘দিওয়ানা’ দিয়ে শুরু হয়েছিল, আসছে ‘যব হ্যারি মেট সেজল’। ৫১ বছরের বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের নয় নয় করে ২৫ বছর কেটে গেল রুপোলি পর্দায়। দিল্লি থেকে মুম্বইয়ের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন চোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে। টোল পড়া গালে তোতলানো কথার ফাঁকে বাঁকা হাঁসি দিয়ে মন জয় করে নিয়েছিলেন নারী পুরুষ উভয়ের। এই জয়রথ আজও একই ভাবে দৌড়ে চলেছে। বাদশাহ বললেন, সময় কোথা দিয়ে বয়ে গেছে তা বোঝার আগেই ২৫টা বছর কেটে গেল।

কী ভাবে বর্ণনা করতে চান তিনি এই যাত্রাপথটাকে? প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, যেন মনে হয় গত কালের ঘটনা। এই তো এলাম। তাঁর ভাষায় ‘অভি তো ম্যায় আয়া থা’। এখনই চলে যাব কী? সবটা খুব, খুব দ্রুত কেটে গেল। তিনি জানান, এই ‘জার্নি’র মাত্র ৩-৪ বছরই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তার পর আর কিছুই মালুম পাননি। তিনি বলেন, “আমি যেন সময়ের মধ্যে আটকে গিয়েছিলাম। যখন আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলি, ছেলেমেয়েদের বড়ো হয়ে যেতে দেখি তখন বাস্তবটা বুঝতে পারি, তখন মনে হয় সবটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটে গেছে”।

তিনি বলেন, অনেক মানুষ প্রশ্ন করেন তিনি এই একই ধরনের কাজ আর কত করবেন? কিন্তু তাতে তিনি খুবই অবাক হন। তিনি মনে করেন, তিনি এখনও তরুণ, যে কোনো নায়িকার সঙ্গে কাজ করার মতোই তরুণ। আরও বলেন ঠিকমতো বলতে পারবেন না — তিনি ঠিক কতগুলো ছবি করেছেন।

প্রথম ছবি ‘‘দিওয়ানা’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন —

 

তাঁর প্রথম ছবি ‘দিওয়ানা’ তিনি দেখেননি। আর দেখতেও চান না। সেই সময়ের স্মৃতি রোমন্থনে তিনি বলেন, ছবিটা যখন তৈরি হয়েছিল তখন বক্স অফিসের এত রমরমা ছিল না। মানুষের মুখে মুখে ছবির ভালোমন্দ বেরিয়ে আসত। সেই সময় এক দিন রাকেশ রোশন তাঁকে বলেছিলেন, দারুণ কাজ হয়েছে। শাহরুখ এক জন বিরাট বড়ো ‘স্টার’ হয়ে গেছেন, “তু বহুত বড়া স্টার বন গয়া ইয়ার”।

এক দিন সলমন খানের বাড়ির সামনে দিয়ে কাজে যাওয়ার সময় সেলিম খান বারান্দা থেকে চিৎকার করে বলেছিলেন, “জনাব আপ কি ফিল্ম বহুত চল রহা হ্যায়, আপ স্টার বন জাওগে”।

সেলিম খান সেই সময় এক দিন নৈশভোজে এসে বলেছিলেন, “সেলুনে চুল কাটাতে গিয়ে যে দিন নাপিত তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি শাহরুখ খান ‘হেয়ার কাট’ করাতে চাও কিনা? সে দিন বুঝবে তুমি স্টার হয়ে গেছ”।

তিনি যে ‘স্টার’ হয়ে গেছেন এ কথা কখন বুঝলেন? প্রশ্নটা ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল এসআরকে-র দিকে।

তিনি বলেন, কথাটা শুনতে অবাক লাগলেও এখনও তিনি এটা বুঝতে পারেননি। তাঁর আশেপাশের সবাই — সহঅভিনেতা-অভিনেত্রী, শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন তাঁর এটা করা উচিত, ওটা করা উচিত নয়, কারণ তিনি নাকি ‘স্টার’। আর স্টারেরা এমনই করে। শাহরুখ তাতে কান দেন না। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো তিনিও রেগে যান, নিজেকে বেশি গুরুত্ব দেন ইত্যাদি। তিনি পরিণতি নিয়ে ভাবেন না। যদিও কোনো ছবি ভালো হলে ভালো লাগে বা খারাপ হলে খারাপ লাগে, তবুও সেটা খুব সামান্য সময়ের জন্য। ছ’ ঘণ্টা পরেই তিনি স্বাভাবিক হয়ে যান।

শাহরুখ বলেন, তিনি এক জন অভিনেতা। তিনি যা অনুভব করেন তাই করেন। বলেন, তিনি এক জন ‘প্রফেশনাল লায়ার’, পেশাগত মিথ্যাবাদী। তিনি মিথ্যা বলেন আর সেই মিথ্যাটা বিশ্বাসও করেন। তা না হলে তিনি অভিনেতা হতে পারতেন না।

 

তিনি বললেন, তারকার খ্যাতি তাঁর আকাঙ্ক্ষা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবুও তিনি অনেক কিছুই করেন, যেমন নিজের জেট-এ করে এ দিক সে দিক যান, ছবির প্রচার করেন, ছবি বানান — এই সব কিছুর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু তবুও এই সবই তাঁর কাজেরই অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা নয়।

শাহরুখ কথা প্রসঙ্গে বললেন, এক জন বড়ো তারকার সব চেয়ে বড়ো সমস্যা হল সিনেমার ভালো দিকটা বজায় রাখা এবং তুমি যা তার থেকেও আরও ভালো কাজ করা। আমি যেটা আগে বলেছি চেষ্টা করি তা বজায় রাখতে।

শাহরুখের বায়োপিক তৈরির বিষয়ে তাঁর মতামত কী?

এর উত্তরে শাহরুখ বলেন, তিনি তাঁর জীবনের সব চেয়ে আকর্ষণীয় পর্বের বিষয়ে কখনও কাউকে বলেননি, এমনকি তাঁর খুব কাছের মহলেও না। সুতরাং তাঁকে নিয়ে কোনো লেখা হলে তার পুরোটা জুড়েই থাকবে শুধু সাফল্যের কাহিনি। আর শুধু সাফল্যের গল্প একঘেয়েমি আনে। একটা ছেলের দিল্লি থেকে স্বপ্নের রাজ্যে আসা, জীবনযুদ্ধে লড়াই করা, জীবনের শুরুতেই অভিভাবকহীন হয়ে যাওয়া, কোনো ‘গডফাদার’ ছাড়াই বলিউডে স্টার হয়ে ওঠা। “আমি ব্যর্থ না হওয়া অবধি আমি বায়োপিক করব না। কারণ এমন কিছু করা দরকার যা নিয়ে সমালোচনা হবে, মানুষ অবাক হবে, তবেই তো এক জন স্টার ‘লিজেন্ড’ হয়ে ওঠেন। আর সমালোচনা ছাড়া গল্পে চমক আসে না”। তিনি বলেন, “আমি তখন কম বয়সের। এক জন বিখ্যাত সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি ‘লিজেন্ড’ হতে চাই কি না? আমি বলেছিলাম হ্যাঁ। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, সমালোচিত না হলে এক জন লিজেন্ড হওয়া যায় না”। শাহরুখ বলেন, “আমার সমালোচনা শুধু আমিই জানি। তাই আমার গল্প তা কখনওই চমকদার হবে না”।

অবসর নেওয়ার কথা কী ভাবছেন?

শাহরুখ বলেন, কাজ জীবনের অঙ্গ। আর তিনি নিজেই বুঝবেন যে তিনি কাজ করার মতো অবস্থায় আছেন না কি নেই। কেউ যদি তাঁকে বলেন অবসর নিতে, তিনি তা কখনওই মানবেন না। তিনি জীবনের শেষ অবধি অভিনয় করে যাবেন, হতে পারে সেটা আজ থেকে ১০-১৫ বছর পর বা হতে পারে আজই। তবে নিজের উপলব্ধিটাই শেষ কথা। তাই অবসর নেওয়ার চিন্তা কোনো দিন মাথায় আসেনি তাঁর। তিনি প্রতি মুহূর্তেই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেন। তা না হলে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি বিশ্বাস করেন মানুষকে আনন্দ দিতে পারলে তিনি সফল। তবে তিনি এতটাও সফল নন যা নিজেকে খুশি করতে পারে।

শাহরুখ বলেন, “আমি জীবনের শেষ মুহূর্ত অবধি এক জন অভিনেতাই থাকতে চাই”।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here