ওয়েবডেস্ক: তারকা সমাবেশ তো বটেই! তবে সেই সমাবেশে কিছু তারকার উপস্থিতিও যে পুরনো, সে এত দিনে নতুন কথা নয়! অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, শাহরুখ খান- প্রতি বছরেই তো মুম্বই থেকে উড়ে আসেন শহরে, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে! সেই আসা কি তাঁদের কাছেও ক্রমশ পরিণত হচ্ছে একঘেয়েমিতে?

বলা মুশকিল! তবে ২৪তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চ থেকে, খুব হালকা ভাবে হলেও যে কথাগুলো বলছেন তাঁরা, তা উপেক্ষার নয়! অমিতাভ বচ্চনই যেমন, বাংলা ছবির ডিরেক্টরি প্রকাশের পর সাফ জানালেন বক্তব্যে- “আবার এসে গেছি, মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক বার বলেছি ডাকবেন না, বলার কিছু নেই, কিন্ত কথা শোনেন না, এ বার বাংলায় বলছি- মমতাদি আশা করি এ বার বুঝবেন! আর পারব না মা, রক্ষা করুন!”

KIFF
“আর পারব না মা, রক্ষা করুন!” ছবি: রাজীব বসু

পরে অবশ্য রসিকতা ছেড়ে গুরুগম্ভীর বক্তব্যে চলে এসেছেন বিগ বি! মূলত তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন ছবি তৈরির নেপথ্যে থাকা টেকনিশিয়ানদের কথাই! কেন না, তাঁদের গুরুত্ব উপেক্ষার নয়, অথচ তাঁরা উপেক্ষিতই! এই প্রসঙ্গে সমকালীন যে সব অভিনেতার নাম নিলেন বচ্চন, বললেন এঁরা সবাই কেরিয়ার শুরু করেছেন ক্যামেরার নেপথ্যে, তাঁরা সবাই বলিউডের! বক্তব্যে একবার বাংলা ছবির সুব্রত মিত্রর নাম নিলেন বটে, কিন্তু বাংলা ছবির শতবর্ষ পূর্তিতে আর কারও নাম তাঁর ঠোঁটে এল না! আর বলতে দ্বিধা করলেন না- বাংলা ছবি সংরক্ষণের অভাবে গৌরবের আসন হারিয়েছে! যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেয়, তবে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ অন্ধকার!

পাশাপাশি, শাহরুখ খান নিজেও ব্যঙ্গ করেছেন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে! সবাই যখন তাঁর নাম নিয়ে উচ্ছ্বাসে মত্ত, সাফ জানিয়েছেন তিনি- “চেঁচিয়ে কী হবে! আমি রাশিদ খানের মতো গান গাইতে পারি না, অমিতাভ বচ্চনের মতো বুদ্ধিজীবীও নই! ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ঠিকই, কিন্তু আমায় ডাকা হয় কেবল অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য! আমি ২৭ বছর ধরে কাজ করছি, ৭০-এর উপরে ছবি করে ফেললাম, কিন্তু আমার একটা ছবিও উৎসবে থাকে না! মানছি আমি বুদ্ধিজীবী নই! কিন্তু আজকাল পরিশীলিত হচ্ছি! আশা করি পরের ১০ বছরে এক্সট্রিমলি স্মার্ট আর বিউটিফুল মমতাদি আমার ছবিও রাখবেন!”

অবশ্য, সবাই ছিলেন না এতটাও ব্যঙ্গের মেজাজে! যদিও ওয়াহিদা রহমান তাঁর বক্তব্যে এই শহরকে ‘ক্যালকাটা’ বলেই প্রায় জিভ কেটেছেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বাংলা ছবি অল্প দেখলেও তাঁর কত ছবিই তো কলকাতায় শুট করা হয়েছে! পাশাপাশি, জয়া বচ্চন ধরা দিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে খুনসুটিতে- সাফ জানিয়েছেন- “কী বলব, এত গুণী সব সামনে বসে, নিজের কর্তাকে দিয়ে দিলাম ভার, যা বলার, উনি বলবেন!”

একই সঙ্গে ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদির সালাম-এ, মহেশ ভাটের একতার বার্তায় সমৃদ্ধ হয়েছে ২৪তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চ। খুব একটা ভুল বলেননি প্রসেনজিৎ, এ যেন সত্যিই বাংলায় বিশ্বের সমাবেশ! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও আপ্লুত তাঁর বক্তব্যে- এই দিনটা ফিরে আসে প্রতি বছর আর চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত যাঁরা, তাঁদের মনে তরঙ্গ এসে পড়ে, সত্যিকার উৎসব এখানেই!

তবে যে যাই বলুন না কেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সকলকে নিয়ে চলার বার্তাই দিয়েছেন! “আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে বাংলা ছবি হলিউডকেও হার মানাবে! বচ্চনজি বলছেন বটে আর আসতে পারবেন না, কিন্তু আসতে হবেই- পরের বার যে ২৫ বছরে পা দেবে উৎসব! আমার ভাই শাহরুখকেও আসতেই হবে, রাখি আর ভাইফোঁটার দিব্যি!” পাশাপাশি, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, পরের বারের প্রস্তুতি নেওয়া হোক এখন থেকেই, এই মর্মে বচ্চন-খানের পরামর্শও চেয়েছেন তিনি!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here