ওয়েবডেস্ক: কারণটা কি নেহাতই গান্ধী পরিবারের আপত্তি? লৌহমানবীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে দেশ, ও দিকে বলিউডেও বেশ অনেকগুলো বছর ধরে নারীকেন্দ্রিক ছবির জনপ্রিয়তা, তার পরেও কেন দেশের চিত্রনাট্যে অধরাই থেকে যাচ্ছে ইন্দিরা গান্ধীর জীবন?

 

View this post on Instagram

 

Wildlife was in a state of crisis in post-independence India . Massive stretches of forest were cleared to rehabilitate refugees, and tigers were poached ruthlessly. When the ‘Shikaar Safari Lobby’ protested against the ban on hunting tigers Indira said, “We do need foreign exchange but not at the cost of life and liberty of some of the most beautiful inhabitants of this continent.” She would later spearhead ‘Project Tiger’, the biggest conservation initiative of the time to save a species. Nine tiger reserves would be carved out in varied ecosystems — from the mangroves of the Sundarbans to the dry forests of Ranthambore, all set aside for the tiger. #IndiraGandhi #Indian #politicion #indiraspeaks #IAmCourage #Indiraisindia #indiaisindira #indianpm #strongestWomanPM #FirstWomanPM #ironlady

A post shared by Indira Gandhi (@indiraisindia) on

প্রসঙ্গটা উঠল গুলজারের ইন্দিরা গান্ধীর নামাঙ্কিত পুরস্কারপ্রাপ্তির কারণে! সম্প্রতি ২৭তম ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন পুরস্কার হাতে নিয়ে জানিয়েছেন বলিউডের এই বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব- “এমনকি এখনও পর্যন্ত কোনো দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বের উদাহরণ দিতে গেলে আমরা ইন্দিরা গান্ধীর নাম নিয়ে থাকি!” বেশ কথা! কিন্তু বলিউড তার চিত্রনাট্যে কেন ইন্দিরার নাম নিয়ে আসছে না?

অবশ্য সে দিক থেকে দেখলে, গুলজারেরই পরিচালিত যে ‘আঁধি’ ছবিকে ইন্দিরার জীবননির্ভর বলে দাবি করা হয়, সেখানেও কিন্তু সরাসরি প্রাক্তন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম আসেনি! সেখানে চরিত্রটির নাম রাখা হয়েছিল আরতি দেবী। গুলজার নিজেও বলেছেন নানা সাক্ষাৎকারে যে ‘আঁধি’ ইন্দিরার বায়োপিক নয়! কিন্তু সুচিত্রা সেনের চুলের রুপোলি রেখা, শাড়ি পরা, কথা বলার ধরন, চিত্রনাট্যে ধনী কন্যার ভূমিকায় অভিনয়, বাবার অমতে বিয়ে, পরে রাজনীতিতে সরে আসা- সবই ইন্দিরার জীবনের দিকে ইঙ্গিত দিতে থাকে!

১৯৭৫ সালের এই ছবির পরে কংগ্রেস মন্ত্রী অমৃত নাহাতার ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কিসসা কুর্সি কা’ ছবিটার নাম না নিলেই নয়! যে নাহাতা এমার্জেন্সি পিরিয়ডের তীব্র বিরোধী ছিলেন, তিনি প্রযোজিত এই ছবিতে অনেক দিক থেকেই ব্যঙ্গ করেছেন ইন্দিরা এবং ছেলে সঞ্জয়কে নিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই ছবিটি নিষিদ্ধ ঘোষণা হতে দেরি হয়নি, মামলা আদালত পর্যন্তও এগোয়!

আরও পড়ুন: এমারজেন্সির সময় ইন্দিরা গান্ধীর বিরোধিতা করে আকাশবাণীতে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন কিশোর কুমার

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Indu Sarkar (@indusarkarmovie) on

এর পরে যদি সাম্প্রতিক সময়ের কথা ধরতে হয়, তা হলে এমারজেন্সি পিরিয়ড নিয়ে মধুর ভান্ডারকরের ২০১৭ সালের ‘ইন্দু সরকার’ ছবির প্রসঙ্গও টেনে আনা যেতে পারে! কিন্তু সেখানেও ইন্দিরার উপস্থিতি নেহাতই ক্ষীণ, সে ছবি তো ওই সময়ে দেশের মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বলে! অর্থাৎ, ইন্দিরা ব্যক্তিমানবী শেষ পর্যন্ত বলিউডের চিত্রনাট্যে অনুপস্থিত! চূড়ান্ত গল্পের মতো জীবন তিনি কাটিয়ে গেলেও!

বলিউডের দাবি, এই সময়ে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্রে ইন্দিরা জীবনকে না ধরতে পারার একটা কারণ বিরোধী সরকার দলের রাজনীতি। মোদী সরকারের শাসনে ইন্দিরাকে নিয়ে ছবি হলে তা কংগ্রেসের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রয়াস- এই দাবি উঠবেই এবং নানা দিক থেকে নানা কারণ বের করে এনে তাকে মুক্তিও পেতে দেওয়া হবে না- এমনটাই ধারণা! ফলে, কেউ চলচ্চিত্রে ইন্দিরা জীবন নিয়ে লগ্নিতেও আগ্রহী নন! আর কংগ্রেস-মনস্ক কেউ যদি ছবি বানানোর নেপথ্যে থাকেন, তা হলে তো আর কথাই নেই- তখন পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ স্পষ্ট ভাবেই সামনে আসবে!

অবশ্য, ছবি না হলেও ইন্দিরা যে নিজের জীবন এবং রাজনৈতিক মত নিয়ে ওয়েব-সিরিজে ধরা দিতে পারেন, তেমন খবর কিন্তু প্রকাশ্যে এসেছে। সেই খবর বলছে, ওয়েব-সিরিজে ইন্দিরার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন বিদ্যা বালান! এ প্রসঙ্গে একদা জানিয়েছিলেন নায়িকা- তাঁরা কাজটা ইন্দিরার জীবনের প্রতিটি পর্ব ধরে ধরে করবেন এবং সেটা হবে সাগরিকা ঘোষের বই ‘ইন্দিরা: ইন্ডিয়া’জ মোস্ট পাওয়ারফুল প্রাইম মিনিস্টার’-এর ভিত্তিতে; অতএব তাঁদের কারও অনুমতি নেওয়ার প্রশ্ন নেই! দেখা যাক!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here