inner-story-of-raj-chakrabortymimi-chakraborty-and-subhashree-ganguly-triangle-love-and-power-equation

ওয়েবডেস্ক: পুজোর বাজার জমে ছিল সিনেমার লড়াইয়ে। প্রযোজক দেব বনাম ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের দ্বন্দ্ব জমিয়ে রেখেছিল টলিউড। পুজোয় রিলিজ হওয়া ৬টি ছবির মধ্যে কে কেমন ব্যবসা করছে, তা নিয়ে উত্তাপ এখনও কমেনি। কিন্তু পুজোকে ছাপিয়ে গেল বিজয়া। দুই নায়িকার দ্বন্দ্বে এতটা উত্তাল সাম্প্রতিক কালে হয়নি বাংলা চলচ্চিত্রজগৎ।

শুভশ্রী গাঙ্গুলি বনাম মিমি চক্রবর্তী। কেন্দ্রে এক পুরুষ, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ-মিমির সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট ছিল টলিউডে। সেই সম্পর্ক হঠাৎই ধাক্কা খায় ২০১৬ সালের পুজোর আগে। শোনা যায় ‘গ্যাংস্টার’ ছবির শুটিং-এ তুরস্কে গিয়ে সেখানকার লাইন প্রোডিউসারের ছেলে মিলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন মিমি। অন্য দিকে খবর ছড়ায়, শুভশ্রীর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন রাজ। জল গড়াতে থাকে। পরবর্তী কালে আবার জানা যায়, রাজ-শুভশ্রীর বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েও ভেস্তে গেছে। কারণ রাজের সঙ্গে মিটমাট হয়ে গেছে মিমির। সেই মতোই চলছিল, এ বার নতুন বিস্ফোরণ। যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল বাংলার সব চেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া দৈনিক সংবাদপত্রটি।

৩ অক্টোবর, ওই সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়, গোয়াতে ছুটি কাটাচ্ছেন রাজ ও মিমি। তার পরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে মিমি টুইট করেন তিনি কলকাতাতেই রয়েছেন। এমনকি এ-ও জানান, অষ্টমীর দিন তাঁর দাদু মারা যাওয়ায় তাঁর গোটা পরিবারে শোকের আবহ রয়েছে। অষ্টমীতে তিনি কলকাতার একটি পুজোমণ্ডপে উপস্থিত ছিলেন, সেই খবরের লিঙ্কও পোস্ট করেন তিনি।

 

পরিস্থিতি জটিলতর হয় ৪ অক্টোবর, বুধবার সকালে। যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল রাজ-মিমির গোয়া যাত্রার খবর, তারা ঘুর পথে জানিয়ে দেয়, খবরটি ভুল ছিল। খবরের সূত্র যে শুভশ্রীই ছিলেন, তা-ও কায়দা করে জানিয়ে দেওয়া হয় ওই রিপোর্টে। সেখানে মিমির বক্তব্যও ছাপা হয় যে, কেউ কোনো খবর দিলেই, তা যাচাই না করে ছাপানো ঠিক নয়। পাশাপাশি এ-ও বলা হয়, মিমি নন, রাজ আর শুভশ্রীই গোয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন।

অন্য দিকে, অপর একটি সংবাদপত্রে বুধবার বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দেন মিমি। সেখানে তিনি সরাসরি বলেন, শুভশ্রী নিজে রাজের সঙ্গে গোয়া গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন মিমি গেছেন। এর জন্য শুভশ্রীকে ‘ক্লাসলেস, আনএডুকেটেড, লুজার’ বলে তীব্র আক্রমণও করেন। কেরিয়ারে শুভশ্রী তাঁর থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছেন বলেই যে, এ ভাবে তাঁর বদনাম করার চেষ্টা করছেন, এমনও বলেন মিমি।

ভেতরের কথা

এ তো সবই গেল প্রকাশ্য আসা খবর। এ বার যাওয়া যাক ভেতরের কথায়। বাংলা সিনেমায় কয়েক বছর আগেও দুরন্ত জুটি ছিলেন দেব-শুভশ্রী। ব্যক্তিগত জীবনেও প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। ভেঙে যায় জুটিও। অন্য দিকে টলিউডের সব চেয়ে বড়ো প্রযোজক সংস্থার সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হয় শুভশ্রীর। ফলে কেরিয়ারে তিনি কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যান। এ রকম সময় রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শুভশ্রীর আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কারণ, বাংলা চলচ্চিত্রজগতে রাজের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু শোনা যায়, এটা চায়নি বাংলার সবচেয়ে বড়ো প্রযোজক সংস্থা। কারণ, তাঁদের সঙ্গে শুভশ্রীর সম্পর্ক ভালো নয়। তার ওপর শুভশ্রী ‌গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলে, তাঁদের ‘ঘরের মেয়ে’ মিমির চাপে পড়ার সম্ভাবনা। তা ছাড়া ইতিমধ্যে মিমিও টলিউডে নিজের জায়গাটা পোক্ত করে ফেলেছেন। অভিনয়ও ভালো করছেন।

পরবর্তীতে রাজ-শুভশ্রীর বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার খবর যখন বাজারে আসে, তখন রাজ সরাসরিই জানিয়েছিলেন, টলিউডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহল চাইছে না, তাঁদের সম্পর্কটা থাক।

এ সবের মধ্যে রয়েছে আরও একটি ফ্যাক্টর। তা হল, বাংলার সবচেয়ে বড়ো সংবাদহাউজের সঙ্গে সব চেয়ে বড়ো প্রযোজক সংস্থার সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। ওই সংস্থার কোনো ছবির প্রচার বা সমালোচনা ওই সংবাদ মাধ্যমে হয় না। ফলে শুভশ্রীর অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে এবং ওই প্রযোজকসংস্থার বিরোধী খবরকেই প্রাধান্য দিতে থাকে তারা। এ সবের মধ্যে রাজ-শুভশ্রী-মিমির ত্রিকোণের খবর কালের নিয়মে চাপা পড়ে যেতে থাকে। শোনা যায়, শুভশ্রী, সম্পর্ক এবং কেরিয়ার দু’দিকেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। আর রাজ মিমি-শুভশ্রীকে বাদ দিয়ে অন্য এক অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম করছেন।

তার পরই চমক। মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, রাজ্য সরকারের দুর্গাপুজো ভাসানের কার্নিভালে টলিউডের এই মুহূর্তের নায়িকাদের মধ্যে একমাত্র উপস্থিত ছিলেন শুভশ্রী। বার্তা পরিষ্কার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত তাঁর মাথার ওপর রয়েছে। পাশাপাশি কিছু দিন ধরে রাজ্য সরকারের একটি প্রকল্পের বিজ্ঞাপনেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে। তাঁর উত্তরেই হয়তো, বুধবার মিমি শুভশ্রীকে আক্রমণ করে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তাতে শাসকদলের সঙ্গে তাঁর নিজের ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন তৃণমূল নেতার নাম করেছেন।

আর এ সব কিছুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জুড়ে রয়েছেন, কলকাতার বিনোদন দুনিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক। যাঁরা কিছু দিন আগে অবধিও রাজ্যের সব চেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সংবাদপত্রে কর্মরত ছিলেন। টলিউডের সব চেয়ে বড়ো প্রযোজক সংস্থার সঙ্গেও যাঁদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে সহজেই তৈরি হতে পারে একটি দুরন্ত ক্রাইম থ্রিলার। কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখনও বাকি, তা হল, শুভশ্রী নিজের গোয়া যাওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করতেই পারতেন, কিন্তু মিমির নাম কেন বললেন। প্রতিশোধস্পৃহায় এমন কাঁচা কাজ করলে নিজের সমস্যা যে বাড়তে পারে, সেটা বোঝার মতো বুদ্ধি কি তাঁর নেই!!! এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর হয়তো ভবিষ্যতে তিনি দেবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here