‘মেঘনাদ বধ রহস্য’ দেখে দর্শক থ্রিলড হলে তবে এটি থ্রিলার হবে: অনীক দত্ত

0
1563

তাঁর প্রথম ছবি ভূতের ভবিষ্যৎ থেকেই বাংলা ছবির দর্শকদের নজরে থাকেন তিনি। এরপর কী করছেন, মনে প্রশ্ন থাকে সকলেরই। আশ্চর্য প্রদীপ পেরিয়ে আগামী ১৪ জুলাই মুক্তির অপেক্ষায় তাঁর পরবর্তী ছবি মেঘনাদ বধ রহস্য। তাঁর নতুন ছবি এবং ছবি তৈরি নিয়ে তাঁর নানা ভাবনা জানালেন রাকা রায়কে।

প্রশ্ন : ছবির নাম মেঘনাদ বধ রহস্য। ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে কাব্য মর্ফ করে রহস্য করা হচ্ছে। দর্শককে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে? এটি কি থ্রিলার?

উত্তর : ছবিটার সঙ্গে মেঘনাদ বধ কাব্যের একটা যোগাযোগ রয়েছে। যদিও মেঘনাদ বধ কাব্যের গল্পের ওপর ছবিটা নয়। তবে বইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্লু। অর্থাৎ বইটা ছবির রহস্যের একটা পার্ট। দর্শকদের এটা বোঝানোর জন্য এ রকম করেছি। কারণ এর থেকে ভালো উপায় আর ছিল না। যদিও কেউ এক জন এটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কারণ পোস্টারে নামের নীচেই আমার নাম রাখা হয়েছে। যদিও ছবিতে দেখানো হচ্ছে মেঘনাদ বধ কাব্য বইটি পড়া হচ্ছে। সেখানে বইয়ের ওপর মধুসূদন দত্তের নামই লেখা হয়েছে। শুধু পোস্টারের ক্ষেত্রে কাব্য মেটাফর করে রহস্য করা হয়েছে। যদিও এ সবে আমার কিছু যায় আসে না। কারণ ছবির গল্প মেঘনাদ বধ কাব্যের ওপর নয়। আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দর্শক এই ছবি দেখে থ্রিলড হলে তবে এটি থ্রিলার হবে।

প্রশ্ন : ছবির ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে নাটকের কিছু অংশ। ছবির সঙ্গে বিশেষ কী কোনো যোগাযোগ রয়েছে ওই নাটকের?

উত্তর : ছবিতে যাই রয়েছে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই রয়েছে। এখানে একক নাটক দেখানো হয়েছে। কেন দেখানো হচ্ছে সেটা জানার জন্য ছবিটা দেখতে হবে। তবে ছবির রহস্য উন্মোচনে এই নাটকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে একটি চরিত্র যে বাংলা জানে না, তাঁকে গল্প বলা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে রহস্যের সম্পর্ক রয়েছে। দর্শককে বোঝানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই দেখানো হয়েছে। আমি একটা কথা বলতে চাই, যাঁরা মেঘনাদ বধ কাব্য পড়েননি বা মাইকেলের নাম শোনেননি তাঁদের এই ছবিটা দেখে বুঝতে একটুও অসুবিধা হবে না।

এই জিএসটি হল পলিটিক্যাল গেম। সেটা যাঁরা নির্ধারণ করার তাঁরা করবেন। সাধারণ মানুষ তো সেভাবে কিছু করতে পারবেন না। তবে আমি শুনেছি কর কিছুটা কমেছে। তবে আমি খুবই সন্দিহান শহরে ক’টা এমন সিনেমা হল রয়েছে যার টিকিটের দাম একশো টাকার নীচে।

প্রশ্ন : আপনার আগের ছবিগুলোতে একটা করে পাঞ্চ লাইন থাকত। যে কারণে দর্শকরা বারবার ছবিটা দেখতে যেতেন। এ বারের ছবিতেও কি তা আছে?

উত্তর : হ্যাঁ। এতেও রয়েছে। তবে আগের ছবিতে যেমন ভূতের ভবিষ্যতে সব রকমের হিউমার ছিল, যেটা আমি ভাবতে পারিনি সবাই বুঝতে পারবেন। যদিও অনেকেই বুঝেছেন। এই ছবিতেও হিউমার রয়েছে। এই ছবিটি যেহেতু স্যাটায়ার নয়, তাই কম রয়েছে। তবে সংলাপের মজা রয়েছে যেটা দর্শক উপভোগ করবেন বলেই মনে করছি।

প্রশ্ন: আগের ছবির সাফল্যের পর অনেক বেশি দিন পর ফের ছবি করছেন। মাঝে এতটা সময় কেন? এই ছবি থেকে আপনার এক্সপেক্টেশন কী?

উত্তর: সময় নিয়ে ছবি করি না। একটু গ্যাপে ছবি করি। আসলে আমার অন্য কাজও থাকে আমি এখন সেই নিয়ে বলতে চাই না। আমার এক্সপেক্টেশন ছবি করার সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়। আমি যা ভাবি তা কতটা পর্দায় দেখাতে পারলাম সেটাই মাথায় থাকে। তবে আমি এটা বলব আমার আগের ছবিতে আমি যতটা ভেবেছি, যতখানি রিয়েলাইজ করাতে পেরেছি, তার থেকে মেঘনাদ বধ রহস্যে একটু বেশি দেখাতে পেরেছি বলে মনে করছি। তবে সব কিছুর শেষ সিদ্ধান্ত দর্শকের। বক্স অফিসে ভালো ফল না করলে পরের ছবিতে প্রযোজক পাওয়াটা মুশকিল হয়ে যায়।

‘আশ্চর্য প্রদীপ’ ছবির দৃশ্য

প্রশ্ন : বক্স অফিসের কথায় বলি এই জিএসটি কী প্রভাব ফেলবে বাংলা ছবিতে? আপনার ছবিও তো মুক্তি পাচ্ছে।

উত্তর: আসলে এই জিএসটি হল পলিটিক্যাল গেম। সেটা যাঁরা নির্ধারণ করার তাঁরা করবেন। সাধারণ মানুষ তো সেভাবে কিছু করতে পারবেন না। তবে আমি শুনেছি কর কিছুটা কমেছে। তবে আমি খুবই সন্দিহান শহরে ক’টা এমন সিনেমা হল রয়েছে যার টিকিটের দাম একশো টাকার নীচে। তবে এটাও বলি আমি সব কিছুতেই নিজেকে দিয়ে বিচার করি। আমি খুব বেশি ছবি দেখি না। তবে যেটা দেখি সেটা দাম নিয়ে ভাবি না। বক্স অফিস কী বলল সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। কারণ অনেক সময় ভালো ছবিও চলে না। তাই দাম বাড়ালেও ভালো ছবিটা আমি দেখে ফেলব। তবে হ্যাঁ, এটা তো ঠিক সিনেমা দেখা তো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নয়। সবারই এন্টারটেইনমেন্টের জন্য একটা বাজেট থাকে। সেটা কিছুটা হলেও একটু কমবে। যাঁরা সিনেমা ভালোবাসে তাঁরা আবার রেস্তোরাঁর খরচ বাঁচিয়ে সিনেমা দেখবেন।

‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির দৃশ্য

প্রশ্ন : আপনার ছবিতে আলোছায়ার ব্যবহার কিসের উপর নির্ভর করে?

উত্তর : ছবিতে চিত্র্যনাট্যের বাইরে কিছু হয় না। ছবিটা দেখতে ভালো লাগল বলেই আলো করে দেওয়া যায় না। ওভারঅল ছবিতে আলোর ব্যবহার কেমন হবে সেটা ছবির গল্প কী ‘ডিমান্ড’ করছে তার উপর নির্ভর করে। ফ্ল্যাট লাইট লাগলে ফ্ল্যাট লাইট ব্যবহার করা হবে। যেমন ভূতের ভবিষ্যতে অন্য অনেকগুলো পিরিয়ডকে ধরেছি। তাই পুরোনো দিনে যেমন ফ্ল্যাট লাইট ব্যবহার করা হত তেমনই করেছি। আবার সত্তর দশকে মৃণাল সেনের ছবিতে কোনো আলোর ব্যবহারই ছিল না। আসলে সব দিক খুঁটিয়ে দেখে তবেই আলোর ব্যবহার হয়। যেমন চিত্রগ্রাহক অভীক ও সম্পাদক অর্ঘ্যকমলের সঙ্গে বসে আলো ঠিক করেছি। এটাই তো সিনেমা তৈরির মজা। এই প্রসেসটাই আমার ভালো লাগে। তবে আমি মনে করি আমি সিনেমা তৈরি করতে মজা পেলে সেটা দর্শকের মধ্যে প্রসারিত হবেই। দর্শকদের ভালো লাগলেই তবেই সাফল্য পাবে ছবিটি।

প্রশ্ন: ছবিতে দু’টো চরিত্র দেখতে পাচ্ছি। সব্যসাচী চক্রবর্তী ও আবীর চট্টোপাধ্যায়। এঁদের নেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ?

উত্তর: চিত্রনাট্য করার সময় একটা শর্ট লিস্ট করা হয়। তাঁদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়। বেনুদার চরিত্রটার ক্ষেত্রে অবশ্য অপশন অনেক কম ছিল। কারণ চরিত্রটিতে দু’টি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হত। তবে এমন অভিনেতাদের নিয়েছি যাঁদের দিয়ে বিষয়টা করানো যায়। সব কিছুর পর এটাই বলব দর্শকদের পছন্দের ওপরই ছবিটির সাফল্য নির্ভর করবে।

ছবি: অনীক দত্তর ফেসবুক পেজের সৌজন্যে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here