ওয়েবডেস্ক: তা হলে কি তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হল? না কি এ নিছকই অসুখের দিনগুলোর কথা সবার সঙ্গে বিশদে ভাগ করে নেওয়া?

“আমার অভিধানে একটা নতুন শব্দ যোগ হয়েছে – নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যানসার। এটার কথা আগে আমি জানতামই না। বিরল অসুখ, ডাক্তাররাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন আমায় নিয়ে। মনে হচ্ছে, একটা রান অ্যান্ড এররের মাঝে রয়েছি”, লিখছেন নায়ক।

irrfan khan

বক্তব্যের প্রথম দিকের এই হতাশা পরের পর্বে আরও গাঢ় হয়েছে। “আমি একটা দ্রুত গতির ট্রেনে সওয়ার ছিলাম। মনে অনেক স্বপ্ন ছিল। আচমকা টিকিট চেকার এসে আমায় মনে করিয়ে দিলেন- স্টেশন এসে গিয়েছে। আমি বললাম, কই না তো, আমার তো এখানে নেমে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাকে নামিয়ে দেওয়া হল”, ইরফানের এই বক্তব্য চিন্তা বাড়াবে!

“দেখতে দেখতে সব কিছু ভরে গেল গণ্ডগোলে। তার মাঝে হাসপাতালে যাওয়ার সময়ে আমি ছেলেকে বিড়বিড় করে একটাই কথা বলতাম, এই সব কিছুর সঙ্গে আমি তখনই লড়াই করতে পারব, যখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব। আর কী আশ্চর্য, আমার হাসপাতালের উলটো দিকেই লর্ডস স্টেডিয়াম, ছোটোবেলা থেকেই যা আমার স্বপ্নের জায়গা। তাই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ও দিকে তাকিয়ে মনে হত, জীবন আর মৃত্যুর এই যেন বিভাজনরেখা”, লিখেছেন ইরফান।

irrfan khan

“তার পর শুরু হল অসহ্য যন্ত্রণার পর্ব। সেই সময়ে কোনো কিছুই ঠিক নেই, কোনো সান্ত্বনাও নেই। কেবল রয়েছে যন্ত্রণা। যা ঈশ্বরের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, অন্য কোনো দিকে মনকে যেতেই দেয় না। আর আমি বুঝলাম, জীবনে একমাত্র নির্দিষ্ট বলে যদি কিছু থেকে থাকে, তা হলে সেটা অনিশ্চয়তা। সমুদ্রের মাঝে ভেসে থাকা একটা বোতলের ছিপির মতোই জীবনটাকে চিনলাম”, জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here