ওয়েবডেস্ক: কানের চলচ্চিত্র উৎসবে এত দিন পর্যন্ত বহু বিতর্কই তৈরি হয়েছে। ছবির বাছাই, লাল গালিচায় পা রাখা অভ্যাগতজদের সাজ-পোশাক- বিতর্কের কমতি কোনো দিনই ছিল না। তবে প্রথমবার সেই উৎসবে যোগ দিয়েই বিতর্কের যে নজির গড়লেন কঙ্গনা রানাউত আর জিম সর্ভ, তা যেমন কুরুচিকর, তেমনই ভয়াবহও!

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে কঙ্গনা আর জিমের। তাতে দেখা যাচ্ছে সম্ভবত কোনো একটি পার্টিতে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। সেখানে একটা জোক বলতে শোনা যাচ্ছে জিমকে। যার শেষ অংশটা এ রকম- “মদ খাওয়ার চেয়ে ১২টা যৌনকর্মী আমায় ধর্ষণ করলে বেশি খুশি হব! সে কথা শুনে পঞ্জাবি বলে উঠল, আরে আমিও তো, কিন্তু এই বিকল্পটা আমার জানা ছিল না!” জিমের জোক এই জায়গায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে হাসির রোল উঠেছে, কঙ্গনাকেও দেখা যাচ্ছে হাসতে হাসতে প্রায় লুটিয়ে পড়তে! উপরের ভিডিওয় দেখে নিতে পারেন ঘটনাটা।

ভিডিওটা ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ধর্ষণ যেখানে দেশে এক আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে, এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কী করে বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা- সেটাই ক্ষোভের মূল কারণ। পাশাপাশি এসেছে দুটি ক্ষেত্রে অপমান এবং জাতিবিদ্বেষের বিষয়টাও। জানতে চাইছে সোশ্যাল মিডিয়া- মদ না খাওয়ার বিকল্প হিসাবে কী করে ধর্ষণকে তুলে ধরতে পারেন জিম? পাশাপাশি ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে প্রশ্ন- তাঁর এই রসিকতা কি যৌনকর্মীদের ধর্ষণকারিণী হিসাবে তকমা দিচ্ছে না?

প্রবল ক্ষোভের মুখে অবশ্য কৈফিয়ত দিচ্ছেন জিম। জানিয়েছেন, “আমি বুঝতে পারছি আপনাদের ক্ষোভের কারণ। কিন্তু সভ্যতার শুরু থেকেই ধর্ষণ এ আতঙ্কের বিষয়, শুধু বর্তমানে নয়। আমি বিষয়টিকে এই ভাবেই দেখি। আমি যে জোকটা বলেছি, তা এক ধর্মগুরুকে নিয়ে যিনি কি না মদ, যৌনব্যবসা এবং ধর্ষণ তিনটেকেই এক খাতে বইয়ে দিয়েছেন। সেই বক্তব্যে সমর্থন জানিয়েই পঞ্জাবি নিজের মতামত জাহির করেছে। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এটাকে ধর্ষণের সমর্থক যুক্তি হিসাবে মনে করি না!”

কঙ্গনা অবশ্য এখনও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। দেখা যাক, ভবিষ্যতে তিনি কিছু বলেন কি না!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন