ওয়েবডেস্ক: “অসুস্থ বোধ করলেও তিনি কখনোই শুটিংয়ে অনুপস্থিত থাকেননি। শরীর খারাপ নিয়েই কাজ করে গিয়েছেন!”

‘তারক মেহতা কা উল্টা চশমা’ ধারাবাহিকের ড. হাতির চরিত্রাভিনেতা কবি কুমার আজাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে ৯ জুলাই এ কথা জানিয়েছিলেন শুটিং দলের এক সদস্য। উপরের ভিডিওটা দেখুন। এটাই ড. হাতির চরিত্রে কবির শেষ শট! ভিতরে ভিতরে তিনি যে কতটা অসুস্থ, সে কথা শট দেওয়ার সময়ে বুঝতেই দেননি কাউকে!

kavi kumar azad

কিন্তু সেই অসুস্থতা যে জুড়ে ছিল দীর্ঘ ৮ বছর, সে কথা এ বার জানালেন প্রয়াত অভিনেতার চিকিৎসক মাফি লকড়াওয়ালা। বলতে ছাড়লেন না তিনি, বিনোদুনিয়ার নিষ্ঠুরতাই কবিকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে।

kavi kumar azad

খবর বলছে, ২০০৯ সালে প্রথম এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের কাজ পান কবি। তখন তাঁর ওজন ছিল ২৬৫ কেজি। “সেটেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল কবি। শুনেছিলাম- সংজ্ঞাহীন হওয়ার আগে বলতে পেরেছিল- আমায় ড. মাফির কাছে নিয়ে চলো। তাই ওকে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। আমি তখনই ওর বাড়ির লোকজনকে বেরিয়াট্রিক সার্জারির পরামর্শ দিই। অস্ত্রোপচার করে ওজন না কমালে তো ও বাঁচতই না! এবং সেই সময়টায় আমরা এই ওজনের জন্যই ওকে ভেন্টিলেটরেও রাখতে পারিনি- ও তো আটকে যাবে, ভালো করে শ্বাস নিতেই পারবে না! যাই হোক, সে যাত্রা কবি বেঁচে যায়, হাসপাতাল থেকে ১৪০ কেজি ওজন নিয়ে ফিরে আসে”, বলছেন ড. মাফি।

kavi kumar azad

তার পরেই মাফির বক্তব্যে ধরা দিয়েছে এক নিদারুণ সত্য! “১৪০ কেজি ওজনটাও নিরাপদ কিছু নয়। তাই আমি ফের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিই যাতে ওজনটা ৯০ কেজির ঘরে নেমে আসে। তার পরে সেটা ধরে রাখতে পারলে কবি সুস্থ হয়ে যেত। ওর বাড়ির লোকেও রাজি ছিল। কিন্তু কবি নিজেই কারও কোনো কথা শুনল না। আমায় বলেছিল- মোটা বলেই ওকে ধারাবাহিকে কাজ দেওয়া হয়। ওজনটাই যদি না থাকে, তবে তো না খেতে পেয়ে মরতে হবে! শুধু তা-ই নয়, সবাইকে লুকিয়ে কবি নিজের ওজন বাড়াতেও থাকে। মৃত্যুর সময়ে ওর ওজন ছিল ১৬০ কেজি! ধারাবাহিকের চাপ যদি না থাকত, তা হলে কবি ওজন কমিয়ে অনেক দিন বেঁচে থাকত”, দাবি চিকিৎসকের!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here