নায়ক নওয়াজের ‘মান্টো’র প্রচারে কান যাচ্ছেন পরিচালক নন্দিতা

0
171

মুম্বই: কানে এই প্রথম যাবেন না তিনি। নানা উপলক্ষ্যে এর আগে বেশ কয়েকবার গিয়েছেন দুনিয়ার অন্যতম সম্মাননীয় এই চলচ্চিত্র উৎসবে। তার মধ্যে একবার তো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হয়ে। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে অভিনেত্রী-পরিচালক নন্দিতা দাস কানে হাজির থাকবেন সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে। তাঁর পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘মান্টো’-র প্রচারে। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে তৈরি তাঁর প্রথম ছবি ‘ফিরাক’-এর পর ফের পরিচালক নন্দিতাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।

পরিচালককে দেখতে হয় সাদা চোখের সীমানা পার করে, চর্মচক্ষে দেখা যায় অভিনেতাদের। এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। দেশ জুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অসহিষ্ণুতা নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, সেই সময় সাদাত হোসেন মান্টোর যন্ত্রণা ও ক্ষোভ অভিনয় দিয়ে কেমন তুলে ধরলেন নওয়াজ, নজর থাকবেন সেদিকেও। মান্টো সেই লেখক, সাহিত্যে অশ্লীলতার অভিযোগে ৬ বার আদালতে যেতে হয়েছিল যাকে। ৩ বার ব্রিটিশ ভারতে, ৩ বার দেশেভাগের পর পাকিস্তানে। বস্তুত, অশ্লীলতা, অধার্মিকতা ও নৈতিকতার নানা বিতর্ক এই সাহিত্যিককে তাড়া করেছে সারাটা জীবন। 


তবে এই ছবি নেহাতই মান্টোর জীবনী নয়। বরং, র‍্যাডিক্যাল চিন্তার প্রেক্ষিতে দেশে ও সমাজে শিল্পীর স্বাধীনতা এই ছবির উপজীব্য। মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে লড়তে লড়তে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন মান্টো। দেশ ভাগ তিনি মানতে পারেননি। র‍্যাডক্লিফ লাইনের মিথ্যা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে নিরন্তর কলম চালিয়েছেন। সেই মান্টোকেই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।


সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভে ছবির একটি টুকরো প্রদর্শিত হল। নাম, ইন ডিফেন্স অফ ফ্রিডম। ছবির সেই অংশে মান্টো একটি শ্রেণি কক্ষে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির বিরোধিতা করছেন। সওয়াল করছেন মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে।

দুটি আশা ভারতীয় দর্শকদের। কানে দেখানো হোক ‘মান্টো’। আর একটি হল, বিনা সেন্সরশিপে এ দেশে মুক্তি পাক ছবিটি। আজকের ভারতে দ্বিতীয় আশাটি পূর্ণ হওয়া কি একটু বেশি কঠিন?  

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here